Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ পূজোর পরই দ্রুত শুরু সহ ৮ দফা দাবীতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা দপ্তরে স্মারকলিপি

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ পূজোর পরই দ্রুত শুরু সহ ৮ দফা দাবীতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা দপ্তরে স্মারকলিপিসংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক : পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প ঘাটাল মাস্…

 




ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ পূজোর পরই দ্রুত শুরু সহ ৮ দফা দাবীতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা দপ্তরে স্মারকলিপি

সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক : পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ পূজোর পরপরই দ্রুত শুরু সহ ৮ দফা দাবীতে আজ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসক,পুলিশ সুপার ও সেচ দপ্তরের চিফ-সুপারিনটেনডেন্ডিং-এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের নিকট ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক,অফিস সম্পাদক কানাই লাল পাখিরা,সহকারী সম্পাদক অঞ্জন জানা,উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মহাদেব সামন্ত প্রমুখ। জেলা শাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা শাসক(শিক্ষা)অমিতাভ সরকার,সেচ দপ্তরের সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ারের পক্ষে ওনার টি.এ.এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্ত দাস,ওয়েস্ট মিডনাপুর ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম হাজরা স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,পূর্বের সরকারের আমলে খাল ও নদী সংস্কারের ক্ষেত্রে নেওয়া নো কস্ট পদ্ধতিতেই নদী ও খাল সংস্কার করা হবে। তবে ওই পদ্ধতির কিছু নিয়ম পরিবর্তন করা হবে। যার মধ্যে রয়েছে মাটির ক্ষেত্রে ভলিউম শেয়ারের জায়গায় রেভিনিউ শেয়ারে কাজ হবে। ইতিমধ্যে ১৮ টি নদী ও খাল সংস্কারের ১৭ টি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। ১ টিতে কোর্ট কেস চলছে। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,সমগ্র প্রকল্পে ৪৮ টি কাজ ধরা হয়েছিল,যার মধ্যে ২৭ টি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২২ টি কাজ বর্তমানে চলছে। ৫ টি কাজ শেষ হয়েছে। ২১ টি কাজের রি-টেন্ডার করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অর্থে দুই মেদিনীপুর জেলার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। 

কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করে বলেন,বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ বহু আন্দোলন,আবেদন,নিবেদন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে অবশেষে 'নো কস্ট' পদ্ধতিতে শিলাবতী,পলাসপাই নদী সংস্কারের কাজ কিছু ক্ষেত্রে শুরু হয়েছিল। কিন্তু শিলাবতী নদীর নিম্নাংশ সংস্কারের ওয়ার্ক অর্ডার গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেওয়ার পর ১০ মাস অতিক্রান্ত হলেও ৫০০ মিটার অংশ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হয়নি। শুধু তাই নয়,মাস্টার প্ল্যানের অন্তর্গত অন্যান্য কাজগুলিরও অবস্থা প্রায় একই রকম। ফলস্বরূপ চলতি বর্ষায় ঘাটাল মহকুমার একাংশের অধিবাসীদের ফের তিনবার বন্যা কবলিত হতে হল।

         নারায়ণবাবু আরো বলেন,আমরা বীরসিংহে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ থেকে সম্প্রতি জানতে পারলাম, রাজ্য সরকার ঘোষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সামগ্রিক কাজ দু বছরের মধ্যেই শেষ করা হবে। সেজন্যে ওই কাজের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার শ্বেতপত্র প্রকাশ করে পূজা শেষ হওয়ার পরপরই উক্ত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু সহ ঐ সম্পর্কিত নিম্নোক্ত কয়েকটি প্রস্তাব অবিলম্বে কার্যকরী করার জন্য আজকের এই স্মারকলিপি মারফত আমরা পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশনের মাধ্যমে তুলে ধরলাম।

প্রস্তাবগুলির মধ্যে অন্যতম হল-

    ১) ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ সুষ্ঠুভাবে রূপায়ণের স্বার্থে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করে অতি সত্বর একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সেচ দপ্তরের সিডিউল অনুযায়ী শিলাবতী নদীর নিম্নাংশ সংস্কার সহ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু।

২) নদী ও নিকাশী খালগুলির ভেতর সরকারী জায়গায় নির্মিত বেআইনি কাঠামোগুলি ভাঙা

৩) নো কস্ট পদ্ধতি বাতিল করে পূর্বের পদ্ধতিতে শিলাবতীর নিম্নাংশের যে ২৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করার কথা সেই অংশে সেচ দপ্তর কর্তৃক সরকারী জায়গা চিহ্নিতকরণ সহ দপ্তরের কাটিং চার্ট অনুসারী যতটা খাল সংস্কার হবে তা অবিলম্বে মার্কিং।

 ৪) নদী ও খাল সংস্কারের মাটি থেকে দুর্বল নদীবাঁধের অংশ সহ নদীর যেদিকে বাঁধ নেই বললেই চলে,সেই দিকে শক্তপোক্তভাবে বাঁধ নির্মাণ।

 ৫) সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদার ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা দেখভাল করার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন। 

৬) চন্দ্রেশ্বর খালকে শিলাবতীর সঙ্গে সংযুক্তিকরন,পাম্প হাউস ও ডোয়ার্ফ ওয়াল নির্মাণ।

৭) শিলাবতী নদীর উপর সাহেবঘাট ও রূপনারায়ন নদের উপর বন্দর এলাকায় একটি কংক্রিট ব্রীজ নির্মাণ সহ গুরুত্বপূর্ণ যে স্থানগুলিতে বাঁশ বা কাঠের ব্রীজ রয়েছে,সেগুলি দ্রুততার সাথে ধাপে ধাপে কংক্রিটের ব্রীজে রূপান্তর প্রভৃতি।


      

No comments