পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দায়িত্ব অবশেষে রাজ্যপালের হাতে বিজ্ঞপ্তি জারি: বৃহস্পতিবার ৭ ই মে লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদে (২) ধারার (খ) উপধারার অধীনে আমাকে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে,…
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দায়িত্ব অবশেষে রাজ্যপালের হাতে
বিজ্ঞপ্তি জারি:
বৃহস্পতিবার ৭ ই মে লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদে (২) ধারার (খ) উপধারার অধীনে আমাকে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমি আতত দ্বারা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ৭ ই মে ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর ভাবে ভেঙ্গে দিচ্ছি ।এখন থেকে রাজ্যপালের উপর দায়িত্ব-রাজ্যের। রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করলো লোক ভবন রাজ্যপালের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে সাথী মে বৃহস্পতিবার থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে, প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থমন্ত্রী মমতা কে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল। আবার তাকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত "তদারকি মুখ্যমন্ত্রী" হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এখন রাজ্যে ভার কার হাতে? অর্থাৎ শনিবার শপথের আগে বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকছে?
এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট জবাব কারোর কাছে নেই কারণ এমন পরিস্থিতি যে কখনো তৈরি হতে পারে সেই আগাম আন্দাজ কারোর কাছে ছিল না কোন মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না দিতে পারেন তেমন অভিনব পরিস্থিতি কথা সংবিধানে প্রণেতাদের মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলেছেন এই পরিস্থিতিতে ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট (খামখেয়াল) হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ প্রথমত রাজ্যে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। কিন্তু সেই মুহূর্তে নতুন একটি মন্ত্রিসভা কে আত্মপ্রকাশ করতে হবে এমন কোথাও লেখা নেই। দ্বিতীয়তঃ রাজ্যের শাসন কাজ চলে রাজ্য পালের নামে। মন্ত্রিপরিষদ একটি ডেলিগেটেড পাওয়ার এনজয় (প্রদত্ত ক্ষমতা ভোগ) করে রাজ্যপালের হয়ে কাজ চালায়। নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা অন্তত এইরকমই। এই মুহূর্তে যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা বা মন্ত্রিসভা রইল না, তাই বৃহস্পতিবার আজ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যপালের ক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য কোন ডেলিগেশন বা প্রতিনিধি রইল না। সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল আপাতত সরাসরি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন অর্থাৎ রাজ্যে ভার থাকবে তারই হাতে। অনেকের মতে ,চাইলে রাজ্যপাল দেড় দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারতেন। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল রবি তা করছেন না বলেই খবর। অন্তত এই মর্মে লোক ভবন থেকে কোন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদে ২নম্বর ধারা ( বি) উপধারা অনুসারে ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া নির্দেশ জারি করেছেন। সংবিধানের ধারা মেনে সেই নির্দেশ বলবৎ করা হয়েছে। তার অর্থ মমতার নেতৃত্বাধীন সপ্তদশ বিধানসভার আর কোন অস্তিত্ব নেই। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় বিদায় সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। কিন্তু তারপর সরকারের দায়িত্ব কে থাকবেন তার লোক ভবনের তরফে জানানো হয়নি। তাদের শুক্রবার রাজ্যপাল বিজেপিকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বলেন লোক ভবন সূত্রের খবর। বিজেপির তরফে বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল শনিবার বিজেপির নতুন সরকারকে শপথ গ্রহণ করাবেন।
ভোটের ফল ঘোষণার পরের দিন মঙ্গলবার মমতা বলেছিলেন কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোরকরে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে? তিনি লোক ভবনে গিয়ে সরকারিভাবে ইস্তফা দেননি। বরং বলেছিলেন ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। রাজ্যপাল অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বরখাস্ত করেননি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুধু সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

No comments