প্রথম দফায় দুই ফুলের টক্করের জমিতে ভোট বিধানসভায় হিসেবে বলছে লোকসভায় ১৫২ টি আসনে বহুমুখী সমীকরণ।২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া পরে ২০২১ বিধানসভা বেশ কিছুটা সামাল দিয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই খতে আরো ক…
প্রথম দফায় দুই ফুলের টক্করের জমিতে ভোট বিধানসভায় হিসেবে বলছে লোকসভায় ১৫২ টি আসনে বহুমুখী সমীকরণ।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া পরে ২০২১ বিধানসভা বেশ কিছুটা সামাল দিয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই খতে আরো কিছুটা প্রলেপ দিতে সমর্থ্য হয়েছিল রাজ্যে শাসক দল কিন্তু নতুন করে ক্ষত ও তৈরি হয়েছে তৃণমূলের সেসব জায়গায় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। জেলা ১৬টি আসনে ১৫২ টি বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ সমগ্র উত্তরবঙ্গ এবং গোটা জঙ্গলমহলে পাশাপাশি ভোট হবে মুর্শিদাবাদ বীরভূম পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসন এই ভোটটি মূল জুজুর ধাম দুপক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি হয়ে চাইবে যথা সম্ভব দাপট দেখিয়ে রাখতে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ভাষায় পাওয়ার প্লে তে যথাসম্ভব রান তুলে রাখতে।
গত পাঁচ বছরে দুটি বড় ভোটে 2021 সালে বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই ১৫২ টি আসনে শেয়ানে শেয়ানে লড়াই ছিল তৃণমূল এবং বিজেপি। গত বিধানসভায় যে ফল হয়েছিল লোকসভায় তার অনেক কিছু বদলে গিয়েছিল। এই বিধানসভা নির্বাচনে আগে ১৫২ টি আসনে কেবল বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই নয় বরং বহুমুখী সমীকরণ তৈরি হয়েছে গত বিধানসভা ভোটের ৩ বছরের মাথায় হয়েছিল লোকসভা ভোট। সেই নির্বাচনে বেশ কিছু হিসেবে বদল হয়েছিল লোকসভা নির্বাচনে দু বছরের মাথায় হতে চলেছে বিধানসভা ভোট সেখানেও হিসেব বদলে বিভিন্ন উপকরণ মজুত।
প্রথম দফায় ভোটে ১৫২ টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল ৯২ টি তে। বিজেপি দখলে ছিল ৫৯ টি আসন। পাহাড়ের একটি আসন পেয়েছিল নির্দল। কিন্তু লোকসভা ভোটে বিধানসভার ভিত্তিক ফলাফলে বিস্তর বদল ঘটে গিয়েছিল। ৯২ থেকে কমে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা বিধানসভা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ টি। বিজেপি পূর্বসার থেকে সামান্য কমেছে, তারা এগিয়েছিল ৫৩ টি আসনে। ২০২১ সালে যে বাম কংগ্রেস শূন্য তারা আবার গত লোকসভা ভোটে বারোটি বিধানসভায় এগিয়েছিল। এরমধ্যে কংগ্রেস ১১ টি এবং বামেরা একটিতে।
ঘটনাচক্রে বাম কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা বিধানসভা গুলি তিনটি জেলায় সীমাবদ্ধ- মালদহ মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর। এই তিন জেলাতেই গত বিধানসভা ভোটে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। ১৯৯৮ সালের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করার পরে এই তিন জেলায় এমন সাফল্য কখনো পায়নি জোড়া ফুল শিবির।
প্রসঙ্গত এই তিন জেলার ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পরে ২০২১ সালে বিধানসভা তে তাও কিছুটা সামাল দিয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই খতে আরো কিছুটা প্রলেপ দিতে সমর্থক হয়েছিল রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল মিলিয়ে মোট চারটি লোকসভা আসনে বিজেপি থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। আবার বিজেপি ও পাল্টা ধাক্কা দিয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু জেলায় যেমন শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ২০২১ সালে ভোটে 16 টি আসনের মধ্যে নটিতে জিতেছিল তৃণমূল কিন্তু গত লোকসভায় মাত্র একটি বিধানসভা এগিয়েছিল তারা বিজেপি এগিয়েছিল বাকি ১৫টি তে।
এবার নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে ১৬ টি জেলায় ১৫২ টি আসনে সেখানে বৃহস্পতিবার ভোট।
হিন্দু ভোটের মেরুকরণ মালদা মুর্শিদাবাদ দুই মেদিনীপুর পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার মেরুকরণে আবহাওয়া তীব্র থাকায় সেখানে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ। প্রত্যাশিতভাবে তা বিজেপির দিকে এগিয়েছে গত কয়েকটি ভোটে। এবারও তার অনর্থ হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি অন্তত পচার পর্বে দেখা যায়নি বরং মালদা মুর্শিদাবাদ এর বিভিন্ন অংশে নানা ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে সেই মেরুকরণ এর আবহাওয়া আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে সংখ্যা লঘু ভোট ভাগ হওয়া নানা সমীকরণ এবং অন্যদিকে হিন্দু ভোটের ঐক্য তৃণমূলের জন্য খুব শুভ সংকেত নয় বলে অনেকে মনে করেছেন। যদিও অতীতে দেখা গিয়েছে উল্টো দিকে বিজেপির উপস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

No comments