Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

১৩ বছর পর লালবাড়ি মহাকরণ ফিরছে নতুনভাবে, মন্ত্রিসভা কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বৃদ্ধ রাইটার্স বিল্ডিং

১৩ বছর পর লালবাড়ি মহাকরণ ফিরছে নতুনভাবে, মন্ত্রিসভা কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বৃদ্ধ রাইটার্স বিল্ডিংনবান্ন নয় মহাকরণ রাইটার্স বিল্ডিং লালবাড়ি এই 13 বছর পর রাজ্য রাজ্য পাট ফিরছে অবহেলায় পড়ে থাকা 13 বছর ধুলোবালি সরিয়ে যৌনস ফি…

 


১৩ বছর পর লালবাড়ি মহাকরণ ফিরছে নতুনভাবে, মন্ত্রিসভা কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বৃদ্ধ রাইটার্স বিল্ডিং

নবান্ন নয় মহাকরণ রাইটার্স বিল্ডিং লালবাড়ি এই 13 বছর পর রাজ্য রাজ্য পাট ফিরছে অবহেলায় পড়ে থাকা 13 বছর ধুলোবালি সরিয়ে যৌনস ফিরছে লালবাড়ি কতটা প্রস্তুত রাইটার্স বিল্ডিং


ভোট প্রচারে বিজেপি জানিয়েছিল ভোটে জিতলে মহাকরণ ই হবে রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবন। ৪ মে সোমবার ফলাফল ঘোষণার পর মঙ্গলবাড়ী মহাকরণ মেরামতি যুগ প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। নতুন দপ্তর তড়িঘড়ি মূল ব্লকে মেরামতি ও পুনর্জীবন শুরু করে।

রাজ্যের হারানো গরিমা ফিরে পাচ্ছে মহাকরণ এর রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবনের তকমা আবার ফিরে পাচ্ছে রাইটার্স বিল্ডিং । নবান্নের পাঠ চুকিয়ে প্রায় দেল দশক পর আবার লালদিঘির উল্টোদিকে লাল বাড়িতে তৎপরতা চোখে পড়ার মত। রাজনৈতিক বালাবদলের পরে যৌলস ফিরছে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের। কারণ ব্রিটিশ আমলের এই হেরিটেজ ভবনি বসবেন বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

২০১৩ সালে মহাকরণ ছেড়ে গঙ্গাপারের নবান্নে রাজ পাট বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছেড়ে যাওয়া আগের কথা ছিল মাছ পাঁচেকের মধ্যে মহাকরণে ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফলাউ করে ব্রিটিশ আমলের হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের কাজের কথা জানিয়েছিলেন তৃণমূল সরকার। গত 13 বছরের সেই কাজ শেষ হয়নি, গত কয়েক বছর ওই বাড়ি খা খা করত। হেরিটেজ ভবনটি সংস্কারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও সেই কাজ এই কয়েক বছরে এগিয়েছে শম্বুক গতিতেই। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে সংস্কারের কাজ। বহিরঙ্গ ও অন্দরমহলে ছাড়াইয়ের হাত পড়লেও কাজ সেভাবে এগোয়নি। বেশিরভাগ অংশে এখনো ভাঙাচোরা দশা। ২০১৩ সালে অক্টোবরে শুরু হয় মহাকরণের সংস্কারের পর্ব। মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় সহসভা দপ্তর স্থানান্তরিত হয় হাওড়া নবান্ন ভবনে। স্থানান্তরের আগে পর্যন্ত এই ভবনে রাজ্য সরকারের ৩৪টি দপ্তর ছিল। সব মিলিয়ে কর্মরত ছিলেন প্রায় ছয় হাজার কর্মী। তারা স্থানান্তরিত হন নতুন কার্যালয়ে নবান্নে।

