মহিষাদলের রথে জনজোয়ার, রাধার মানভঞ্জন করে অবশেষে প্রবেশাধিকার মিলল গোপালজিউর
রাজবাড়ির কুলদেবতা মদনগোপালজিউ ও জগন্নাথদেব ফিরছেন মাসির বাড়ি থেকে।মহিষাদলে উল্টোরথও ভাসল জনজোয়ারে। এবারের রথের ভিড় সাম্প্রতিক অতীতে তেমন হয়নি বলে মনে করছ…
মহিষাদলের রথে জনজোয়ার, রাধার মানভঞ্জন করে অবশেষে প্রবেশাধিকার মিলল গোপালজিউর
রাজবাড়ির কুলদেবতা মদনগোপালজিউ ও জগন্নাথদেব ফিরছেন মাসির বাড়ি থেকে।
মহিষাদলে উল্টোরথও ভাসল জনজোয়ারে। এবারের রথের ভিড় সাম্প্রতিক অতীতে তেমন হয়নি বলে মনে করছেন রাজবাড়ির প্রতিনিধি থেকে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের লোকজন এবং স্থানীয়রাও। শনিবার দুপুরে গুণ্ডিচাবাটিতে রাজভোগ খেয়ে রথে চড়েন রাজবাড়ির কুলদেবতা মদনগোপালজিউ, রাজরাজেশ্বর এবং জগন্নাথদেব। মহিষাদলের রথ গোপালজিউর রথ হিসেবে পরিচিত এবং এখানে তাঁর সঙ্গী হন জগন্নাথদেব। গুণ্ডিচাবাটি থেকে পালকি চেপে দেবতারা আসেন রথে। উল্টোরথ নিয়ে প্রবীণ ও স্থানীয়দের নানা স্মৃতি রয়েছে। রাজবাড়ির প্রবীণ কর্মী স্বপন চক্রবর্তী বলেন,
উল্টোরথেও একসময় দারুণ ধুমধাম হত এবং নানা রীতি রয়েছে রাজবাড়িতে। এখনও কিছু রীতি পালিত হয়। মহিষাদলের রথযাত্রায় সমস্ত রীতিনীতি কিন্তু কুলদেবতা মদনগোপালজিউ কেন্দ্রিক। আজ থেকে ৩৫-৪০ বছর আগে উল্টোরথে গোপালজিউ ও জগন্নাথদেব যখন রাজবাড়ি ফিরতেন, তখন দু'বার পর পর কামান থেকে তোপ ধ্বনি হত। রথ থেকে প্রথমে নামতেন গোপালজিউ ও রাজরাজেশ্বর। তাঁদের পালকি চাপিয়ে যখন রাজবাড়ির ফটকে প্রবেশ করানো হত, তখন একবার তোপধ্বনি হত। এরপর জগন্নাথদেব আসতেন পালকি চেপে। তখন আর একবার তোপধ্বনি হত। এখন কামান থাকলেও তোপধ্বনি হয় না। বাজি পটকা ফাটিয়ে রীতি মানা হয়। এবারও
ঠিক তাই ঘটেছে। তবে বাজিপটকার ওই শব্দ স্মৃতি ফিরিছে পুরনো দিনের। তরুণ প্রজন্ম তাতেই মেতে ওঠেন। রাজবাড়িতে বছরে পাঁচবার একসময় তোপধ্বনি হত। দুর্গাপুজোর সন্ধিপুজোর সময়, উল্টোরথে, সাধারণতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বড়রবাহাদুর দেবপ্রসাদ গর্গের জন্মদিন উপলক্ষে। এছাড়া গোপালজিউ মন্দিরে ফেরার সময় রাধার মানভঞ্জনের অনুষ্ঠান খুবই চিত্তাকর্ষক। এই অনুষ্ঠান দেখতে এবারও ব্যাপক ভিড় হয়েছে দর্শনার্থীদের। রথের সময় যখন মামাবাড়ি যান গোপালজিউ তখন রাধা থাকেন মন্দিরে। তাই গোপালজিউ ফিরলে দরজা আটকে রাখেন রাধা। বেশ মজাদার ওই অনুষ্ঠান চলে আধঘণ্টা ধরে। গোপালজিউকে বাইরে বসিয়ে রেখে চলে রাজপাখার বাতাস দেওয়ার কাজ। এরপর জগন্নাথদেব মন্দিরে এসে প্রবেশের পর রাধার মানভঞ্জন করেন। তবেই গোপালজিউ মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি মেলে। রথের সময় প্রতিদিন গুণ্ডিচাবাটি থেকেই গোপালজিউর ভোগ নিয়ে গিয়ে নিবেদন করা হয়। সেই ভোগে প্রতিদিন অবশ্যই রাখতে হয় নোটেশাক ভাজা, ছানার তরকারি ও পায়েস। এগুলি গোপালজিউর মেনু। এবার গুণ্ডিচাবাটিতে রথের সময় দুপুরে ও রাতে প্রতিদিনই কয়েক হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীকে ভোগ প্রসাদ খাওয়ানো হয়েছে। তবে রথ শেষ হলেও রথের মেলা চলবে আরও ১৫দিন। দুদিন পরই ফের পূর্ণিমার রথে মাতবে মহিষাদল।
No comments