কখনো সাংবাদিক,কখনো রেলের আধিকারিক,কখনো ব্যাংকের আধিকারিক,পরিচিয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ টাকা আন্ত্যসাত ।টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি।থানায় অভিযোগ তদন্তে পুলিশপূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জনতার দরব…
কখনো সাংবাদিক,কখনো রেলের আধিকারিক,কখনো ব্যাংকের আধিকারিক,পরিচিয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ টাকা আন্ত্যসাত ।টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি।
থানায় অভিযোগ তদন্তে পুলিশ
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি শুনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। আর সেই জনতার দরবারেই এবার চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে হাজির হলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুরের বাসিন্দা মাসুমা বেগম।
অভিযোগকারিণীর দাবি, কয়েক মাস আগে তাঁর স্বামীর সূত্রে বুবাই দাস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে ওই ব্যক্তি নিজেকে একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। পরে কখনও রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সিইও, কখনও একটি ব্যাংকের ম্যানেজার, আবার কখনও প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতর, রেলওয়ে এবং ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ।
মাসুমা বেগমের অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোন-পে এবং নগদে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কারও চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এরপর বুধবার জেলা পরিষদের জনতার দরবারে উপস্থিত হয়ে জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইতের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাসুমা বেগম। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে জেলা সভাধিপতি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মাসুমা বেগম ইতিমধ্যেই ভগবানপুর থানায় বুবাই দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বুবাই দাস কোলাঘাট থানার দেউলিয়া এবং পাঁশকুড়া থানার মেচগ্রামে অফিস খুলে কাজ করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দুটি অফিসই গুটিয়ে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি সুইচ অফ পাওয়া যায়। ফলে এই অভিযোগের বিষয়ে বুবাই দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

No comments