মহাকরণ সূত্রের খবর বর্তমানে পুর নগর উন্নয়ন দপ্তর আইন সহ কয়েকটি ছোট দপ্তর থাকলেও তেমন ব্যস্ততা ছিল না। নেই। পাহারায় থাকা পুলিশকর্মীদেরও  তেমন ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়নি। এছাড়া বেশ কিছু দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের নিত্য হাজিরা দিতে হতো এখানেই। মহাকরণের সেই ঢিলেঢালা চেহারা এখন উধাও। ৮ মে এরপর থেকে রাতারাতি ভোল বদলাতে শুরু করেছে লাল ইটের বাড়ি। প্রশাসনিক সদর যে বদলে গিয়েছে। ভোট প্রচারে বিজেপি জানিয়েছিল ভোটে জিতলে মহাকরণ হবে রাজ্যের মূল প্রশাসনিক ভবন। ৪ঠা মে সোমবার ফলাফল ঘোষণার পর মঙ্গলবার মহাকরণ মেরামতির জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। নতুন সরকার রাইটার্স থেকে কাজ করবে। এ কথা জানার পরেই পূর্ত দপ্তর তৈরি ঘড়ি মূল ব্লকের মেরামতি ও পুনরুজ্জীবন শুরু করে। আনাগোনা বাড়ি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের। আবার পা পড়ে সাংবাদিকদের সব মিলিয়ে সেই ঝিমিয়ে পড়া ভাব উধাও এক লহমায়। ৯ই মে বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণের আগেই কমলা আলোয় সেজে উঠেছিল শতাব্দী প্রাচীর এই ভবনটি। তার গায়ে পড়েছে রঙের পোঁচ ও। মহাকরণের ভিতরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সহ বিজেপি নেতৃত্বের ছবি দেওয়া সুবিশাল ফ্লেক্স জানান দিচ্ছে সেই তৎপরতাকেই। সরেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামের ফলক। যদিও জ্যোতি বসু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা যে ঘরে  বসে কাজ চালাতেন সেই ঘরেই বসবেন না শুভেন্দু। দোতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের ঠিক উপরে একটি ঘর সাজানো হচ্ছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জন্য।

বিশেষ সূত্রে খবর পূর্ত দপ্তরের একটি শাখা যাদের অধীনে মহাকরণ ভবনের একটি ব্লকে স্থানান্তরিত হয়েছে বিদ্যুৎ ও নির্মাণের কাজের পরিকল্পনা এবং তা কার্যকর করার জন্য। মহাকরণের দ্বিতীয় তলে একটা সময় সার দিয়ে বসতেন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য সচিব স্বরাষ্ট্র সচিব অর্থ সচিব সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা। তৃতীয় তলেও সার দেওয়ার ঘরে এক একটিতে ছিল এক এক জন মন্ত্রীর দপ্তর। গোটা মহাকরণ কে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। রাজ্য প্রশাসনের মুখ্য দপ্তরের কৌলিন্য হারানোর পর সেই ব্যস্ততা আর চোখে  পড়তো না শেষ 13 বছর। উধাও হয়ে যায় মহাকরণের গম গমে ভাব। একতলা দোতলার সারি সারি ঘর গুলি ছিল তালা বন্ধ। খা খা করত করিডর বারান্দা গুলি। মহাকরণ সংস্কারের মূল দায়িত্ব রাজ্যের পূর্ত দফতরে। সেই স্বার্থে লাল বাড়ির মাঝের বেশ কিছু অংশ পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন ইট সুরকির কাঠামো পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই অনেকটা সময় লেগেছে। তাদের কথায় প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো এই ভবন যে ভিতরে ভিতরে এত জীর্ণ হয়েছে তা খালি চোখে ধরা পড়েনি। তাই খুব সাবধানে দেওয়ালের পলেস্তারা খসিয়ে সংস্কারের কাজ এগোচ্ছে। মেঝের পুরনো নকশা দারটালি চটিয়ে নতুন করে ঢালাইয়ের কাজ চলছে প্রতিটি তলায়। ভিন রাজ্য থেকে টালিগুলি নতুন করে আনানোর বিপুল খরচ। তাই মেঝের সমস্ত টালি চটিয়ে হ্যাল ফ্যাশনের টালি বসানোর কাজ চলছিল। মূল ব্লকের তিনটি তলার সেই কাজ বেশ কিছুটা হলেও এগিয়েছে। ক্রিমরাঙ্গা টালিতে  সেজে উঠেছে টানা বারান্দার মেঝে। মন্ত্রীদের ঘরগুলিতে বসেছে কাঠের নতুন দরজাও।

