রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন সরকারের প্রথম হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের বোর্ড মিটিং এ উপস্থিত চেয়ারম্যান জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারহলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন চেয়ারম্যান বোর মিটিং ডাকলেন এই বড়ে আট জন জনপ্রতিনিধি না র…
রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন সরকারের প্রথম হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের বোর্ড মিটিং এ উপস্থিত চেয়ারম্যান জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার
হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন চেয়ারম্যান বোর মিটিং ডাকলেন এই বড়ে আট জন জনপ্রতিনিধি না রেখেই এই বোর মিটিং সম্পন্ন হল। আটজন হলেন চেয়ারম্যান এইচডি জেলা শাসক নিরঞ্জন কুমার (আইএএস) পূর্ব মেদিনীপুর, পুলিশ সুপার পূর্ব মেদিনীপুর বোর মেম্বার অংশুমান সাহা আই পি এস, হলদিয়া কলকাতা হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এইচডি এ সদস্য, হলদিয়া এক্সিকিউটিভ অফিসার ডাইরেক্টর আই ও সি এল রিফাইনরি সুশান্ত কুমার দাস, কর্তৃপক্ষের(এইচডিএ) নতুন চিফ এগজিকিউটিভ অফিসারের দায়িত্বভার নিলেন বিবেক ভস্মে দত্তাত্রেয়। বোর্ড মেম্বার রয়েছেন আরবান ডেভেলপমেন্ট অফ ইন্ডাস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট গভমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল, মিনিস্ট্রি স্পেশাল সেক্রেটারি গোপাল রায় ডব্লু বি এ ফিনান্সিয়াল এডভাইসর গভমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল।
নিরঞ্জন কুমার জানান যারা জায়গা নিয়ে ফেলে রেখেছেন তাদের কাছ থেকে জায়গা নিয়ে নেওয়া হবে। যারা শিল্প করতে চায় তাদেরকে জায়গা দেওয়া হবে। হলদিয়া পেট্রো কেমিক্যাল ১০০ একর জায়গা চেয়েছে সে নিয়েও আজকের আলোচনা হবে। হলদিয়া নন্দীগ্রাম কেমনে মারি সেতুর পরীক্ষা এবং ড্রয়িং জমা দেওয়া হয়েছে। জায়গা অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান। রাজ্য সরকারের সময় নজর ইঞ্জিনিয়ার কে বদলি করা হয়েছিল হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কাজ না থাকায় সেই ৯ জন ইঞ্জিনিয়ার কে পুনরায় হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদে পুনর বহাল করা হয়েছে তিনি বলেন একসময় উন্নয়নের কাজ থমকে গিয়েছিল কাজ ছিল না বলেই তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। বর্তমানে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কাজ করার জন্য তাদেরকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের জায়গায় যারা বেদখল করে বসে রয়েছেন তাদেরকে ওই জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং তাদের সরিয়ে দেওয়ার কাজ ধারাবাহিকভাবে চলবে। আজকের বর মিটিং এ সরকারি তরফ থেকে তিনজন প্রতিনিধি অনলাইনে ছিলেন বাকি সকল সদস্য আজকের নতুন সরকারের প্রথম হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের ৯ জন ইঞ্জিনিয়ার বদলি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শিল্প তালুক হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওয়েস্ট বেঙ্গল টাউন অ্যাণ্ড কান্ট্রি (প্ল্যানিং এন্ড ডেভলপমেন্ট) অ্যাক্ট ১৯৭৯ অধীনে গঠিত একটি সংস্থা যা রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বোর্ড গঠিত হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮০ সালে ১লা এপ্রিল হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি হয়েছিল। হলদিয়া পরিকল্পনা এলাকা পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার ২৩৬০ .২৪২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। এতে রয়েছে তিনটি মহকুমার পনেরটি ব্লক ১৪৬ টি জি পি, তিনটি পৌরসভা এবং ১৫ টি সেন্সাস টাউন (সিটি) রয়েছে। এই সংস্থা হলদিয়া পেট্রো কেমিক্যাল সহ একাধিক শিল্প সংস্থার জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং পরিকাঠামো তৈরি সহায়তা দিয়েছে। উদ্বাস্তুদের জন্য হলদিয়ার ক্ষুদিরাম নগর, নিবেদিতা নগর, গান্ধীনগরের মতো প্রায় ৮ -৯ টি পুনর্বাসন কলোনি গড়ে তুলেছে। হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই এলাকা পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য। এই সংস্থার বাৎসরিক ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ।
