বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মেচেদা এলাকার ভয়াবহ দূষণ রোধে সচেতনতার বার্তা দিয়ে পদযাত্রা,বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিলি এবং সাফাই অভিযান সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক:আজ ৫ ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মেচেদা এলাকার ভয়াবহ দূষণ রোধে সচেত…
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মেচেদা এলাকার ভয়াবহ দূষণ রোধে সচেতনতার বার্তা দিয়ে পদযাত্রা,বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিলি এবং সাফাই অভিযান
সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক:আজ ৫ ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মেচেদা এলাকার ভয়াবহ দূষণ রোধে সচেতনতার বার্তা দিয়ে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিডিও এবং শান্তিপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হোল এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রবেশদ্বার মেচেদা কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আজকের কর্মসূচি। এরপর পরিবেশ সচেতনতার নানান বার্তা সম্বলিত পোস্টার ও ফ্লেক্স নিয়ে শুরু হয় পদযাত্রা। স্লোগান মুখরিত হয়ে পদযাত্রীরা কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় সামিল হন। বক্তব্য রাখেন শান্তিপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রীমতি করুণা সী ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ কমিটির মুখপাত্র নারায়ণ চন্দ্র নায়ক। ওই গেট সংশ্লিষ্ট বিদ্যাসাগর মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন স্থানে চারা গাছ লাগান প্রধান মহোদয়া। আরো পরে মেচেদা চিলড্রেন পার্ক সংলগ্ন পিচ রাস্তা থেকে বিদ্যাসাগর লাইব্রেরী পর্যন্ত শাখা রাস্তাটির দুদিকে জমে থাকা জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়। সাফাই অভিযানের সময় উপস্থিত হন শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিডিও সুজিৎ কুমার বিশ্বাস। উনি স্থানীয় প্রধানের উপস্থিতিতে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের নিয়ে আবর্জনায় ভর্তি মেছেদা-বাঁপুর খালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। পরে দূষণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দেয় ফলের চারা পদযাত্রীদের হাতে তুলে দেন।
নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন,মেচেদা এলাকায় কোন ভ্যাট না থাকায় মাছ ও পান বাজার সহ দোকান ও বাড়ীর সমস্ত রকম আবর্জনা কিছু বাসিন্দারা মেচেদা-বাঁপুর খাল ও জাতীয় সড়ক পার্শ্ববর্তী স্থানে ফেলাচ্ছেন। যার ফলে এলাকায় ব্যাপক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। স্থানীয় জনগনের দাবীকে মান্যতা দিয়ে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লক কর্তৃপক্ষ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে সলিড অ্যান্ড লিকিইউড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট(SLWM) স্কীম রূপায়নের কাজ গত কয়েক বছর পূর্ব থেকে শুরু করলেও সেই কাজের গতি খুবই শ্লথ।
নারায়নবাবু জানান,ভয়াবহ এই পরিবেশ দূষণ রোধে এলাকাতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ,দেনান ও মেচেদা-বাপুর খালে ছাইমিশ্রিত দূষিত জল ফেলানো বন্ধ এবং নিয়মিত পরিষ্কার,তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অ্যাশপন্ড সংলগ্ন স্থানে ছাই ওড়া বন্ধে দিনে একাধিকবার জল ছড়ানোর ব্যবস্থা,ছাই পরিবহনের গাড়ীগুলি উপযুক্ত ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ছাই পরিবহন,মেচেদা শহর এলাকার উন্নয়নে একটি জলাধার ও ভ্যাট নির্মাণ,অতি দ্রুত বর্জ্য থেকে সার তৈরির প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ প্রভৃতি দাবীতে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন চলছে। তমলুক মহকুমার পূর্বতন এসডিও শুভ্রজ্যোতি ঘোষের প্রচেষ্টায় মেচেদা এলাকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সদর্থক কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হলেও আজও তা কার্যকর হয়নি। বিডিও জানান,সামগ্রিকভাবে সমগ্র মেছেদা এলাকার পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আগামী ১১ই জুন শান্তিপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে সেচ-পূর্ত-কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-কোলাঘাট থানা-এলাকার ক্লাব/লাইব্রেরী-বাজার কমিটি ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
No comments