কৃষিজমি লুটের অভিযোগে তোলপাড় পটাশপুর, অভিযুক্ত বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী কৃষিজমি লুটের অভিযোগে তোলপাড় পটাশপুর! বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীর বিরুদ্ধে জেসিবি দিয়ে মাটি কেটে পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা…
কৃষিজমি লুটের অভিযোগে তোলপাড় পটাশপুর, অভিযুক্ত বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী
কৃষিজমি লুটের অভিযোগে তোলপাড় পটাশপুর! বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীর বিরুদ্ধে জেসিবি দিয়ে মাটি কেটে পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর থানার অন্তর্গত মধ্যখাড় গ্রামে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, দিনের পর দিন কৃষকদের চাষের জমিতে জেসিবি মেশিন নামিয়ে ট্রাক্টর ও ইঞ্জিনভ্যানে করে মাটি তুলে বিভিন্ন এলাকায় মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের তির মধ্যখাড় গ্রামের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী রাধাগোবিন্দ বেরার দিকে। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, প্রকাশ্যেই এই মাটি কাটার কাজ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রাজনৈতিক প্রভাবের জোরেই কি এই অবৈধ ব্যবসা চলছে?
অভিযোগকারীদের দাবি, এর আগেও রাধাগোবিন্দ বেরার বিরুদ্ধে বালি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, কৃষকদের রক্ত-ঘামে গড়া উর্বর জমি থেকে নির্বিচারে মাটি তুলে নেওয়ায় চাষাবাদের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে। একদিকে কৃষকরা ফসল ফলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে সেই কৃষিজমিই পরিণত হচ্ছে অবৈধ মাটি ব্যবসার উৎসে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসন কি সব দেখেও নীরব? কৃষিজমি ধ্বংস করে চলা এই অভিযোগের তদন্ত হবে কবে? অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি? নাকি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চলতেই থাকবে এই অবৈধ মাটি কারবার?
এলাকাবাসীদের একাংশের আরও অভিযোগ, কয়েক মাস আগেও রাধাগোবিন্দ বেরার বিরুদ্ধে অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ধমক-চমক দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে রাধাগোবিন্দ বেরার বিরুদ্ধে।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী বিজেপির নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যা হওয়ায় এলাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি। মধ্যখাড়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নজর প্রশাসনের দিকে—অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে তারা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই দেখার।
No comments