হলদিয়া শিল্প তালুকে পরিকাঠামো শিল্পায়ন করতে গেলে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কাছ থেকেই জায়গা নিয়ে শিল্প স্থাপন করতে হতো সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমোদিত এই সংস্থা বাম আমলেই তৈরি হয়েছিল। হলদিয়ার শিল্প স্থাপন ও উন্নয়নে মূখ্য ভূমিকা নিয়ে ছিল। তার ফলে সেই হলদিয়া এখন তিলে তিলে তিলোত্তমা হয়েছে শিল্পনগরী হিসেবে।
গত ২৪ শে জুন ২০২৪ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক সভায় মন্তব্য করেছিলেন পৌরসভা রয়েছে সেখানে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ এবং দীঘা উন্নয়ন পর্ষদ রেখে লাভ কি রয়েছে? গত ২৮ শে জুন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের বোর্ড সভা ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সেই বোর্ড সভা পিছিয়ে যায়। গত ২৪ শে জুলাই বোর্ডের সভা হয় সেই সভায় জেলা শাসক, পুলিশ সুপার এবং নির্দিষ্ট বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একগুচ্ছ প্রকল্পে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর। প্রায় এগারোটি নতুন কারখানা শিল্পস্থাপনের জন্য জায়গা চেয়েছিল সেই জায়গাগুলি অনুমোদন দেওয়া জন্য বোর্ড মিটিংয়ে রাজ্য সরকারের কাছে তা অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের ৯ জন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তাদের বদলির নির্দেশ এসে গেল।
যদিও সূত্রে জানা যায় এই নির্দেশ বলা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারদের রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ডেভলপমেন্ট অথোরিটি রয়েছে সেগুলোতে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কি হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের হলদিয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সত্যি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
এই ৯ জনের তালিকায় রয়েছেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের সুপারিনটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার তড়িৎ পাল তাকে বদলি করা হলো এনকেডিএ( নিউ টাউন কলিকাতা ডেভলপমেন্ট অথোরিটি) তে এছাড়া এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার একজন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দুজন, সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদায় পাঁচজন, ইঞ্জিনিয়ার কে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে কাহকে হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশন, কাহকে খড়গপুর মেদিনীপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি আবার কাউকে আরামবাগ পৌরসভা তে বদলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা করে বদলির নির্দেশ এসেছে নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে। এই বদলি কি রুটিন বদলি? না তুলে দেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বদলি।
এরপরে কি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অন্যান্য আধিকারিকদের বদলি করা হবে ? সে নিয়েও এখন সকলে ধন্দে রয়েছে। বিএমএস রাজ্য সভাপতি প্রদীপ বিজলী বলেন শাসক দলকে হলদিয়ার মানুষ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর সে জন্যই ভাতে না মেরে হাতে মারার চেষ্টা করছে। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের কারখানাগুলো থেকে যে টাকা আসতো সেগুলো যদি হলদিয়া এলাকায় খরচা হতো তাহলে হলদিয়া শিল্প শহর একটি মডেল স্মার্ট শহর হিসেবে পরিণত হতো । কিন্তু শাসক দল সেটা কোনদিন করেনি যখন লোকসভা বিধানসভা ভোটে শাসক দলের পরাজয় হয়েছে হলদিয়ার মানুষ শাসক দলের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তখনই হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সংস্থাটিকে হাতের পুতুল করে রাখার চেষ্টা করছে শাসক দল। তিনি আরোও বলেন এই দল রাজ্যের ক্ষমতায় থাকলে হলদিয়া টাকে শ্মশানে পরিণত করবে এবং সারা রাজ্যে আগামী দিনও ঘটাবে শুরু করেছে হলদিয়া থেকে। তাই এই দলটাকে আগামী বিধানসভায় মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে।যদিও এই নির্দেশ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বিশেষ সূত্রে জানা যায় নয় জন ইঞ্জিনিয়ারের বদলির নির্দেশ হলদিয়া ডেভলপমেন্ট এক্সিকিউটি ভ অফিসার কে জানিয়েছেন আর সে কথা আধিকারিকদের মধ্যে চাউর হতেই হলদিয়ার সকলের মুখে মুখে এখন একটাই কথা তাহলে সত্যিই হলদিয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটি উঠে যাচ্ছে?
No comments