নব মহাকরণে শ্রমমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হোসিয়ারী শিল্পের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকসংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক: রাজ্যের শ্রম দপ্তরের আহ্বানে আজ নবমহাকরণে হোসিয়ারী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির মালিক-মেকার মালিক-শ্রমিক ইউন…
নব মহাকরণে শ্রমমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হোসিয়ারী শিল্পের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক
সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক: রাজ্যের শ্রম দপ্তরের আহ্বানে আজ নবমহাকরণে হোসিয়ারী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির মালিক-মেকার মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী,শ্রম আধিকারিকেরা সহ বিভিন্ন মালিকপক্ষ,মেকার মালিকদের প্রতিনিধি ও অপারেটিভ সমস্ত ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিপাক্ষিক ওই বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং স্পষ্টরূপে জানিয়ে দেন-শ্রমিকদের সরকার ঘোষিত ন্যূনতম বেতন সুনিশ্চিত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে অন্যান্য ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ আই ইউ টি ইউ সি অনুমোদিত ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারী মজদুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শান্তি ঘোষ সুনির্দিষ্টভাবে বলেন- ২০২৩,২৪,২৫,২৬ সালের বর্ধিত বেতন আজও মালিকরা শ্রমিকদের দেননি। দ্বিতীয়তঃ কাজের বোঝা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলেছে। ন্যূনতম বেতন থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করতে মেকাররা তাদের কাজ গ্রামীণ শ্রমিকদের এবং পারিবারিক মানুষদের দিয়ে করাচ্ছে, ফলে তারা ন্যূনতম বেতন এবং ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের সুবিধা থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়,হোসিয়ারী শিল্প কার্যত অসংগঠিত শিল্পক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ইউনিয়নের সহকারী সভাপতি মধুসূদন বেরা শ্রমিকদের নানা বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে মালিকদের ঘৃন্য চক্রান্তকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার দাবী জানান।
হোসিয়ারী শিল্পের মালিকদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় যে, তারা ভবিষ্যনীধি প্রকল্পের সুবিধা সহ ন্যূনতম বেতন মেকার মালিকদের দিয়ে থাকেন। ঐ পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী মহোদয়কে উদ্দেশ্য করে শান্তিবাবু বলেন,কোম্পানি মালিক এবং মেকার মালিক একে অপরকে দোষারোপ করছে। তাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এবং ন্যূনতম বেতনের সাথে কাজের পরিমাণের রেট যথাযথ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আলোচনা সাপেক্ষে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রতিটি মেকারকে পেমেন্ট করতে হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এবং কত কাজের জন্য কত মজুরী দিলেন তা নির্দিষ্ট করে বলতে হবে। তিনি সমস্ত ইউনিয়ন ও মালিকপক্ষকে অনুরোধ করেন আগামী চার দিনের মধ্যে কাজের কত মজুরী তারা পাচ্ছেন এবং কোন কোন এলাকায় পারিবারিক শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে, সেখানে তারা মজুরী বাবদ কত পাচ্ছেন তার তথ্য ভিত্তিক রিপোর্ট দপ্তরে দিন। পরিশেষে শ্রম আধিকারিক বলেন ,আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পুনরায় মিটিং ডাকা হবে এবং সেই মিটিং-এ পরিবর্তিত নূন্যতম বেতন ও বেতন মিটানোর কাঠামো সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করা হবে। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারী মজদুর ইউনিয়নের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নব শাসমল,কার্যকরী কমিটির সদস্য অলক অধিকারী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,গত ২৮ শে জুলাই ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারী মজদুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মন্ত্রী মহোদয়কে ডেপুটেশনের মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয় সহ শ্রমিকদের অন্যান্য দাবীগুলি তুলে ধরা হলে ওই পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় দপ্তর আজ এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকেন। আরো উল্লেখ্য,হোসিয়ারী শ্রমিকরা বর্তমানে ২০২২ সালের ন্যূনতম মজুরী মাসিক ১০,১৬৩ টাকা হিসেবে প্রত্যহ ৩৯০ টাকা মজুরী পাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসের সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরী কার্যকর হলে মাসিক ১১,৬১৫ টাকা হিসেবে প্রত্যহ ৪৪৬ টাকা মজুরী পাবে। অর্থাৎ শ্রমিকরা এখন প্রতি মাসে ১৪৫২ টাকা কম পাচ্ছে। যা প্রতিদিনে প্রায় ৫৫.৮৪ টাকা কম।

No comments