Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্ষমা না করার বোঝা: আসলে কষ্ট পাচ্ছে কে? —আশিস কুমার পণ্ডা

ক্ষমা না করার বোঝা: আসলে কষ্ট পাচ্ছে কে? —আশিস কুমার পণ্ডা
একদিন একজন শিক্ষক ক্লাসরুমে এক বস্তা আলু নিয়ে ঢুকলেন। ছাত্ররা ভেবেছিল অন্যদিনের মতো সাধারণ কোনো ক্লাস হবে, কিন্তু যা হলো, তা তারা কোনোদিন ভুলবে না।
শিক্ষক বললেন, "তোমর…

 




ক্ষমা না করার বোঝা: আসলে কষ্ট পাচ্ছে কে? —আশিস কুমার পণ্ডা


একদিন একজন শিক্ষক ক্লাসরুমে এক বস্তা আলু নিয়ে ঢুকলেন। ছাত্ররা ভেবেছিল অন্যদিনের মতো সাধারণ কোনো ক্লাস হবে, কিন্তু যা হলো, তা তারা কোনোদিন ভুলবে না।


শিক্ষক বললেন, "তোমরা যাদের ঘৃণা করো—যারা তোমাদের কষ্ট দিয়েছে বা রাগিয়েছে—তাদের একটি তালিকা তৈরি করো।"


সারা ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কলম চললো। কারো তালিকায় ছিল একটি নাম, আবার কেউ অর্ধেক পাতা ভরে ফেলল।


এরপর শিক্ষক বললেন, "তালিকায় থাকা প্রতিটি নামের জন্য একটি করে আলু নাও। আলুর ওপর সেই ব্যক্তির নাম লেখো এবং আলুগুলো তোমার ব্যাগে ভরো।"


সবশেষে একটি নিয়ম দেওয়া হলো: "তোমাদের এই ব্যাগ সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে। বাড়িতে, স্কুলে, বন্ধুদের সাথে—সবখানে। তোমরা এটি কোথাও নামিয়ে রাখতে পারবে না বা আলুগুলো ফেলে দিতে পারবে না।"


প্রথম ১-২ দিন: একটু ভারী:—


শুরুতে এটি খুব একটা বড় ব্যাপার মনে হয়নি। ব্যাগগুলো একটু ভারী আর অস্বস্তিকর মনে হলেও ছাত্ররা বিষয়টিকে হাসিমুখেই মেনে নিল।


৩-৫ দিন: পচন শুরু হলো:—


ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করল। আলুগুলো পচতে শুরু করল। ছত্রাক ধরল। আলুগুলো থেকে আঠালো রস বের হতে লাগল এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করল। গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল—ব্যাগে, বইতে, জামাকাপড়ে। ক্লাসরুমে, বাড়িতে, সব জায়গায় সেই গন্ধ তাদের তাড়া করল। ছোট একটি বোঝা এখন অসহ্য হয়ে উঠল। তবুও শিক্ষকের আদেশের ভয়ে তারা সেটি বয়ে বেড়াতে লাগল।


সপ্তম দিন: মুক্তি:—


অবশেষে শিক্ষক বললেন, "এখন তোমরা এই ব্যাগগুলো ফেলে দিতে পারো।"


সারা ক্লাসে স্বস্তির জোয়ার বয়ে গেল। ছাত্ররা দৌড়ে গিয়ে ব্যাগগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিল। তারা বলতে লাগল, "উফ! কী জঘন্য গন্ধ! বাঁচা গেল!"


শিক্ষক শান্তভাবে বললেন: "যখন তোমরা মনের ভেতর ঘৃণা পুষে রাখো, ঠিক এই পচা আলুর মতোই তা তোমাদের জীবনকে বিষিয়ে তোলে।"


আমরা যে কথাটি ভুলে যাই:—


ক্ষমা করার মানে এই নয় যে, সামনের জন ক্ষমার যোগ্য কিনা তা বিচার করা। যে আলুগুলো পচে গেল—তার উপরে কার নাম লেখা ছিল তার ওপর নির্ভর করে পচন ধরেনি; বরং আলুগুলো পচেছিল যে ব্যাগটি বয়ে বেড়াচ্ছিল তার হাতেই।


ঘৃণা ঠিক এইভাবেই কাজ করে। তোমার শান্তি কেড়ে নেয়। তোমার চিন্তা নষ্ট করে। কাজে, সম্পর্কে, ঘুমে—সর্বত্র তোমাকে তাড়া করে।


মানুষ মাত্রই ভুল করে, কারণ মানুষ অসম্পূর্ণ:—


জীবন নিখুঁত নয়। মানুষও নয়। বন্ধু বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। পরিবার হতাশ করতে পারে। বিশ্বস্ত কেউ আঘাত দিতে পারে। প্রতিটি আঘাতের জন্য যদি মনের ভেতর একটি করে "পচা আলু" জমা কর, তবে তোমার জীবন অসহ্য, ভারী হয়ে উঠবে।


এগিয়ে যেতে গেলে একটা জিনিস শিখতে হয়: ক্ষমা করা—বারবার। এটি কেবল অন্য পক্ষ দুঃখিত বলেছে বলে নয়, বরং নিজের শান্তির জন্য প্রয়োজন।


আসল শিক্ষা:—


ক্ষমা অন্য কাউকে দেওয়া কোনো উপহার নয়; এটি নিজের জন্য নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। এটি হলো সেই ভারী ব্যাগটি নামিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত। তুমি ক্ষমা করো এই জন্য নয় যে সে যোগ্য। ক্ষমা করো কারণ এই বোঝা বইতে বইতে তুমি ক্লান্ত।


শেষ কথা:—


জীবনে আমরা সবাই কিছু না কিছু বয়ে চলি। নিজেকে প্রশ্ন কর— যা কিছু পিঠে বয়ে বেড়াচ্ছ, তা তোমাকে পূর্ণ করছে নাকি নিঃশেষ?


ব্যথা, রাগ আর অনুশোচনার সেই অতিকায় বোঝাগুলো নামিয়ে রাখো। জীবন কোনো প্রদর্শনী নয় যে ভার বহন করে বীরত্ব প্রমাণ করতে হবে। বরং মুক্ত হওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল সার্থকতা।


পছন্দটা তোমার: বিষাক্ত স্মৃতির খাঁচায় বন্দি থাকবে, নাকি শান্তির ডানায় হালকা হতে শিখবে?

No comments