তমলুক মুখ্য ডাকঘরে বোমাতঙ্ক! হুমকি ইমেল ঘিরে হুলুস্থুল, প্রাণভয়ে দৌড় কর্মী-গ্রাহকদের
ভরা দুপুরে তখন কাজকর্মে সরগরম ডাকঘর। কেউ টাকা জমা দিচ্ছেন, কেউ বা কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে জরুরি চিঠিপত্র পাঠাতে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময়ই পোস্টমাস্টার…
তমলুক মুখ্য ডাকঘরে বোমাতঙ্ক! হুমকি ইমেল ঘিরে হুলুস্থুল, প্রাণভয়ে দৌড় কর্মী-গ্রাহকদের
ভরা দুপুরে তখন কাজকর্মে সরগরম ডাকঘর। কেউ টাকা জমা দিচ্ছেন, কেউ বা কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে জরুরি চিঠিপত্র পাঠাতে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময়ই পোস্টমাস্টারের কম্পিউটারে এসে পৌঁছল একটি ইমেল। আর সেই ইমেলের বয়ান পড়তেই কার্যত রক্ত হিম হওয়ার জোগাড় কর্তৃপক্ষের। সাফ জানানো হয়েছে— ‘ডাকঘরে বোমা রাখা আছে, অবিলম্বে অফিস খালি করুন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ইমেল ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল তমলুক মুখ্য ডাকঘরে। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক। প্রাণভয়ে অফিস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন প্রায় ২০০ জন গ্রাহক ও ডাককর্মী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তমলুক থানার পুলিশ।
ডাকঘর সূত্রে খবর, এদিন বেলা ১২টা নাগাদ পোস্টমাস্টারের কাছে একটি উড়ো ইমেল আসে। সেখানে দাবি করা হয়, ডাকঘর চত্বরে বিস্ফোরক লুকানো আছে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত গোটা ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় ওই মেলে। বিষয়টি জানাজানি হতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ভেতরে। কাউন্টার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কর্মীরা, আতঙ্কে ছুটতে থাকেন গ্রাহকরাও। পোস্টাল এজেন্টরাও তড়িঘড়ি নিজেদের নথিপত্র গুছিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ থেকে এজেন্টরা। দীর্ঘদিনের পোস্টাল এজেন্ট তরুণ কুমার জানা বলেন, "আমাদের অফিস থেকে জানানো হয় যে, সাড়ে এগারোটা নাগাদ একটা মেল এসেছে। আমাদের বলা হয় আপনারা দুপুর ২টো পর্যন্ত বাইরে থাকুন, যে কোনও মুহূর্তে বিপদ হতে পারে। ওনারা তড়িঘড়ি সমস্ত গ্রাহক ও কর্মীদের বাইরে বের করে দেন। এমন ঘটনা এখানে আগে কখনও ঘটেনি। আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন।"
একই সুর শোনা গেল আর এক এজেন্ট ফাল্গুনী ভট্টাচার্যের গলায়। তিনি জানান, "বোমাতঙ্ক ঘিরে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে যায়। সেই সময় কর্মী ও গ্রাহক মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন ভেতরে ছিলেন। ওপর মহল থেকে ইমেল মারফৎ খবর আসার কথা শুনেই সবাই দৌড়ে বাইরে চলে আসি।"
খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। ইমেলটি কোথা থেকে এবং কেন পাঠানো হলো, তার নেপথ্যে কোনও নাশকতার ছক রয়েছে নাকি কেউ নিছক আতঙ্ক ছড়াতে এই কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই ঘটনায় জেলা সদর তমলুকের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
No comments