পুরসভা অফিস থেকে খুলে ফেলা হল বিধায়কের নেমপ্লেট
হলদিয়া পুরসভা অফিস থেকে শাসকদলের বিধায়ক প্রদীপ বিজলির নেমপ্লেট খুলে দেওয়া ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট অফিস শুরুর আগে সোনালী রঙের 'প্রদীপ বিজলি, এমএলএ' লেখা নেমপ…
পুরসভা অফিস থেকে খুলে ফেলা হল বিধায়কের নেমপ্লেট
হলদিয়া পুরসভা অফিস থেকে শাসকদলের বিধায়ক প্রদীপ বিজলির নেমপ্লেট খুলে দেওয়া ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট অফিস শুরুর আগে সোনালী রঙের 'প্রদীপ বিজলি, এমএলএ' লেখা নেমপ্লেট খুলে ফেলা হয় বলে পুরসভা সভা সূত্রে জানা গিয়েছে। সকালে অফিসে এসে পুরকর্মীদের নজরে আসে বিষয়টি। এরপরই পুরসভা জুড়ে গুঞ্জন শুরু হয়। দুপুরে পুরসভা অফিসে এসে নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে বিধায়কের। নেমপ্লেট খুলে নেওয়ায় ঘটনায় খানিকটা হতভম্ব হয়ে যান তিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কারও নির্দেশে তাঁর নেমপ্লেট আপাতত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হলদিয়া পুরসভায় গত চার বছর ধরে কোনও পুর বোর্ড নেই। সরকার নিযুক্ত পুর প্রশাসক হলদিয়া পুরসভা পরিচালনা করছেন। হলদিয়ার একাধিক মহকুমাশাসক গত চার বছর ধরে পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব সামলেছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুর প্রশাসককে সহযোগিতার জন্য হলদিয়ার এমএলএ-কে নির্দেশ দেয় রাজ্য। এজন্য পুরসভা অফিসে গিয়ে তাঁকে নিয়মিত বসতে বলা হয়। এমএলএ-র জন্য পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের পাশে আলাদা রুম বরাদ্দ করে পুর কর্তৃপক্ষ। পুরসভা অফিসে এমএলএ-র জন্য নেমপ্লেট বসানো হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহে। তিন মাস না যেতেই হঠাৎ এমএলএ-র নেমপ্লেট সরানোর ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে পুরসভা অফিস থেকে বিজেপির অন্দরমহলেও। প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা অফিসে কেন এমএলএ-র আলাদা ঘর বরাদ্দ হবে এবং সেখানে নেমপ্লেট লাগানো হবে। এনিয়ে পুরসভা অফিস কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরসভা অফিসের কে বা কারা অতি উৎসাহী হয়ে এমএলএর নেমপ্লেট লাগিয়েছিল, তা নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর পুরসভা অফিসে জলঘোলা হয়। পুর প্রশাসক তথা মহকুমাশাসক সুরভি সিংলা বলেন, বিধায়ক পুরসভার অফিসে বসেন একথা ঠিক। কিন্তু তাঁর নেমপ্লেট লাগানো হয়েছিল কিনা বা কেউ সেটি সরিয়েছে কি না, সেবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। পুরসভার অন্য আধিকারিক ও কর্মীরাও এবিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বিধায়ক প্রদীপ বিজলি বলেন, পুর কর্তৃপক্ষ কেন আমার নেমপ্লেট লাগিয়েছিল, আর কেন খুলে ফেলল তা বলতে পারব না। পুর কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, এই ঘটনা বিধায়কের কাছে খুবই অপমানজনক। তিনি শাসকদল বিজেপির বিধায়ক, অথচ তাঁর নেমপ্লেট-ই সরিয়ে দেওয়া হল। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে জলমগ্ন ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ও বুথ সভাপতিদের মাধ্যমে পুরসভার সরকারি ত্রাণ বিলির অভিযোগ ওঠে। সঠিকভাবে সেই ত্রাণ এলাকায় বিলি হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। ওই মণ্ডল সভাপতিদের অনেকেই বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। ওই অভিযোগের কথা জানার পর হলদিয়া এসে মিটিংয়ের সময় পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কড়া ধমক দেন। নেমপ্লেট কাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম। সিপিএম নেতা পরিতোষ পট্টনায়ক বলেন, কার নির্দেশে পুরসভায় এমএলএর অফিস হল, নেমপ্লেট বসল, আবার খুলে নেওয়া হল, তা জানি না। তবে এঘটনায় হলদিয়ায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। কিছুদিন আগেই বিজেপি নেতা প্রাক্তন পুর প্রধান শ্যামলকুমার আদককে বিজেপির মহিলা কর্মীরা পুরসভা থেকে তাড়া করে বের করে দিয়েছিল। এবার বিধায়ক প্রদীপ বিজলির নেমপ্লেট খুলে দেওয়ার ঘটনায় তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া নজরে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

No comments