Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

'স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষে অবহেলিত কুমুদিনী'

'স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষে অবহেলিত কুমুদিনী'মামার বাড়িতে পেয়েছিলেন • স্বদেশ চেতনা আর মানবতাবাদের - শিক্ষা। এউ উদারতা পেয়েছিলেন শ্বশুরবাড়িতেও। কুমুদিনী ঘোমটা • দিতেন না। গ্রামের লোকের কৌতূহল - ছিল তা নিয়ে। কুমুদিনীর শ্বশুর সমালো…

 



'স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষে অবহেলিত কুমুদিনী'

মামার বাড়িতে পেয়েছিলেন • স্বদেশ চেতনা আর মানবতাবাদের - শিক্ষা। এউ উদারতা পেয়েছিলেন শ্বশুরবাড়িতেও। কুমুদিনী ঘোমটা • দিতেন না। গ্রামের লোকের কৌতূহল - ছিল তা নিয়ে। কুমুদিনীর শ্বশুর সমালোচনার উত্তরে বলেছিলেন, ■ 'আমার বৌমা বাক্সের বৌ নয়।' ■ শ্বশুর শাশুড়ি চাইতেন তাঁদের বৌমা ■আরও লেখাপড়া শিখুন। কুমুদিনী ■ লিখেছেন, 'শ্বশুর শাশুড়ীর খুব ইচ্ছা ■ ছিল আমার শিক্ষার মান বাড়াতে। কিন্তু কোন সুযোগ করতে পারেননি। তারপর আমার স্বামীর একান্ত ইচ্ছা ও দাবী অনুসারে দাদা (সুশীলকুমার খাড়া) আমার পড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সম্বন্ধে একটু বলা দরকার। দাদা সপ্তাহে ২ দিন তো বটেই কোন সপ্তাহে তিন দিনও সাইকেলে করে আমাকে পড়াতে যেতেন। শ্বশুর শাশুড়ী খুব আনন্দ সহকারে দাদাকে গ্রহণ করেছিলেন। দাদা উপস্থিত হলেই আমার সংসারে করণীয় সমস্ত কাজ শাশুড়ী বন্ধ করে দিয়ে পড়তে বসিয়ে দিতেন আমাকে। এখানে বলে রাখি বিয়ের সেই বছরই গান্ধীজীকে দেখানোর জন্য আমাকে সোদপুরে নিয়ে গিয়েছিল'। করেছিলেনই। বিপদের তো আন্দোলন সংগঠিত 

হরিপদ মাইতি বললেন, "বিপ্লবী কুমারচন্দ্র জানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী 

ক্ষুদিরাম ডাকুয়ার স্ত্রী কুমুদিনীর 

অন্তরে আজীবন দেশপ্রেমের সময়ে মেয়েদের পাশে ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তা মনে করিয়ে দেন গবেষকেরা। মহিষাদলের গবেষক আমার বাবা কাকার জেঠাইমা। আমাদের বাবা কাকার জন্মদাত্রী মা, মারা যাওয়ায় দুই ভাইকে মাতৃস্নেহে বড় করেন তাঁদের জ্যাঠাইম্য কুমুদিনী। স্ত্রী বিয়োগের পর আমাদের ঠাকুরদার সংসার ঔদাসীন্য এবং বড় দাদু অর্থাৎ কুমুদিনীর স্বামী ক্ষুদিরামের স্বাভাবিক সংসার বিমুখতায়, শক্তহাতে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলেন কুমুদিনীই।" ১৯৭৭ সাল নাগাদ কুমুদিনী এবং তাঁর স্বামী ক্ষুদিরাম, সুশীল ধাড়ার সচিব এবং সহযোগী হিসেবে দিল্লিতে থাকতেন। ১৯৮৪ সালে দিল্লির পাট গুটিয়ে তাঁরা প্রথমে কিছুদিনেরজন্য তমলুকে, পরে আমৃত্যু ফল্গুধারা ছিল। কিন্তু সে ধারা বেগবতী হয়ে উঠল সুশীলবাবুর সান্নিধ্যে এসে, সুশীলবাবুর অনুপ্রেরণায়। সাহসী এবং তেজোদীপ্তা কুমুদিনীদের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ বাহিনীর পাশাপাশি সুশীলবাবু গড়ে তুললেন ভগিনী সেনা। আন্দোলন সংগঠনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেয় ভগিনী সেনা। বিশেষ করে মাসুরিয়া, ডিহি মাসুরিয়া এবং গাজিপুর গ্রামে নির্মম নারী নির্যাতনের পর গ্রামে গ্রামে মেয়েদের মনোবল অটুট রাখতে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তাঁদের সাহস জোগান কুমুদিনী। শুধু তাই নয় মূলত তাঁরই পরামর্শে দেশীয় কামারদের দিয়ে দশ হাজার ছোরা তৈরি হয়। যেগুলো কুমুদিনী ও তাঁর সহযোগীরা গ্রামের মেয়েদের হাতে তুলে দেন। তা ছাড়া জাতীয় সরকারের শেষ দিকে দেশদ্রোহীদের শাস্তি দিতে গরম দলের সদস্য হিসাবে কুমুদিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন।" সৌজন্যে ডাকুয়া পরিবারের সদস্য শ্রুত্যানন্দ ডাকুয়া স্মৃতিচারণ করেন তাঁর সম্পর্কে ঠাকুমার। বলেন, "জন্ম থেকে ৩০ বছরেরও বেশি ঠাকুমার ঘনিষ্ট সাহচর্যে আমার বেড়ে ওঠা। কিছুটা বড় হবার পর জেনেছি তিনি 

