বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় হলদিয়া ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় হলদিয়া ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, পুজোর আগেই ৬০০ কোটির পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পের উদ্বোধনের সম্ভাবনাপূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাম্প্রতিক…
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় হলদিয়া ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় হলদিয়া ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, পুজোর আগেই ৬০০ কোটির পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পের উদ্বোধনের সম্ভাবনা
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। এদিন রাতে হলদিয়া ভবনে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলার বর্তমান পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগামী দিনের সরকারি পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, জোর বিদ্যুৎ ফেরানোয়
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত কয়েকদিনের টানা অতিবর্ষণে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বহু সাধারণ মানুষ ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও বেশ কিছু নিচু এলাকা জলমগ্ন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
হলদিয়া পৌর এলাকার ৬টি ওয়ার্ড
সুতাহাটা ব্লকের ৬২টি মৌজা
হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত ২টি গ্রাম পঞ্চায়েত
মহিষাদলের ৪ থেকে ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা
বাড়িঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় এই সমস্ত এলাকার বহু মানুষ এখনও সরকারি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্যোগের জেরে জেলার প্রায় ৩২ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কৃষকদের ক্ষতিপূরণে বিশেষ কমিটি গঠন
কৃষিক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলায় ধান, পান এবং ফুল ও মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের এই বিপুল ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মহকুমা শাসকদের (এসডিও) নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই কমিটিতে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের আধিকারিকরা থাকবেন। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করবেন এবং কৃষকরা যাতে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি জেলাশাসকের (ডিএম) সরাসরি তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণে পরিচালিত হবে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের মেগা প্রকল্প
প্রশাসনিক এই বৈঠকে বিপর্যয় মোকাবিলার পাশাপাশি জেলার শিল্পোন্নয়ন নিয়েও অত্যন্ত ইতিবাচক খবর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড বর্তমানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই এই মেগা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে জেলার শিল্পক্ষেত্রে যেমন গতি আসবে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থানের দিশা তৈরি হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
No comments