Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

আপনি যে পনির কিনে খাচ্ছেন তা আদেও পনির তো?

শিশু ও রোগীর খাবারে বড় বিপদ? দেশজুড়ে বাড়ছে নকল পনিরের কারবার!আপনি যে পনির কিনে খাচ্ছেন তা আদেও পনির তো?
পনির এমন একটি খাদ্য, যা আমরা সাধারণত পুষ্টিকর ও নিরাপদ বলেই মনে করি। শিশুদের খাবারে, বয়স্কদের ডায়েটে এবং হাসপাতাল বা নার্…

 


শিশু ও রোগীর খাবারে বড় বিপদ? 

দেশজুড়ে বাড়ছে নকল পনিরের কারবার!

আপনি যে পনির কিনে খাচ্ছেন তা আদেও পনির তো?


পনির এমন একটি খাদ্য, যা আমরা সাধারণত পুষ্টিকর ও নিরাপদ বলেই মনে করি। শিশুদের খাবারে, বয়স্কদের ডায়েটে এবং হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে রোগীদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত পনির রাখা হয়। কারণ, আসল দুধের তৈরি পনিরে থাকে ভালো মানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান।

কিন্তু সেই পনির নিয়েই এখন বাড়ছে উদ্বেগ। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন নকল পনির উদ্ধার হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু চক্র দুধের পরিবর্তে বিভিন্ন রাসায়নিক, স্টার্চ, ভেজাল তেল ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে নকল পনির তৈরি করছে। এরপর সেই পনির বাজারে আসল পনিরের নামে বিক্রি করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, খোলা বাজারে ওজন করে বিক্রি হওয়া পনিরের উৎস সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রেই নিশ্চিত হওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি শিলিগুড়ির একাধিক বাজারেও খোলা পনির বিক্রি হতে দেখা যায়। সেই পনির সত্যিই দুধ থেকে তৈরি, নাকি ভেজাল উপাদান দিয়ে বানানো—সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝা প্রায় অসম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল বা নিম্নমানের পনির খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, পেটের সংক্রমণ, বমি, ডায়রিয়া, লিভার ও কিডনির সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই শুধু কম দামের জন্য অচেনা উৎস থেকে খোলা পনির কেনা বিপজ্জনক হতে পারে।

তবে সব খোলা পনিরই যে নকল, এমন দাবি করা ঠিক নয়। অনেক স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদকও খাঁটি দুধের পনির তৈরি ও বিক্রি করেন। তাই কেনার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। সম্ভব হলে স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পনির কিনুন। কেনার সময় অবশ্যই উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, ব্যাচ নম্বর, এফএসএসএআই (FSSAI) লাইসেন্সের তথ্য এবং প্যাকেটের সিল ভালোভাবে দেখে নিন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত নজরদারি ও ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো প্রয়োজন, যাতে মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। শিলিগুড়ি শহরের সম্প্রতি কালে পুলিশ বা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে শহরে যে পনির বিক্রি করা হচ্ছে তার গুণগত মান কেমন তা জানতে কোন অভিযান হয়নি। শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা পনির ওজন দরে বিক্রি করা হয়, সূত্রের খবর ভিন রাজ্য থেকে আসে ওই পনির। আদৌ সেই পনির পনির তো?

আপনি কি আপনার সন্তানের জন্য বা বাড়ির অসুস্থ মানুষের জন্য পনির কিনছেন? তাহলে একটু বাড়তি সতর্ক থাকুন। কারণ, খাবারের স্বাদ নয়—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার নিরাপত্তা। সচেতন থাকুন, ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন এবং নিরাপদ খাবার বেছে নিন। বিউরো রিপোর্ট হলদিয়া নিউজ।

No comments