Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর মামলায় স্বামী শশুরের সাজা, জানালেন সরকারি পক্ষের আইনজীবী সোমনাথ ভূঁইয়া

পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর মামলায় স্বামী শশুরের সাজা, জানালেন সরকারি পক্ষের আইনজীবী সোমনাথ ভূঁইয়া
পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর মামলায় স্বামী ও শ্বশুরের সাজা, দু'জনকে অব্যাহতি।দীর্ঘ ১৩ বছর পর পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর ম…

 


পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর মামলায় স্বামী শশুরের সাজা, জানালেন সরকারি পক্ষের আইনজীবী সোমনাথ ভূঁইয়া


পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর মামলায় স্বামী ও শ্বশুরের সাজা, দু'জনকে অব্যাহতি।দীর্ঘ ১৩ বছর পর পণ-নির্যাতন ও গৃহবধূ মৃত্যুর মামলায় স্বামী এবং শ্বশুরকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করল হলদিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের ফাস্ট ট্র্যাক আদালত।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মৃত আমিনা বিবির স্বামী সেক রহিম আলিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩০৪বি ধারায় তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আমিনার শ্বশুর সেক রেজ্জাককে ৪৯৮এ ধারায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাবাস এবং ৩০৪বি ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সরকারি পক্ষের আইনজীবী সোমনাথ ভূঞ্যা জানান, ২০০৯ সালের ৩০ মে নন্দকুমার থানার কমোরআড়া গ্রামের সেক আসানুল্লার কন্যা আমিনা বিবির সঙ্গে সুতাহাটা থানার তাজপুর গ্রামের সেক রেজ্জাকের পুত্র সেক রহিম আলির মুসলিম রীতি মেনে বিবাহ হয়।

অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা পণের দাবিতে আমিনার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। আমিনার বাবা সেক আসানুল্লা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসা করে তাঁকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

দাম্পত্য জীবনে তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও ছিল।

২০১৩ সালের ১৩ মে সেক আসানুল্লা ফোনে খবর পান যে তাঁর মেয়ে আমিনার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আমিনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে তমলুক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে আরও শারীরিক অবনতির কারণে নন্দকুমারের খেজুরবেড়িয়া বিএইচপিএইচসিতে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ মে ২০১৩ সালে মৃতার বাবা সেক আসানুল্লা তাঁর জামাই, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর এবং ননদের বিরুদ্ধে সুতাহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের পর পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ, ৩০৪বি, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় চার্জশিট জমা দেয়।

২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর হলদিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিচার চলাকালীন আমিনার শাশুড়ি রহিমা বিবির মৃত্যু হয়।

২০২৬ সালের ১৬ জুন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক), হলদিয়ার বিচারক অপর্ণা চৌধুরী সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সেক রহিম আলি ও সেক রেজ্জাককে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ/৩০৪বি/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে অভিযুক্ত ননদ ও দেবরকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

No comments