অষ্টাদশ বিধানসভা রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দফায় ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল, ৪ঠা মে ভোট গণনার পরেই সারা রাজ্যে গেরুয়া ঝড় অব্যাহত। দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালী…
অষ্টাদশ বিধানসভা রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দফায় ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল, ৪ঠা মে ভোট গণনার পরেই সারা রাজ্যে গেরুয়া ঝড় অব্যাহত। দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আর সেই নিয়েই এখন তৃণমূল কংগ্রেসে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
, নেতাদের মুখে একটাই কথা বারে বারে উঠে আসছে “বারে বারে দল পরিবর্তন করায় তাপসীকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। হারের বড় কারণ প্রশাসনিক নির্ভরতা, এজেন্সির উপর বেশি নির্ভর করা। হলদিয়ার প্রার্থী পুরনো দিনের নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে, সিপিএম ও বিজেপি থেকে আসা নিজস্ব লোকদের নিয়ে পরিচালনা করেছেন।
অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়ার ফলেই তাই ভরাডুবি এমন ভরাডুবি ঘটেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল ব্যাপক পরাজয়ের পর এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর আজিজুল রহমান।
হলদিয়ার আদি তৃণমূল নেতৃত্ব। পাশাপাশি নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদি তৃণমূল নেতারা। হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান নেতা - সকলের নিশানায় দলের অভিষেক ও আইপ্যাক। যাকে প্যাক প্যাক বলেও অভিহিত করেছেন দলীয় নেতৃত্বরা।
হলদিয়ার তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ মণ্ডল বলেন, “হলদিয়ার পুর নির্বাচন না করানো, সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। আমি প্রাক্তন চেয়ারম্যান হয়েও দলের কাছে ব্রাত্য। দল এখন আইপ্যাক নির্ভর। আর আইএনটিটিইউসি নেতা কলকাতার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কলকাতায় লেনদেন করলেন, শ্রমিকরা পেল কী না দেখলেন না।বিজেপি থেকে তৃণমূলে আশা তাপসী মণ্ডল-শ্যামল মাইতির নেতৃত্ব সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। দলের সমস্যার কথা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো যেত না”। হলদিয়ার তৃণমূল নেতা মিলন মণ্ডল বলেন, “২০০৯-২০১১ সালে সিপিএম শয়ে শয়ে কেস দিয়েছে তৃণমূলের ছেলেদের। আর সেই তাপসী মণ্ডল সিপিএম থেকে বিজেপি, তারপর তৃণমূলে যোগ দিলেন। আমার মত সিনিয়ার নেতা তা বলায় পুলিশ-প্রশাসন দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে। আমাকে থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। পুরনো তৃণমূল নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। জেলার সভাপতি কোন মিটিং ডাকেননি। দলটা অভিষেক শেষ করে দিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরকে ডায়মন্ড হারবার মডেল করতে চাইল। সিনিয়র নেতাদের থানায় ডেকে ধমকানি, চমকানি। আর আইপ্যাকের বাচ্চা ছেলেরা দল চালালো। তাই সারা রাজ্যে এই ভরাডুবি”।
হলদিয়া পুরসভার আর এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুধাংশুশেখর মণ্ডল বলেন, “বারে বারে দল পরিবর্তন করায় তাপসীকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। হারের বড় কারণ প্রশাসনিক নির্ভরতা, এজেন্সির উপর বেশি নির্ভর করা। হলদিয়ার প্রার্থী পুরনো দিনের নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে, সিপিএম ও বিজেপি থেকে আসা নিজস্ব লোকদের নিয়ে পরিচালনা করেছেন। সুব্রত বক্সীর হাত থেকে যেদিন থেকে কার্যত দলের দায়িত্ব চলে গেল, আমরা কার কাছে বলব দলের কথা, দুঃখের কথা। অভিষেক কার্যত দল চালায়। তিনি তারুণ্য নিয়ে চলতে চান। আমাদের এই বয়স, তাই আমরা ব্রাত্য হয়ে যাচ্ছি। আমি যখন পুরসভা ছেড়ে আসি, তখন আমার কাছে প্রস্তাব আসে অর্থের বিনিময়ে পদ রাখার জন্য। আমি রাজি হইনি। দলের নেতৃত্ব অনুশাসন করলে ঠিক আছে, কিন্তু আইপ্যাকের বাচ্চা বাচ্চা ছেলে আমাদের ধমক দেয়। আমরা কী করব? এটাই বেদনার, দলটা ক্ষমতা হারাল”।
No comments