নদী ও খাল সংস্কারের ক্ষেত্রে "নো কস্ট" পদ্ধতি পাল্টানোর দাবীতে রাজ্যের সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রীর নিকট ডেপুটেশন সংবাদদাতা-নারায়ন চন্দ্র নায়ক :'নো কস্ট' পদ্ধতিতে জেলার সমস্ত নদী ও নিকাশী খাল সংস্কারের কাজ চলছে…
নদী ও খাল সংস্কারের ক্ষেত্রে "নো কস্ট" পদ্ধতি পাল্টানোর দাবীতে রাজ্যের সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রীর নিকট ডেপুটেশন
সংবাদদাতা-নারায়ন চন্দ্র নায়ক :'নো কস্ট' পদ্ধতিতে জেলার সমস্ত নদী ও নিকাশী খাল সংস্কারের কাজ চলছে। বাস্তবে ঠিকাদারের রেট অনুসারে মাটি বিক্রির যখন খরিদ্দার থাকে,তখনই ঠিকাদার খাল সংস্কারের কাজে হাত দেয়। ফলস্বরূপ সেচ দপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে চার বছর আগে সংস্কারের কাজ শুরু হওয়া তমলুক মহকুমার ১৬ কিমি দীর্ঘ গঙ্গাখালি খাল সংস্কারের কাজ এখনো খানিক অংশ বাকী। বাসিন্দাদের দাবী চার বছর পূর্বে যেদিক থেকে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল,সেইদিকের অংশ আবার মজে গিয়েছে। কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ সোয়াদিঘী খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। এখনো অর্ধেক অংশ সংস্কার হয়নি। যে অর্ধেক অংশে কাজ শুরু হয়েছে, সেই অংশও পূর্ণাঙ্গ রূপে কাজ সম্পন্ন হয়নি। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ কেলেঘাই নদীও সংস্কার শুরু হয়েছিল গত বছর একই পদ্ধতিতে। সেই নদী সংস্কারেরও একই রকম অবস্থা। এক বছরে এক কিলোমিটার অংশও সংস্কার হয়নি। এই রকমই অবস্থা নো কস্ট পদ্ধতিতে জেলার বিভিন্ন নদী ও খাল সংস্কারের কাজের। এই অবস্থায় নদী ও খাল সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলল-পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আজ রাজ্যের নবনিযুক্ত সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের নিকট ডেপুটেশনের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি দেয়।
কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করে বলেন, পূর্বতন সরকার অর্থ ব্যয় করে ঠিকাদারদের দিয়ে খাল সংস্কারের পর ঠিকাদার ও শাসকদলের একটা অংশ ওই সংস্কারের মাটি বিক্রির সাথে যুক্ত থাকে বলে, ২০২১ সালে নো কস্ট পদ্ধতিতে নদী ও খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর থেকে এভাবেই কাজ চলছে বলে বাস্তবিকপক্ষে কোন নদী ও খাল ঠিকমতোভাবে পূর্ণ সংস্কার হচ্ছে না। যদিও এই পদ্ধতিতে বেআইনিভাবে মাটি বিক্রি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয় নি। এই অবস্থায় আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্যের নবনিযুক্ত সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ দাসের সাথে সাক্ষাৎ করে ওই পদ্ধতি পাল্টানোর দাবী জানান।
মন্ত্রী জানান নো কস্ট পদ্ধতিতেই আমরা নদী ও খাল সংস্কারের কাজ করব। তবে সংস্কারের পর মাটি বিক্রির বিষয়ে আমরা কিছু নিয়ম পরিবর্তন করতে চলেছি ,যাতে দ্রুততার সাথে সংস্কার কাজ করা যায়। মন্ত্রী অন্যান্য দাবীগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
No comments