বন্দর এলাকায় লাগাতার চুরি, দুর্ঘটনায় চিন্তিত কর্তৃপক্ষ!
হলদিয়া বন্দর এলাকায় চুরি, দুর্ঘটনা কমাতে উচ্চপর্যায়ের সেফটি কমিটির বৈঠক হয়েছে। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে একের পর এক চুরি ও দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের…
বন্দর এলাকায় লাগাতার চুরি, দুর্ঘটনায় চিন্তিত কর্তৃপক্ষ!
হলদিয়া বন্দর এলাকায় চুরি, দুর্ঘটনা কমাতে উচ্চপর্যায়ের সেফটি কমিটির বৈঠক হয়েছে। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে একের পর এক চুরি ও দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের বিভিন্ন গেটে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) সিস্টেমের মতো সুরক্ষাবলয়ের ফাঁক গলে কীভাবে বাহিরের দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই দুষ্কৃতীরা প্রায়শই কড়া সুরক্ষাবলয় ফাঁকি দিয়ে দামি যন্ত্র, সরঞ্জাম চুরি, এমনকী জাহাজে উঠে নাবিকদের ভয় দেখিয়ে লুটপাটও চালায় বলে অভিযোগ। সিআইএসএফ থাকা সত্ত্বেও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে শ্রমিক ইউনিয়নও সরব হয় এদিনের বৈঠকে। হলদিয়ার বন্দরের প্রশাসনিক ভবন জওহর টাওয়ারে সেফটি কমিটির বৈঠকে এদিন ডেপুটি চেয়ারম্যান সম্রাট রাহি, বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার, বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, দু' দিন আগেই বন্দরের সিআইএসএফ হলদিয়া থানায় চুরি নিয়ে অভিযোগ করেছে। বন্দরের একটি কার্গো হ্যান্ডেলিং এজেন্সি জিসি বার্থ গেটের কাছে ওয়াগন থেকে লোহার প্লেট সহ সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় এক দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করে। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে হওয়ায় সিআইএসএফের হাতে ওই দুষ্কৃতীকে তুলে দেওয়া হয়। পরে সিআইএসএফ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। আরএফআইডি চেকিং সিস্টেমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুষ্কৃতীরা কীভাবে নিয়মিত ঢুকছে তা নিয়েই এদিন সরব হন শ্রমিক সংগঠন নেতৃবৃন্দ। শুধু বন্দর এলাকা নয়, টাউনশিপে বন্দরের আবাসন এলাকায় ঢুকে দুষ্কৃতীরা রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে। দিনেদুপুরেই চুরি হচ্ছে। কোনও আবাসন কয়েক ঘণ্টার জন্য ফাঁকা রাখার জো নেই। বিভিন্ন আবাসন থেকে পাইপ লাইনের সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে। বিপাকে পড়ছেন আবাসিকরা। শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, প্রতি মাসে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ হয় বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সির পিছনে। সবমিলিয়ে মাসে সিকিউরিটির জন্য বন্দরের প্রায় ৪ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আবাসিকরা নিরাপদ নয়, বন্দরে লাগাতার চুরি বাড়ছে। সুরক্ষার পাশাপাশি এদিন শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বন্দরের মধ্যে রাস্তাঘাটের উন্নতি করে, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পোর্ট ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) প্রবীণকুমার দাস বলেন, সেফটি মিটিংয়ে শ্রমিক সুরক্ষার সঙ্গে স্থানীয় এলাকায় দূষণ, দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। কোথায়, পরিকাঠামোগত খামতি রয়েছে, তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে। দূষণ ঠেকাতে এবার বন্দর কর্তৃপক্ষ রানিচকেও ডাস্ট বেরিয়ার তৈরি করছে। এই পরিকাঠামো মানুষের সুরক্ষায় কাজে লাগবে। চুরি ঠেকাতে সিআইএসএফ ও পুলিসের তৎপরতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
No comments