Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

পাঁশকুড়া বিদ্যুৎ অফিসে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন

পাঁশকুড়া বিদ্যুৎ অফিসে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসংবাদদাতা-নারায়ন চন্দ্র নায়ক: জনস্বার্থবিরোধী স্মার্ট মিটার ও বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র রুখতে,পাঁশকুড়া স…

 

পাঁশকুড়া বিদ্যুৎ অফিসে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন

সংবাদদাতা-নারায়ন চন্দ্র নায়ক: জনস্বার্থবিরোধী স্মার্ট মিটার ও বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র রুখতে,পাঁশকুড়া সাপ্লাই এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং/লো-ভোল্টেজ সমস্যা সমাধানের দাবীতে পাঁশকুড়া বিদ্যুৎ অফিসে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন।

জনস্বার্থবিরোধী স্মার্ট মিটার লাগানো বন্ধ করতে, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র রুখতে ও পাঁশকুড়া সাপ্লাই এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং/লো-ভোল্টেজ সমস্যা সমাধানের দাবীতে আজ বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা পাঁশকুড়া কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের অফিসে প্রতীকী স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এবং স্টেশন ম্যানেজারকে ডেপুটেশনের মাধ্যমে ৮ দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেন। অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিমার্স অ্যাসোসিয়েশন(অ্যাবেকা)'র পাঁশকুড়া জোনাল কমিটি আহূত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অ্যাসোসিয়েশনের জেলা অফিস সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক,অসিত রায়,নিলয় খালুয়া,কার্তিক হাজরা, স্বপন খাঁড়া প্রমূখ। বিক্ষোভ সমাবেশে মূল বক্তব্য রাখেন, অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস। পরে অফিস প্রাঙ্গনে প্রতীকী স্মার্ট মিটার পোড়ানো হয়। অগ্নিসংযোগ করেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রবীন নেতৃত্ব অসিত রায়। শেষে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা পাঁশকুড়া পুরাতন বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।

সুব্রতবাবু তার বক্তব্যে বলেন,গতিশীল মানব সমাজে বিদ্যুৎ এখন অত্যাবশ্যকীয়। সম্প্রতি গ্রাহকদের বাড়িতে থাকা স্মার্ট মিটার(যা সূক্ষ্মভাবেই বিদ্যুৎ পরিমাপ করতে সক্ষম)পরিবর্তন করে,নতুন করে আরেকটি স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর কথা ঘোষণা করেছে। যে রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যে ওই মিটার লাগানো হয়েছে সেই রাজ্যগুলির যতটুকু খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তাতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে-

১) প্রিপেইড স্মার্ট মিটার লাগালে আগে টাকা দিতে হবে। টাকা শেষ হলেই আপন নিয়মে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে।

২) দিনের বিভিন্ন সময় টি.ও.ডি (টাইম অফ ডে) সিস্টেমে বিভিন্ন রেট চালু করা যাবে। 

৩) রিয়েল টাইম মনিটরিং এবং ডাইনামিক প্রাইসিং সিস্টেম চালু করে বিদ্যুতের চাহিদা যখন যেমন বাড়বে,দামও ইচ্ছামত বাড়িয়ে আদায় করা হবে।

৪) সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে অপারেটরের ইচ্ছামত পোস্ট-পেইডকে প্রি-পেইড মুডে অতি সহজে পরিবর্তন করা যাবে।

৫) অপারেটর চাইলেই এলাকার অনেকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে বিত্তবানদের সঙ্গে চুক্তি করে তাকে অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। কারণ, 'ইউনিভার্সাল সার্ভিস প্রোভাইডার' ধারা বাতিল করে 'পিক এন্ড চুজ' ধারা আনা হয়েছে।

           তাছাড়াও এই স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার বসানো হচ্ছে,কেন্দ্রীয় সরকারের 'রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টার স্কিম'(RDSS)-এর মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী সম্প্রতি কলকাতায় ঘোষণা করেছেন-দু মাসের মধ্যে এ রাজ্যে স্মার্ট মিটার লাগানো শুরু হবে এবং মিটারের দাম ১০০ টাকা করে প্রতি মাসে আগামী ৯১ মাস ধরে গ্রাহকদের দিতে হবে। অর্থাৎ আগামী ৮ বছরের মধ্যে(যা ঐ মিটারের স্থায়িত্ব)স্মার্ট ফোনের মতই লাগানো মিটারটি খারাপ হবে এবং একটি নতুন মিটার লাগিয়ে তার আবার দাম এইভাবে নেওয়া হবে। আমরা মনে করি,এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সরকারি জুলুম। যেহেতু কৃত্রিম মেধার মাধ্যমে একজন অপারেটর একটা পুরো গ্রুপ সাপ্লাই এর ৪০/৫০ হাজার গ্রাহকের কাজ পরিচালনা করতে পারবেন, তাই আর মিটার রিডারের প্রয়োজন হবে না এবং অধিকাংশ অফিস কর্মচারীরও চাকরি চলে যাবে। ফলস্বরূপ অসংখ্য পরিবার চরম বিপদের সম্মুখীন হবেন।

        নারায়নবাবু তার বক্তব্যে বলেন, অন্যদিকে আমরা গত কয়েক মাস ধরে কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এলাকায় লক্ষ্য করছি, কালবৈশাখী ঝড়,বৃষ্টি বা মেঘলা হলেই বেশ কিছু এলাকায় বিশেষত গ্রামীণ এলাকাগুলিতে লোডশেডিং করা হচ্ছে। যা ঘন্টার পর ঘন্টা থাকছে। সে কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা, চিকিৎসা পরিষেবা যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে,পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা লাটে উঠে যেতে বসেছে।

          এই অবস্থায় উক্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আজকের এই ডেপুটেশন মারফত সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই স্মারকলিপি মারফত নিম্নোক্ত দাবীগুলি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলি হল-

১) যেহেতু স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক নয়, সেহেতু যারা লাগাতে চাইবেন না,তাদের কোনভাবেই স্মার্ট মিটার লাগানো চলবে না এবং জোরপূর্বক লাগানো স্মার্ট মিটারগুলি অবিলম্বে খুলে নিতে হবে।

২) গৃহস্থে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত এবং কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে।

৩) বর্ধিত ফিক্সড চার্জ ও মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করতে হবে।

৪) গ্রাহকদের জমা দেওয়া সিকিউরিটির উপর আইনানুগ সুদ ফেরত দিতে হবে।

৫) লোডবৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত সিকিউরিটির টাকা ও সার্ভিস কানেকশনের টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।

৬) অবিলম্বে মাইসোরা এলাকায় নতুন একটি ফিডার চালু করে কেশাপাট-মাইসোরা অঞ্চলের লোডশেডিং/ লো-ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান করতে হবে। কোলাঘাট সাব স্টেশনের অন্তর্গত জিঞাদা-খন্যাডিহি এলাকায় অনুরূপ সমস্যার সমাধান করতে হবে। 

৭) এল.টি./এস.টি. লাইনের সমস্ত পুরনো তার ও লাগানো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারের কাজের লোকের সংখ্যা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দ্রুত পরিষেবা দিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি জানার জন্য পৃথক ফোনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮) সাপ্লাই এলাকায় দ্রুত কেবিল তার লাগানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে ঝুলে থাকা তার অবিলম্বে উপরে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্টেশন ম্যানেজার দাবীগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে স্থানীয় দাবীগুলি পূরণের আশ্বাস দেন।



No comments