Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

পুরসভা ও পর্যদ ঠুটো জগন্নাথ? হলদিয়ায় দূষণের জেরে বেড়েছে ইনহেলার বিক্রি

পুরসভা ও পর্যদ ঠুটো জগন্নাথ? হলদিয়ায় দূষণের জেরে বেড়েছে ইনহেলার বিক্রিহলদিয়া হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের এবারের বায়ুদূষণ কার্যত রেকর্ড ছুঁয়েছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে এবারের হলদিয়ার বায়ুদূষণের মাত্রা। শিল্পাঞ্চলে বায়ুর গুণম…

 


পুরসভা ও পর্যদ ঠুটো জগন্নাথ? হলদিয়ায় দূষণের জেরে বেড়েছে ইনহেলার বিক্রি

হলদিয়া হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের এবারের বায়ুদূষণ কার্যত রেকর্ড ছুঁয়েছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে এবারের হলদিয়ার বায়ুদূষণের মাত্রা। শিল্পাঞ্চলে বায়ুর গুণমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৩০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। বায়ুদূষণ মাপার স্কেল অনুযায়ী ওই সূচক 'গুরুতর' হিসেবে চিহ্নিত। হলদিয়া জুড়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও হলদিয়া পুরসভার ডিসপ্লে বোর্ডে ওই সূচক তথ্য জ্বলজ্বল করছিল গত এক সপ্তাহ ধরে। হলদিয়ার দূষিত বাতাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসক সকলেই। বায়ুদূষণের কবলে পড়ে শিল্পশহরের বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হলদিয়ায় বায়ুদূষণের বড় কারণ ধূলিকণা। হলদিয়ার বাতাসে পার্টিকুলেট ম্যাটারের পরিমাণও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উপরে। এজন্য শিশু ও বয়স্করা শীত পড়তেই একটানা কফ কাশির শিকার হচ্ছে। বায়ুদূষণ বাড়তেই অন্যবারের তুলনায় হলদিয়ায় এবার ইনহেলারের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। ধুলোর জন্য হলদিয়া শহরের রাস্তাঘাটে চলাচলা করাই দায় হয়ে উঠেছে মানুষের। দূষণের ব্যাপকতা ঠেকাতে হলদিয়া পুরসভা ও প্রশাসনের তৎপর নয় বলে অভিযোগ পরিবেশ ও বিজ্ঞান সংগঠনগুলির। উল্টে দূষণ নিয়ে হইচই শুরু হতেই সাধারণের নজর ঘোরাতে পুর কর্তৃপক্ষ ও পর্ষদ বিশেষ কৌশলে 'ক্যালিব্রেশন' ঠিক করার নামে ডিসপ্লে বোর্ডে বদল এনেছে। এখন দূষণমাত্রা আগের চেয়ে বাড়লেও এয়ার কেয়ালিটি সূচক ১০০ এর নিচেই থাকছে।

