সিটিসেন্টারে বিপিসিএলের গ্যাস লাইনের পাশে জতুগৃহ, পুলিশ ঠুটো জগন্নাথ!
হলদিয়ায় গ্যাস পাইপলাইনের আশপাশ থেকে দখলদার সরাতে বলল এইচডিএ। মঙ্গলবার হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে বিপিসিএল ও পুলিসকে নিয়ে মিটিং করেন এইচডিএব. চিফ এগজিকিউটিভ…
সিটিসেন্টারে বিপিসিএলের গ্যাস লাইনের পাশে জতুগৃহ, পুলিশ ঠুটো জগন্নাথ!
হলদিয়ায় গ্যাস পাইপলাইনের আশপাশ থেকে দখলদার সরাতে বলল এইচডিএ। মঙ্গলবার হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে বিপিসিএল ও পুলিসকে নিয়ে মিটিং করেন এইচডিএব. চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার কোন্থাম সুধীর। ওই দখলদার সরাতে সোমবার চিঠি দিয়েছিল বিপিসিএল। এইচপিএল লিঙ্ক রোডে অতিদাহ্য গ্যাস পাইপলাইন এলাকা থেকে দখলদার সরাতে সোমবার হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এইচডিএ) ও পুলিসকে ওই চিঠি দেয় ভারত পেট্রলিয়াম (বিপিসিএল)। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার অভিযোগ, গ্যাস পাইপলাইনের পাশেই বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাপ মেটিরিয়াল জমা করে গোডাউন তৈরি করে ব্যবসা চলছে। ওই স্ক্যাপের মধ্যে নানা ধরনের দাহ্য রাসায়নিক ও প্লাস্টিক রয়েছে। ওই এলাকা কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। কোনওভাবে আগুন লাগলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, এইমর্মে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে এইচডিএ ও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু অগ্নিকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ নয়, বিপিসিএলের পাইপলাইন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জামও প্রায়ই চুরি হয় বলে একাধিকবার হলদিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিসের চোখের সামনে কীভাবে চুরি হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন স্থানীয়দের।
জানা গিয়েছে, সিটি সেন্টারের অদূরে এইচপিএল লিঙ্ক রোডের পাশে বিপিসিএলের বিশাল ইমপোর্ট এলপিজি টার্মিনাল রয়েছে। হলদিয়া বন্দর থেকে পাইললাইনের মাধ্যমে টার্মিনালে আসে লিকুইড পেট্রলিয়াম গ্যাস। বিদেশ থেকে ওই
গ্যাস জাহাজে আমদানি করা হয় বন্দরের। বন্দরের ৩ নম্বর অয়েল জেটি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস এনে জমা করা হয় স্টোরেজে। এজন্য প্রায় সাড়ে ৭কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন রয়েছে। ওই লাইনের কিছুটা অংশ জাতীয় সড়ক থাকায় মাটির তলা দিয়ে পাতা রয়েছে। অভিযোগ, সিটি সেন্টার এলাকা থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশে রেনুকা সুগার কারখানার আশপাশ এলাকায় রমরমিয়ে স্ক্যাপ মেটিরিয়ালের ব্যবসা চলছে। এলপিজি গ্যাসের জন্য প্রপেন ও বিউটেনের দু'টি পাইপলাইন রয়েছে। বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ টন গ্যাস আসে ওই টার্মিনালে। পরে ওই গ্যাস ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বাংলা, বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ সহ সারা উত্তর পূর্ব ভারতে যায়। দু'টি লাইনের নিচে ও পাশে কার্যত দখল করে ব্যবসা চলছে। বেশিরভাগই বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কারখানার স্ক্যাপ এবং প্লাস্টিকের ড্রাম ডাঁই হয়ে রয়েছে। কোনওভাবে আগুন লাগলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটবে শুধু নয়, পুরো বাংলা স্তব্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু গ্যাস পাইপলাইনের জন্য নয়, শহরে প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। পুলিস ও প্রশাসনের চোখের সামনে একদশক ধরে রমরমিয়ে স্ক্যাপের পাহাড় তৈরি হয়েছে। দাহ্য বস্তুর পাশাপাশি ব্যাপক দূষণ ছড়ালেও দূষণ পর্ষদ, পুর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার বলে অভিযোগ। এইচডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচডিএর জমির উপর দিয়ে পাইপলাইন গিয়েছে। সোমবার বিপিসিএলের আধিকারিকরা এইচডিএর চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর ও চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার কোন্থাম সুধীরের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানান। তাঁরা ছবি সহ একটি চিঠি দিয়েছেন এইচডিএকে। চেয়ারম্যান বিষয়টি ভবানীপুর থানার নজরে আনেন। এইচডিএর চিফ এগজিকিউটিভঅফিসার বলেন, বিপিসিএলকে তাদের পাইপলাইনে ওয়ার্নিং চিহ্ন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিসকে ওই দখলদারদের সতর্ক করতে বলা হয়েছে।
No comments