আজ থেকে শুরু হলো রাজ্য বাজেট অধিবেশনঅষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি ডবল ইঞ্জিন সরকার।যার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৫ শে জুন চলবে এই অধিবেশন।…
আজ থেকে শুরু হলো রাজ্য বাজেট অধিবেশন
অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি ডবল ইঞ্জিন সরকার।যার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৫ শে জুন চলবে এই অধিবেশন। আগামী ২২ শে জুন বাজেট পেশ হতে চলছে। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাস গুপ্ত বিধানসভায় এই পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন। আজ ১৮ ই জুন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো অষ্টাদশ বিধানসভার রাজ্যে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। সংসদীয় রীতি ও প্রথা মেনে রাজ্যপাল আরএন রবির উদ্বোধনী সূচনা ভাষণ এর মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। আগামী ২৫ শে জুন পর্যন্ত বিধানসভায় এই বাজেট অধিবেশন চলবে।
বিজ্ঞাপন-
রাজ্যপালের উদ্বোধনী ভাষণে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের নারী সুরক্ষা অনুপ্রবেশ সমস্যা শিল্প পরিকাঠামো কৃষি এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত জোরালো ভাবে উঠে এসেছ। একইসঙ্গে নিজের ভাষণের ছাত্রে ছাত্রে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে পরোক্ষে কড়া নিশানা করেছেন রাজ্যপাল।
রাজ্যপালের বক্তৃতার ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন
https://youtu.be/EhzyWvgwkXI
দুর্নীতি ও তোলাবাজি রূপে জিরো টলারেন্স
রাজ্যপাল আরএন রবি তার ভাষার স্পষ্ট করে দেন যে নতুন সরকারের প্রধান এবং প্রথম লক্ষ্যই হলো রাজ্য থেকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও তোলাবাজির শিকড় উপড়ে ফেলা। বাংলায় পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং সব ধরনের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করাই এই সরকারের মূলমন্ত্র।
তিনি এও বলেন রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষাকে নিচ্ছিদ্র করতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি দায়বদ্ধ। পাশাপাশি মহিলাদের উপর হওয়া যেকোনো ও ধরনের অত্যাচার রোধে প্রশাসন এবার থেকে জিরো টলারেন্স বা শূণ্য সহনশীলতার নীতি নিয়ে চলবে। মানব পাঁচার উক্তেও কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সরকারি জমির অবৈধ দখলদারী যেমন রোখা হবে তেমনি বিগত দিনে চলা বালি পাচা এবং খনিজ সম্পদ লুট রক্তে ও বড় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যপাল তার ভাষণে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বাংলার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রকল্প যেমন আয়ুষ্মান ভারত বা পিএম আবাস থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে নতুন রাজ্য সরকার বাংলার প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের কাছে এই সমস্ত কেন্দ্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম প্রচেষ্টা চালাবে।
শিল্প পরিকাঠামো ক্ষেত্র নতুন রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল তিনি জানান পশ্চিমবঙ্গ কে আবারো দেশের শিল্পের শীর্ষ ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসাই নতুন প্রশাসনের লক্ষ্য। এর জন্য বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে যে সমস্ত জমি অধিকৃত হওয়ার পর ব্যবহৃত বাদ ফেলে রাখা হয়েছিল সেগুলিকে পুনরুদ্ধার করে সরাসরি নতুন নতুন শিল্পে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি বাংলার দীর্ঘ উপকূলীয় পরিবহন অন্তর্দেশীয় জলপথ পরিবহন এবং মৎস্য চাষের আধুনিকরণের ও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
শিক্ষা ও চাকরি নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা। রাজ্যপালের
বিগত আমলে নিয়োগ দুর্নীতিকে পরোক্ষে কটাক্ষ করে রাজ্যপাল কর্মসংস্থান এবং শিক্ষাব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন এবার এ রাজ্য পুরো সম্পূর্ণভাবে লাগু হতে চলেছে জাতীয় শিক্ষানীতি এন ই পি। আর পুরনো সরকারের দুর্নীতি এড়াতে বর্তমান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ শূন্য পদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে।
স্পষ্ট করে দেন প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এবার থেকে প্রতিবছর প্রতি নিয়মিতভাবে টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষকের সঠিক অনুপাত বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হবে। এবং গ্রন্থাগার ও লাইব্রেরী গুলিকে আধুনিকরণ পরিকাঠামোয় আনা হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশের জন্য সেখানে একটি নতুন আইটিআই গড়ে তোলার বড় ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল। যুব সমাজের পতিতার বার্তা বাংলার মেধাবী যুবসমাজ যাতে চাকরির খোঁজে ভিন রাজ্যে বা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে চলে যেতে বাধ্য না হয় তার জন্য রাজ্যে বিশাল স্টার্ট আপ গড়ে তোলা হবে, যা বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর হতে প্রভূত সাহায্য করবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে ও বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগলিকে নতুন করে খোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রথম দিনের বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের এই দীর্ঘ ভাষণ রাজ্যবাসীকে এই বার্তা দিল যে বাংলায় আর ভয়ের পরিবেশ নেই বরং এক নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের ভরসার হাত রয়েছে তাদের মাথার উপর।


No comments