Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

উপস্থিত বুদ্ধি: আশিস কুমার পণ্ডা

উপস্থিত বুদ্ধি: আশিস কুমার পণ্ডা
এক নামী ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অভিজ্ঞ সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের একটি দল প্রতিটি প্রার্থীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সাক্ষাৎকারের ঘরটি ছিল নিস্তব্ধ, চাপা উত্তেজনায় ভরা। এখানে শুধু সঠিক বা ভুল …

 




উপস্থিত বুদ্ধি: আশিস কুমার পণ্ডা


এক নামী ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অভিজ্ঞ সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের একটি দল প্রতিটি প্রার্থীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সাক্ষাৎকারের ঘরটি ছিল নিস্তব্ধ, চাপা উত্তেজনায় ভরা। এখানে শুধু সঠিক বা ভুল উত্তরের বিষয় ছিল না—তারা দেখছিলেন প্রত্যেকে কীভাবে চিন্তা করে।


একজন যুবক ভেতরে ঢুকল। তাকে কিছুটা নার্ভাস দেখালেও তার মনোভাব দৃঢ় ছিল। প্যানেলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সে বসে পড়ল।


একজন প্রশ্নকর্তা বললেন, “আমরা তোমাকে দু’টি পছন্দের মধ্যে একটি নেওয়ার সুযোগ দেব। হয়, তুমি দশটি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারো… অথবা একটি কঠিন প্রশ্নের। ভালো করে ভেবে নাও। তোমার ভর্তি এর ওপর নির্ভর করছে।”


ছেলেটি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না। মনে মনে সে হিসেব-নিকেশ শুরু করলো। দশটি সহজ প্রশ্ন—নিরাপদ মনে হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত। একটি কঠিন প্রশ্ন—ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু পরিষ্কার।


সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “আমি একটি কঠিন প্রশ্নই নেব।”


প্যানেলের সদস্যরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। “ঠিক আছে,” একজন বললেন। “বল তো… দিন আগে আসে, না রাত?”


ছেলেটি বুঝতে পারল, বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে প্রশ্নটি এত সহজ নয়। দিন আর রাত আলাদা কিছু নয়—পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে তৈরি একটি চলমান চক্র। তাই “কোনটা আগে”—এই প্রশ্নটাই আসলে অসম্পূর্ণ। এটা নির্ভর করে আমরা কোথা থেকে এবং কখন এই চক্রটি দেখছি। সে বুঝল, প্রশ্নটি আসলে তথ্যের নয়—চিন্তার। তাই সে তাড়াহুড়ো করল না, পৃথিবীর ঘূর্ণন নিয়ে বড় ব্যাখ্যাও দিতে গেল না। সে শুধু স্থির থাকল, সচেতন থাকল।


কয়েক সেকেন্ড পরে সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল,“রাত, স্যার।”


একজন প্রশ্নকর্তা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “কীভাবে?”


ছেলেটি শান্তভাবে উত্তর দিল, “স্যার, আপনাদের যথাযথ সম্মান জানিয়ে বলছি… আপনি আমাকে একটি মাত্র কঠিন প্রশ্ন করার কথা বলেছিলেন। দ্বিতীয় প্রশ্নের কোন সুযোগ নেই।”


কিছুক্ষণ নীরবতা নেমে এল।


তারপর প্যানেলের প্রশ্নকর্তারা একসঙ্গে হেসে উঠলেন। তারা তাদের উত্তর পেয়ে গেছেন —শুধু প্রশ্নের নয়, ছেলেটিরও। সে নির্বাচিত হল।


আসলে এখানে কী ঘটেছিল? প্রশ্নটি আসল পরীক্ষা ছিল না। আসল পরীক্ষা ছিল—


➤ সে কি চাপের মধ্যে শান্ত থাকতে পারে?


➤ সে কি মন দিয়ে শুনতে পারে?


➤ সে কি তাড়াহুড়ো না করে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারে?


সে দেখাতে চায়নি সে কত কিছু জানে। সে দেখিয়েছে সে কত ভালোভাবে ভাবতে পারে।


মূল শিক্ষা:


আমরা প্রায়ই মনে করি জীবনে সফলতা মানে সব প্রশ্নের উত্তর জানা। কিন্তু তা সবসময় সত্যি নয়।


অনেক সময় সফলতা আসে—আতঙ্কিত না হয়ে, থেমে যাওয়া থেকে; প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, পর্যবেক্ষণ করা থেকে; তাড়াহুড়ো না করে, ভেবে উত্তর দেওয়া থেকে।


ছেলেটির জয়ের কারণ তার বুদ্ধির শ্রেষ্ঠত্ব ছিল না। আসল কারণ হলো, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সে-ই সবচেয়ে বেশি সচেতন ছিল।


তাই যখন জীবনে চাপ আসে—পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার বা কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে—তখন তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিও না। একটু থামো। মনটা পরিষ্কার করো। কি জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, সেটায় মন দাও। কারণ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, শুধু তুমি কী জানো তা নয়…তুমি কীভাবে ভাবো, সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

No comments