১৭ তম বর্ষে হাতিবেড়্যা দীপশিখা ক্লাবের মনসা পূজা মিলন উৎসবের উদ্ধোধন
হলদিয়ার হাতিবেড়িয়া দীপশিখা ক্লাবের মনসা পুজো ও মিলন উৎসবে মেতেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই পুজো ঘিরে শুরু হয়েছে বিভিন্ন ক্রীড়া ও…
১৭ তম বর্ষে হাতিবেড়্যা দীপশিখা ক্লাবের মনসা পূজা মিলন উৎসবের উদ্ধোধন
হলদিয়ার হাতিবেড়িয়া দীপশিখা ক্লাবের মনসা পুজো ও মিলন উৎসবে মেতেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই পুজো ঘিরে শুরু হয়েছে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ক্লাবের এই উৎসবে মেতেছেন লাগোয়া ক্ষুদিরামনগর উদ্বাস্তু কলোনি ও নাড়ারচক এলাকার মানুষজনও।
সকালে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দীপশিখা ক্লাবের উদ্যোগে মনসা পূজা ও ১৭তম বার্ষিক মিলন উৎসব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নবীন ও প্রবীণ বাসিন্দারা হাতে হাত মিলিয়ে নানা চমকপ্রদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
প্রতিবছর উদ্বোধনের সময় স্থানীয় প্রবীণদের মঞ্চে তুলে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাঁদের হাতে উপহার তুলে দেওয়ার রীতি রয়েছে।
সেইসঙ্গে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানে প্রবীণরা হলদিয়ার গ্রাম থেকে শহরে রূপান্তরের ইতিহাস তুলে ধরেন। দীপশিখা ক্লাবের পাঁচদিনের পুজো কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়।
দোকানপাট বসে গিয়ে মিনি মেলার চেহারা নেয়। এই মিলন উৎসবের জন্য সারা বছর মুখিয়ে থাকেন এলাকার আট থেকে আশি সবাই।
ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা চন্দন বেরা বলেন, মনসা পুজোকে ঘিরে এবার ১৭তম বার্ষিক মহামিলন উৎসব হচ্ছে। হাতিবেড়্যা পশ্চিম পল্লির এই ক্লাবের নামকরণ করেছিলেন তৎকালীন পুর চেয়ারপার্সন তমালিকা পণ্ডাশেঠ।
তিনি এই ওয়ার্ডের একসময় কাউন্সিলার ছিলেন। এলাকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে ক্লাব প্রতিষ্ঠানগুলিকে উৎসাহিত করতেন। এবার ২৪-২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাবের অনুষ্ঠান হবে।
এদিন সকালে ৭ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। সম্পাদক আসিস প্রামানিক,উৎসব কমিটির সম্পাদক শংকর মাইতি, ক্লাবের সভাপতি সুভাষ মাজি বলেন, এবার প্রায় একশো জন প্রবীণকে সম্মান জানানো হয়েছে। এছাড়া বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে শতাধিক মানুষকে। ২৫এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যার মায়ের মন্ডপ উদ্বোধন। উপস্থিত ছিলেন আই কেয়ার সম্পাদক আসিস লাহিড়ী ,ভাইস চেয়ারম্যান মানসী দে শেঠ, ছিলেন পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ মন্ডল ও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাধন জানা এছাড়াও শিল্প শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও বিশিষ্ট গুণীজন । আকর্ষণীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও রঙিন আতসবাজি সহযোগে মনসা মায়ের ঘটোত্তোলন। রাত্রিতে মায়ের পূজার্চনা ও কীর্তন গান পরিবেশনায় বাপন দাস ও তার সম্প্রদায়। ২৬ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে বসবে পসরা গানের আসর। শহরের নতুন প্রজন্মের কাছে লোকশিল্পকে তুলে ধরতেই লোকগানের আয়োজন করা হয়। ওইদিন আট থেকে দশ হাজার মানুষকে মনসা মায়ের ভোগপ্রসাদ গ্রহন করা হবে। প্রতিদিনই রয়েছে স্কুল পড়ুয়াদের জন্য গান, আবৃত্তি, নাচ, আঁকার প্রতিযোগিতা।
২৭শে এপ্রিল সোমবার সর্বসাধারণ পুরুষ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। মুমূর্ষ রোগীদের জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। সন্ধ্যায় থাকছে আকর্ষণীয় দিদি নম্বর ওয়ান সর্বসাধারণ মহিলাদের জন্য। রাত্রিকালী নবনিতা ডান্স একাডেমী কলকাতা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২৮ শে এপ্রিল মঙ্গলবার বিবাহিত মহিলাদের কাঁছি টানাটানি।এছাড়া রয়েছে আলপনা আঁকা প্রতিযোগিতা ও ছদ্মবেশ। শেষদিন রাত্রিকালীন বিচিত্রা অনুষ্ঠানে গাইবেন নামী শিল্পী ঋষিতা সাহা, এরশাদ আহমেদ এবং সৃজিতা কর সঙ্গে থাকছে হ্যাপি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ওয়েস্টার্ন ডান্স ট্রুপ। উৎসবের শেষ দিনের শেষ অনুষ্ঠান আতসবাজী সহকারী প্রতিমা নিরঞ্জন। সিঁদুর ও আবির খেলা।











No comments