স্বাধীনতার পর বিধানচন্দ্র রায়ের আমল থেকেই মহাকরণের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়েছে নতুন আরো চারটি ভবন। ওই চারটি ভবন ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে। তার বদলে পিছনের ব্লক গুলিকে আরো চওড়া করে মহাকরণের একটি সার্বিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে তৃণমূলের আমলে। সেই ফাঁকা অংশের একতালা ভবন তৈরি করে তা জুড়ে দেওয়া কথা বলা হয়েছে মেন ব্লক এবং পিছনের ব্লকের সঙ্গে।

ওই ভবনগুলি পার্কিং ভিআইপি লাউঞ্জ, ক্যান্টিন রেস্তোরায় ইত্যাদি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। উপরের ছাদে তৈরি হবে বাগান। একটি অংশে একটি জাদুঘর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মহাকরণের একতলার ক্যান্টিনগুলি অবশ্য এখনো চলছে বহাল তবিয়তে। সকাল থেকেই অল্প অল্প ভিড় জমে খাওয়ার জায়গাগুলিতে। মহাকরণের প্রাচীন লিফট গুলি এই সে দিনও ছিল দিব্যি কর্মক্ষম। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মহাকরণে এসে লিফটে করে উঠে পড়তেন উপরে এবং করিডর দিয়ে হেঁটে ঢুকতেন নিজের ঘরে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যকর নেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উঠানামার জন্য সিঁড়ি ও লিফট দুই ব্যবহার করতেন। ইতিমধ্যেই ভিআইপি লিফটে মুখ্যমন্ত্রী যেটাই ব্যবহার করতেন সরিয়ে স্বয়ংক্রিয় আধুনিক লিফট জায়গা করে নিয়েছে। ধীরে ধীরে বাকি লিফট ও বদলের খেলা বদলে ফেলা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি ইতিমধ্যেই পূর্তকর্তা এবং ইঞ্জিনিয়ারের দল পরিদর্শন করেছেন মূল এলাকাগুলি। দ্বিতীয় তাহলে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য সচিব স্বরাষ্ট্র সচিব বা অন্যদের ঘর গুলি আগে যে যেখানে বসতেন প্রাথমিক মেরামতি হয়েছে। এখন বাকি অন্য কাজকর্ম। বিদ্যুতের লাইন টানার পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতিমধ্যে। মনে করা হচ্ছে শীঘ্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ শুরু হবে। সেখানে জোর দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার উপরেও। প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৫ সালে যাদবপুর বিশ্বাসবিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি কমিটির রিপোর্ট দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে

। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সরকার একটি অভিজ্ঞ সংস্থাকে বাছাই করে। তারপর মহাকরণ সংস্কারে আসল কাজ শুরু হয়। সেই কাজ শেষ হতে বছর দুয়েক লাগবে এমনটাই মনে করা হয়েছিল।

প্রায় দশক পার করেও আসল কাজের চার ভাগের একভাগ শেষ করতে পারেনি ভাগ প্রাপ্ত সংস্থা। এমন অভিযোগ মহাকরণের অন্দরেই। নতুন সরকার এসে রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তরের সংস্কার কবে কত দ্রুত শেষ করতে পারে সেটাই এখন দেখার।

No comments