রাজ্যের পালাবদল হতেই দুর্নীতি এলো প্রকাশ্যেই। বিভিন্ন দুর্নীতি বিগত রাজ্য সরকারের সময় ঘটেছে তা দিয়ে গত অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে শাসক বিরোধী দলের প্রচার ছিল তুঙ্গে। রাজ্যে দুই দফার এবারে নির্বাচন শেষ হয়েছে চৌঠা মে নির্বাচনের …
রাজ্যের পালাবদল হতেই দুর্নীতি এলো প্রকাশ্যেই। বিভিন্ন দুর্নীতি বিগত রাজ্য সরকারের সময় ঘটেছে তা দিয়ে গত অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনে শাসক বিরোধী দলের প্রচার ছিল তুঙ্গে। রাজ্যে দুই দফার এবারে নির্বাচন শেষ হয়েছে চৌঠা মে নির্বাচনের ফলাফল আসতেই দুর্নীতির অভিযোগে শাসকদলকে ধুয়ে মুছে সাপ গেরুয়া ঝড়ে। আগামী ৯ই মে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তার আগেই রেশনের মজুদ করা চাল বিক্রি হাতেনাতে ধরা পরল এলাকার মানুষের হাতে প্রকাশ্যে স্বীকার করল পুলিশের সামনে চাল গোডাউন থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন শুধু এক বস্তা নয় কুড়ি বস্তা চাল। গ্রামের মানুষ অভিযোগ দায়ের করেছেন সুতাহাটা থানায় পুলিশ এবং খাদ্য দপ্তরে আধিকারিরা উপস্থিত হয়েছেন এবং চাল বিক্রেতা রেশন ডিলার প্রদীপ পতি ও রেশনের চাল ক্রেতা গাড়ির ড্রাইভার আব্দুল মজিদ দুজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসা বাদ চলছে।
রেশনের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে চালের গাড়ি আটকালেন গ্রামবাসীরা।তাদের অভিযোগ, দেউলপোতার রেশন ডিলার প্রদীপ পতি গ্রাহকদের রেশনে কম চাল দিয়ে চাল মজুত করে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। আজ টোটোতে করে চাল পাচারের সময় গ্রামবাসীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চাল বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দেউলপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুরজিৎ রানা, হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতি বিরোধী দলনেতা হরিহর চক্রবর্তী সুতাহাটা থানার পুলিশ, ধৃত টোটো চালক শেখ আব্দুল মজিদ বলেন, “আমাকে রেশন ডিলার প্রদীপ ডেকেছিল চাল নিয়ে যাওয়ার জন্য। টাকা দিয়ে চাল নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে ধরে গ্রামবাসীরা। এর আগেও আরো দশ বস্তা চাল নিয়ে গিয়েছিলাম”।
দেউলপোতার বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র মাইতি, রানুবালা দিন্ডা বলেন,“রেশনে চাল কম দেয়। বাকি চাল বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে। আগেও করেছিল, তখন ভয়ে বলতে পারিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর সাহস করে আজ চালের গাড়ি আটকেছি”।অভিযুক্ত রেশন ডিলার প্রদীপ পতি বলেন, “ওই চাল আমার রেশন দোকানের নয়। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চাল তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। গ্রামবাসীরা সেই চাল আটকেছে। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে”।
হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা হরিহর চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। গোডাউন সিল হওয়ার ভয়ে এখন কালোবাজারে চাল বিক্রি করছে। যাকে গ্রামবাসীরা ধরেছে, তার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছে। সে প্রতিদিন টোটোতে করে চাল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। আমরা খাদ্য দফতরে ফোন করেছি। সুতাহাটা থানার পুলিশ এসেছে”।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সুতাহাটা থানার পুলিশ ও খাদ্য দফতরের অফিসাররা। চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সুতাহাটা থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই রেশন ডিলার এবং টোটো চালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। টোটো-সহ চাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

No comments