Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যান্সার রোগীদের জন্য দীর্ঘ ২ বছরের সাধনার চুল দান করলেন আইনজীবী নীলাঞ্জন দাস

এগরায় ক্যান্সার রোগীদের জন্য দীর্ঘ ২ বছরের সাধনার চুল দান করলেন আইনজীবী নীলাঞ্জন দাস
ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে সাধারণত মহিলাদেরই চুল দান করতে বেশি দেখা যায়। তবে এবার সেই চেনা ছক ভেঙে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন এক প…

 




এগরায় ক্যান্সার রোগীদের জন্য দীর্ঘ ২ বছরের সাধনার চুল দান করলেন আইনজীবী নীলাঞ্জন দাস


ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে সাধারণত মহিলাদেরই চুল দান করতে বেশি দেখা যায়। তবে এবার সেই চেনা ছক ভেঙে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন এক পুরুষ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী নীলাঞ্জন দাস আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পরচুলা (উইগ) তৈরির জন্য নিজের মাথার চুল দান করলেন। ​আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে যেভাবে ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ থাবা বসাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম অঙ্গ হলো কেমোথেরাপির প্রয়োগ, যার অন্যতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাথা থেকে সমস্ত চুল ঝরে যাওয়া। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই চুল পড়ে যাওয়া মানসিকভাবে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও যন্ত্রণাদায়ক বিষয়। এই বাস্তবতাকে অনুভব করেই মহতি এই সিদ্ধান্ত নেন নীলাঞ্জনবাবু। ​দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর সাধনা ও পরম যত্নে নিজের চুল বড় করেছিলেন তিনি, যাতে তা কোনো ক্যান্সার আক্রান্ত বোনের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। আজ 'উই কেয়ার ফাউন্ডেশন'  নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় তিনি তাঁর সেই চুল দান করেন।

​"নারীদের মুখে হাসি ফোটাতেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস"। ​নিজের এই অনন্য উদ্যোগ প্রসঙ্গে আইনজীবী নীলাঞ্জন দাস বলেন,

​"বর্তমান পৃথিবীতে যেভাবে মানুষ ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে, তা সত্যিই খুব চিন্তার বিষয়। কেমোথেরাপির কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত বোন ও মায়েদের চুল ঝরে যায়। তাঁদের স্বার্থে এবং তাঁদের মুখে একটু হাসি ফোটাতেই আমি নিজের চুল দান করার সিদ্ধান্ত নিই। বিগত প্রায় দীর্ঘ ২ বছরের প্রচেষ্টায় অত্যন্ত যত্নসহকারে চুল বড়ো করেছিলাম। আজ উই কেয়ার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত তৃপ্ত। ​'উই কেয়ার ফাউন্ডেশন'-এর হাত ধরে নীলাঞ্জনবাবুর এই মানবিক পদক্ষেপ সমাজের বুকে এক নতুন বার্তা দিল। পুরুষদের চুল বড় রাখার সামাজিক ট্যাবু ভেঙে যেভাবে তিনি আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কাঁথি মহকুমা আদালতের এই বিশিষ্ট আইনজীবীর এমন উদ্যোগ শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই নয়, সমগ্র রাজ্য জুড়েই প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শহরবাসীর আশা, নীলাঞ্জনবাবুর এই মানবিক রূপ দেখে আগামী দিনে আরও অনেকেই ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত হবেন। পাশাপাশি, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এমন উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।

No comments