হলদিয়ার তিনটি গ্রাম লক্ষী গ্রাম নামেই পরিচিতরাত কাটলেই মহালক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠবেন ভবানীপুর থানার অন্তর্গত কিসমত শিবরাম নগর চাউলখোলাও শোরামপুর এই তিনটি গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে থাকেন বছরের এই লক্ষ্মী পূজার আরাধনায় মেতে ওঠা…
হলদিয়ার তিনটি গ্রাম লক্ষী গ্রাম নামেই পরিচিত
রাত কাটলেই মহালক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠবেন ভবানীপুর থানার অন্তর্গত কিসমত শিবরাম নগর চাউলখোলাও শোরামপুর এই তিনটি গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে থাকেন বছরের এই লক্ষ্মী পূজার আরাধনায় মেতে ওঠার জন্য। আট থেকে আশি সকলেই এই পুজোয় মেতে ওঠেন শহরের বড় দুর্য মণ্ডপ হয়তো অনেকে দেখা সম্ভব হয়নি কিন্তু এখানেই সেই বড় বড় দুর্গা মণ্ডপ প্রায় এক কিলোমিটার এর মধ্যে প্রায় ১৫ টি পূজো হয় সেখানেই মন্ডপ দেখতে পাওয়া যায়। আর সেজন্যই দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আছেন এই তিনটি গ্রামের লক্ষ্মী প্রতিমা এবং মন্ডপ দেখার জন্য। গ্রামে ঢুকলেই দেখা যাবে কোথাও ইন্ডিয়া গেট, আবার কোথাও বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। কোথাও বসে মেলা। কোথাও আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। দুর্গাপুজো নয়, লক্ষ্মীর আরাধনায় মাতে হলদিয়ার শিবমনগর, চাউলখোলা এবং শোভারামপুর গ্রাম। বাইরে থেকে আসা কোনও লোকজন লক্ষ্মীপুজোর এমন মণ্ডপ দেখে চমকে উঠতেই পারেন। কিন্তু এই গ্রামের মানুষ বহু বছর ধরেই লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করে থাকেন। এই গ্রামগুলিও বিখ্যাত লক্ষ্মীপুজোর জন্যই। তাই গ্রামগুলিকে অনেকেই লক্ষ্মীগ্রাম বলেন। গ্রামের মানুষজনই জানালেন, এখানকার কোনও পুজো ৯০ বছর পুরোনো। কোনও পুজো আবার কুড়ি বছর। কিন্তু পুজোর জৌলুস ধরে রাখার চেষ্টা করে গ্রামের ক্লাবগুলি। লক্ষ্মীপুজোর সময়ে এখানকার মানুষ নতুন জামা-কাপড় পরেন। আনন্দ করেন। দুর্গাপুজোর সময় থেকেই লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন শুরু হয়ে যায়। মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠান, মেলার আয়োজনও শুরু করে দেন গ্রামের মানুষ। কিসমত শিবরামনগর গ্রামে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতি সঙ্ঘের পুজো এ বার ৫০ বছরে পড়ল। পাঁচ লক্ষ টাকা বাজেট। এ বার এদের মণ্ডপ ইন্ডিয়া গেটের আদলে তৈরি হচ্ছে। প্রতিমা ও মণ্ডপ ছাড়াও এই ক্লাব রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে। দুঃস্থদের নতুন পোশাকও তুলে দেওয়া হবে বলে জানান উদ্যোক্তারা। আট দিন ধরে চলবে মেলাও। কিসমত শিবরামনগর গ্রামের বিনয়ী সঙ্ঘের লক্ষ্মীপুজো এ বার ৭০ বছরে পড়ল। বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে পুজো মণ্ডপ। প্রায় ৪০ ফুট চওড়া এবং ৬০ ফুট উচ্চতার মণ্ডপে ১৮ হাত বিশিষ্ট মহালক্ষ্মী পূজিত হবেন। সঙ্গে থাকছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু সহ অন্য দেবদেবীর মূর্তিও। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করেছে এই সঙ্ঘ। স্থানীয় মূক ও বধির পড়ুয়াদের বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী এবং তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম দেবেন পুজো উদ্যোক্তারা। সাত লক্ষ বাজেটের বড় পুজোর আয়োজন করেছে এই গ্রামের সমন্বয় ক্লাব। তাদের পুজোও ৭০ বছরে পড়ল। বাঁশ ও রঙিন কাপড় দিয়ে তৈরি মণ্ডপ। পুজোর সঙ্গে থাকছে রক্তদান শিবির এবং বস্ত্র দান। ৩৪ তম বর্ষে আমরা সবাই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় মেতে উঠেন কিসমত শিবরামনগর এলাকার মানুষজন। তাদের বৈশিষ্ট্য এলাকার সমাজ বন্ধুদের সম্বর্ধনা দেওয়া এবং তাদেরই উপস্থিতিতে পুজো মন্ডপে উদ্বোধন করা। ওই এলাকার একজন শ্মশান যাত্রী যিনি প্রায় ৮০০ মানুষের বড় দেহ সৎকার করেছেন তিনি এই মন্ডপের প্রধান অতিথি তারই উপস্থিতিতেই এবারের মন্ডপ উদ্বোধন হবে বলে জানা গেছে। স্থানীয় আইসিডিএস স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের চারা গাছ এবং শিক্ষার সামগ্রী শীতবস্ত্র প্রদান রয়েছে তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। জানিয়েছেন ক্লাবের অন্যতম সদস্য মহাপ্রভু বেরা। স্থানীয় চাউলখোলা এবং শোভারামপুর গ্রামের সংযোগস্থলে ঋষি অরবিন্দ স্মৃতি সঙ্ঘের পুজো এ বার ৯৩ বছরে পড়ল। পুজোর বাজেট প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। উদ্যোক্তারা দুঃস্থদের শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করেছেন। স্থানীয় দেভোগ পশ্চিম পল্লি নিউ মালঞ্চ মঞ্জরী ক্লাবের পুজোর বয়স ২৯ বছর। বাজেট তিন লক্ষ টাকা। পুজোর দিন মণ্ডপ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পদ্মপুকুর থেকে ঘটে জল আনা হয়। সে সময়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ঢাক-ঢোল, ব্যান্ড পার্টি-সহ নানা বাদ্যযন্ত্র থাকে শোভাযাত্রায়। সঙ্গে নাচের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সাফাই কর্মীদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি পুজো কমিটি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

No comments