জ্ঞানেশ-অপসারণ চেয়ে নোটিসে স্বাক্ষর ১৯৩ সাংসদের! শুধু লোকসভাতেই ১৩০, সংখ্যার মাপকাঠি পূরণ উচ্চকক্ষেওসূত্রের খবর, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নোটিসে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তা…
জ্ঞানেশ-অপসারণ চেয়ে নোটিসে স্বাক্ষর ১৯৩ সাংসদের! শুধু লোকসভাতেই ১৩০, সংখ্যার মাপকাঠি পূরণ উচ্চকক্ষেও
সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নোটিসে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন ১৯৩ জন সাংসদ। পিটিআই জানাচ্ছে, এর মধ্যে শুধু লোকসভাতেই স্বাক্ষর রয়েছে ১৩০ জন সাংসদের। রাজ্যসভাতেও সই করেছেন ৬৩ জনের বেশি।বিধি অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চাওয়ার জন্য নোটিসে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর দরকার। একই সঙ্গে রাজ্যসভার ৫০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন। জ্ঞানেশের অপসারণ চাওয়ার জন্য সংসদের উভয় কক্ষের মাপকাঠিই পূরণ করেছে বিরোধীরা। লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা শতাব্দী রায় জানান, জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে ওই নোটিসে ১৩০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন।
শীঘ্রই এই নোটিস জমা পড়তে পারে সংসদের কোনও একটি কক্ষে। পিটিআই-এর দাবি, এই প্রথম বার কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে নোটিস জমা প়ড়তে চলেছে সংসদে। জানা যাচ্ছে, তৃণমূল-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সব শরিক দলের সাংসদই স্বাক্ষর করেছেন এই নোটিসে। স্বাক্ষর করেছেন আম আদমি পার্টির সাংসদেরাও।
সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের কোনও বিচারপতির অপসারণের যে প্রক্রিয়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়া সেই একই। বিচারপতিদের ক্ষেত্রে কোনও অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রমাণিত তথ্য থাকলে, তবেই অপসারণ করা যায়। অপসারণ চেয়ে প্রস্তাব পেশ করা যেতে পারে সংসদের যে কোনও কক্ষে। তবে ‘বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’য় সেই প্রস্তাব পাশ হতে হবে। প্রথমত, ওই কক্ষে মোট সাংসদের হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কক্ষে উপস্থিত থেকে ভোটদানে অংশগ্রহণ করা সাংসদদের মধ্যেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ক্ষেত্রে যে নিয়ম, তেমন কোনও পরিস্থিতি ছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ ছাড়া অপসারণ করা যায় না অন্য নির্বাচন কমিশনারদেরও। ১৯৬৮ সালের বিচারপতি (অনুসন্ধান) আইন অনুযায়ী, একই দিনে সংসদের উভয় কক্ষে নোটিস জমা পড়লে, তা গৃহীত না-হওয়া পর্যন্ত কোনও কমিটি গঠন করা যায় না। উভয় কক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরে লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান মিলে যৌথ ভাবে একটি কমিটি গঠন করেন।
সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নোটিসে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সেই তালিকায় রয়েছে নির্বাচনে জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধা দেওয়া, ভোটাধিকার বঞ্চনার মতো অভিযোগও।
No comments