হলদিয়া পুর এলাকায় শহরের ব্যস্ততম জায়গাগুলিতে অনলাইন ডিসপ্লে বোর্ড বসিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। ওই বোর্ডে অনলাইনে পাওয়া বায়ুর গুণমান সূচক ও শব্দের গুণমান সূচক প্রতিনিয়ত ফুটে ওঠে সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য। হলদিয়ার বাতাস ও শব্দ দূষণের মাত্রা জানতে পারেন সবাই। সিটিসেন্টার, দুর্গাচক মঞ্জুশ্রী মোড়, হলদিয়া পুলিশ স্টেশন সহ একাধিক জায়গায় ওই বোর্ড রয়েছে। সিটি সেন্টারে ওই ডিসপ্লে বোর্ডে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৩১৩ পয়েন্ট ছুঁয়েছে দেখেই পরিবেশকর্মীরা চমকে ওঠেন। গত একসপ্তাহ ধরেই হলদিয়ার বায়ুর গুণমান নিয়ে অনলাইন তথ্যে ওই সূচক ৩০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে, বলছেন স্থানীয় অফিস যাত্রীরা। স্থানীয়রা বলেন, কোভিডের সময় কয়েকমাস হলদিয়ায় শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় এবং গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় দূষণ অনেক কমে ছিল। ২০২১ সালের পর এবছরই প্রথম বায়ু দূষণমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছেছে। হলদিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক বিক্রমজিৎ চৌধুরী বলেন, শিল্প দূষণ তো হলদিয়ায় রয়েছে, সেইসঙ্গে বেড়েছে ধূলিকণা দূষণ। তবে এবারের মতো ধুলোর এত শ্বাসকষ্ট আগে কখনও হতে দেখিনি। এবারের দূষণের মাত্রা বেশি দেখছি। এজন্য শিল্পসংস্থা ও পুরসভাকে কার্বন ক্রেডিট সিস্টেমে দূষণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। আরও বেশি করে বড় পাতাযুক্ত এবং কার্বন ও ধূলিকণা শোষণ করে এমন গাছ লাগানোর উপর জোর দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা, হলদিয়ার ধূলিকণা দূষণের একটি কারণ হিসেবে বেহাল রাস্তাকে চিহ্নিত করেছে। মূলত সেখান থেকেই হাজড় হাজার গাড়ি চলাচলের জন্য ধুলো উড়ে মিশছে বাতাসে। হলদিয়ার এক আধিকারিক সুবিমল দাস বলেন, সুতাহাটা রোজ মোটরবাইকে সিটিসেন্টারে অফিস পৌঁছতে গিয়ে ধুলো ও দূষণের জন্য শ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হচ্ছে। হলদিয়ায় প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মচারী সাইকেল ও বাইকে চেপে সিটি সেন্টার, দুর্গাচক, রানীচক পরিয়ে বিভিন্ন কারখানা ও বন্দরে কাজে যান। তাঁরা বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি কষ্ট হচ্ছে। রাস্তার ধুলো খেয়ে সর্দি কাশি সারতে চাইছে না। দূষণের জন্য প্রচণ্ড চোখ জ্বালা করছে। শ্রমিকরা মাস্ক ও রুমাল বেঁধে, কেউ হেলমেট পরে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলদিয়ার বাতাসে পার্টিকুলেট ম্যাটার বা কণা পদার্থ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ এই দু'ধরনের কণা পদার্থের মাত্রা বহুগুণ বেশি। এর ক্ষতিকর দিক হল, ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কের গভীরে পৌঁছে রোগের সৃষ্টি করে। হলদিয়ার শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সমীররঞ্জন খাঁড়া বলেন, রোগীদের ধরন দেখেই বুঝতে পারছি, এবার হলদিয়ার দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেশি। শিশুদের মধ্যে ক্রনিক কাশির প্রবণতা হলদিয়ায় অনেক বেড়েছে দূষণের কারণে। বায়ুদূষণের কারণে স্কিন ডিজিজও বেড়েছে। স্কুল পড়ুয়া শিশুদের কাশি সারছে না দেখে বাধ্য হয়ে ইনহেলার প্রেসক্রাইব করতে হচ্ছে। হলদিয়ার বায়ুদূষণ ঠেকাতে কেন্দ্র সরকার 'ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম' প্রকল্পে গত চার বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা দিয়েছে হলদিয়া পুরসভাকে। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তায় ধূলিকণা দূষণ ঠেকাতে ৫০ লক্ষ টাকা খরচে স্প্রিংকলার লাগানো ওয়াটার ক্যানন মেশিন প্রতিদিন রাস্তায় জল স্প্রে করে। কিন্তু পুরসভার দূষণ ঠেকানোর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংগঠনগুলি। দূষণ পর্ষদের ভূমিকা নিয়েও সরব স্থানীয়রা। তবে দূষণ নিয়ে চাপানউতোর চলছে পুরসভা ও দূষণ পর্ষদের মধ্যে।

No comments