কুমুদিনী ডাকুয়ার এই ছবিটি তোলা হয়েছিল বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড স্টুডিয়োয়। ছবি পরিবারের মহিষাদলে থাকতেন।

ঘরোয়া জীবনে কেমন ছিলেন কুমুদিনী? শ্রুত্যানন্দ জানাচ্ছেন, বাবার কঠিন শাসনের হাত থেকে মুক্তি মিলত ঠাকুমা কুমুদিনীর অগাধ প্রশ্নয়ে। তবে কোনও বেচালকে তিনি কখনই আড়াল করতেন না। নীতি এবং মূল্যবোধের ব্যাপারে ছিলেন অতি সজাগ সতর্ক। ছুটিতে মহিষাদলে তাঁদের কাছে গেলে দিনগুলি কাটত অনাবিল আনন্দে। পাশেই ছিল প্রজ্ঞানানন্দ পাঠাগার। সেখান থেকে কী বই আনছেন, পড়ছেন, সে দিকে নজর থাকত কুমুদিনীর। হাঁপানি এবং হজমের সমস্যায় খুবই কষ্ট পেতেন তিনি। শ্রুত্যানন্দদের বড় দাদু অর্থাৎ কুমুদিনীর স্বামী ক্ষুদিরামের হোমিওপ্যাথি বা বায়োকেমিক ওষধেই সে সব সামাল দিতেন। তাঁর ধৈর্য এবং স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর। খুব যত্ন করে পড়াতেন তিনি।

একটি বিষয়ে শ্রুত্যানন্দ বলেন, "সুশীলদাদুর (সুশীল ধাড়া) জীবনে তাঁর সদর্থক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা কম হয়। আমার স্মৃতি বলে, তাঁর নজরদারি এড়িয়ে, সুশীলদাদুকে ভুল বুঝিয়ে কোনও সুবিধা আদায় করা সহজ ছিল না। সে জন্য নানান জনের কাছে অপ্রিয় হতে হত তাঁকে।" নাতি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ইংরেজিতে সাম্মানিক স্নাতকে ভর্তি হলে ভারী খুশি হয়েছিলেন কুমুদিনী। আশ্রম জীবনের খুঁটিনাটি জানতে চাইতেন। আর মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধী, বিনোবা ভাবে-সহ বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী নেতার স্নেহ ও সাহচর্যে কী ভাবে তাঁর মতো প্রায় অশিক্ষিত গ্রামীণ মেয়ের জীবন বদলে গিয়েছিল সে সব নিয়ে নাতি- নাতনিদের কাছে উদ্দীপ্ত স্মৃতিচারণ করতেন। এখনও একটা স্মৃতি মনে আছে শ্রুত্যানন্দের। বললেন, "আমার দিদির মুখে জাতীয়তাবাদী গান বা রবীন্দ্রসঙ্গীত খুব পছন্দ ছিল কুমুদিনী, ক্ষুদিরাম বা সুশীলদাদুর। তাঁদের কথা মনে হলেই মনে পড়ে ভোরবেলা, আধো ঘুমের মধ্যে শুনতাম দিদি ঠাকুমার গায়ে ঠেস দিয়ে গাইছে 'উঠ গো ভারত লক্ষী' বা এমন কোনও গান, আর গভীর মনোযোগে তা শুনছেন তিন দাদু দিদা।"

আক্ষেপও রয়েছে ডাকুয়া পরিবারের। তাঁদের কথায়, স্বাধীনতার ৭৫ বছরে কুমুদিনী ডাকুয়ার মতো একনিষ্ঠ দেশব্রতীর কথা আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়া উচিত ছিল। শ্রুত্যানন্দ বলেন, "কুমুদিনীকে নিয়ে রাজনীতির নানান মঞ্চে কথা হতে শোনা যায়। হলদিয়া তমলুক বা জেলার রাজনীতিতে তাঁর নাম যত ব্যবহার করা হয়; তাঁর অবদান, তাঁর মূল্যবোধ প্রসারে যদি কণামাত্র প্রয়াস নেওয়া যেত, আদতে লাভ হত নতুন প্রজন্মেরই।"


No comments