পটাশপুরে দুর্গাপুজোর চেক বিলি, বৈদিক রীতিনীতি মেনে পুজোর বার্তা বিধায়ক তপন মাইতির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা, পুজোর পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাংলার সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে তুলে ধরার বার্তা দিলেন পটাশপুরের বিধা…
পটাশপুরে দুর্গাপুজোর চেক বিলি, বৈদিক রীতিনীতি মেনে পুজোর বার্তা বিধায়ক তপন মাইতির
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা, পুজোর পরিবেশ বজায় রাখা এবং বাংলার সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে তুলে ধরার বার্তা দিলেন পটাশপুরের বিধায়ক তপন মাইতি। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর থানায় দুর্গাপুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একাধিক বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
বিধায়ক তপন মাইতি জানান, বৈদিক রীতিনীতি ও পরম্পরা মেনেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে হবে। পুজোকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অনৈতিক কাজকর্ম, বিশৃঙ্খলা কিংবা অসংযত আচরণ বরদাস্ত করা উচিত নয়। পাশাপাশি, সরকারি নির্দেশিকা মেনে পুজো পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
লাউডস্পিকার ও ডিজে ব্যবহারের প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থানের কথা জানান বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, পুজোকে কেন্দ্র করে মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব কিংবা অশান্তি কোনওভাবেই কাম্য নয়। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোর মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেবী দুর্গার আরাধনা। উৎসবের নামে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে পুজো উদ্যোক্তাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উপরেও জোর দেন তপন মাইতি। গত ৪ তারিখের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ডিজে সংস্কৃতি নিয়ে কটাক্ষও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে পুজোর আয়োজন ও উৎসবের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবছর পটাশপুর বিধানসভা এলাকায় মোট ১২২টি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার পুজোর সংখ্যা বেড়েছে ২০টি। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫টি পুজো কমিটিকে এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তপন মাইতির আরও দাবি, পুজোর অনুমতি পাওয়ার জন্য কোনও পুজো কমিটিকে আদালতে যেতে হয়নি। তাঁর মতে, এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই পুজোর প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে।
এদিনের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এগরার সিআই পার্থ বিশ্বাস, পটাশপুর থানার ওসি কর্তার সিং, বিশিষ্ট সমাজসেবী সুকান্ত প্রধান ও স্বপন দাস এবং সুতপা চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদানের চেক হাতে পেয়ে খুশি পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। এই অনুদান পুজোর আয়োজনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।
সব মিলিয়ে, পটাশপুরে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারি অনুদান প্রদান এবং পুজোর পরিবেশ ও নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তাই উঠে এলো এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে।
No comments