ক্ষমতার হাতবদলের পরেই নামবদল: ‘বাংলার বাড়ি’ বদলে হল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বিতরণ শুরু পটাশপুরেপটাশপুর (পূর্ব মেদিনীপুর): রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সরকারি আবাস প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করল নতুন রাজ্য সরকার। পূর্ব…
ক্ষমতার হাতবদলের পরেই নামবদল: ‘বাংলার বাড়ি’ বদলে হল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বিতরণ শুরু পটাশপুরে
পটাশপুর (পূর্ব মেদিনীপুর): রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সরকারি আবাস প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করল নতুন রাজ্য সরকার। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের চালু করা 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হল 'পশ্চিমবঙ্গ আবাস'। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেই এই প্রকল্পের নাম 'পশ্চিমবঙ্গ আবাস' রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করার ঘোষণা করেন। এর আগে কেন্দ্রের 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা' (পিএমএওয়াই) প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে 'বাংলার বাড়ি' রাখা হয়েছিল। এই নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও তরজা তৈরি হয়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বর্তমান শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সেই নামের পুনর্নবীকরণ করল।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যের প্রায় ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে সরাসরি পৌঁছতে শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও অর্থসংকটের কারণে আটকে থাকা অসমাপ্ত ঘর তৈরির কাজ পুনরায় গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর-১ নম্বর ব্লকে মোট ১০ হাজার উপভোক্তার তালিকা রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম দফায় ৩,০২০ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পৌঁছাতে শুরু করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অ্যাকাউন্টে টাকা আসার খবরে স্বভাবতই স্বস্তির হাওয়া পটাশপুরের দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারগুলির মধ্যে।
এ দিন পটাশপুর-১ নম্বর ব্লকে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) মহম্মদ করিমুল ইসলাম, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নমিতা বেরা, জয়েন্ট বিডিও রিমা পাত্র, প্রাক্তন সহ-সভাপতি তাপস মাজি, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রসেনজিৎ সাহু ও কৃষ্ণগোপাল দাস সহ একাধিক প্রশাসনিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এলাকায় কাজের তদারকি ও ত্বরান্বিত করার বিষয়েও প্রশাসনিক তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

No comments