সুতাহাটার প্রাক্তন ওসি'র নামে সাইবার-ফাঁদ, পুরনো আসবাব কিনতে গিয়ে মাথায় হাত!
হলদিয়ার সুতাহাটা থানার প্রাক্তন ওসি জলেশ্বর তেওয়ারির নামে ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সেই ফাঁদে পড়ে ৮০ হাজার টাকা খো…
সুতাহাটার প্রাক্তন ওসি'র নামে সাইবার-ফাঁদ, পুরনো আসবাব কিনতে গিয়ে মাথায় হাত!
হলদিয়ার সুতাহাটা থানার প্রাক্তন ওসি জলেশ্বর তেওয়ারির নামে ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সেই ফাঁদে পড়ে ৮০ হাজার টাকা খোয়ালেন হলদিয়ার এক ব্যবসায়ী যুবক। ওই প্রোফাইল থেকে মেসেজ পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইবার ঠগীদের বিরুদ্ধে। ওই প্রোফাইল থেকে বন্ধুর পুরনো আসবাবপত্র বিক্রির নাম করে প্রতারণা করা হয়েছে। এইমর্মে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবানীপুর থানার বড় বাড়ির বাসিন্দা গোপালচন্দ্র বেরা অনলাইনের মাধ্যমে পুরনো আসবাবপত্র কিনতে গিয়ে ৮০ হাজার টাকা খুইয়েছেন বলে অভিযোগ। গত ১৬ জুন সুতাহাটা থানার প্রাক্তন ওসি জলেশ্বর তেওয়ারির নামে ভুয়ো প্রোফাইল থেকে ওই যুবকের কাছে মেসেজ আসে বলে অভিযোগ। ওই আধিকারিকের বন্ধু এক সিআরপিএফ অফিসার দুর্গাপুরের রুম ছেড়ে অন্যত্র ট্রান্সফার হচ্ছেন বলে মেসেজ আসে যুবকের কাছে। এজন্য তিনি আসবাবপত্র বিক্রি করতে চান। হলদিয়ার ওই যুবকের দাবি, পুলিস আধিকারিকের প্রোফাইল থেকে মেসেজ পেয়ে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ায় তিনি আসবাব কেনার জন্য আগ্রহ দেখান। এরপর ওই ভুয়ো সিআরপিএফ অফিসারের মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ চলতে থাকে। যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে আসবাবপত্রের ছবিও পাঠায় তারা। দরদস্তুর করে ৮০ হাজার টাকায় রফা হয়। মালপত্র হলদিয়া পৌঁছলে তবেই পেমেন্ট করবেন বলে জানান গোপালবাবু। কিন্তু ভুয়ো সিআরপিএফ অফিসার কোনওমতেই রাজি হয়নি। কিছু টাকা অগ্রিম পাঠাতে বলে। প্রথম দফায় ৩০ হাজার টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করেন গোপালবাবু। এরপরই ফের ওই অফিসার দুর্গাপুরে চেকিং চলছে বলে পুরো টাকা পেমেন্ট না করলে মাল পাঠাতে গররাজি হয়। বাধ্য হয়ে গোপালবাবু ফের ৩০ হাজার টাকা পাঠান অনলাইনে। ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পর নতুন অজুহাত দেখাতে শুরু করে ভুয়ো সিআরপিএফ। আরও কিছু আসবাব নিতে হবে বলে জোর করে। গোপালবাবুর সঙ্গে এনিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। শেষে সুতাহাটার প্রাক্তন ওসি'র নাম করে ওই ভুয়ো অফিসার গোপালবাবুকে ফোন করে আশ্বস্ত করে এবং টাকার দায়িত্ব নিয়ে গ্যারান্টি দেয়। এরপর ফের গোপালবাবু অনলাইনে ২০ হাজার টাকা পাঠান ওই সিআরপিএফ অফিসারকে। কিন্তু একমাস পরও সেই আসবাবপত্র হলদিয়া এসে না পৌঁছনোয় মাথায় হাত পড়েছে গোপালবাবুর। টাকা পাঠানোর পর থেকে ওই মোবাইলও বন্ধ। তিনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমে রিপোর্ট করার পাশাপাশি ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস তদন্ত করে জানতে পেরেছে ওই টাকা একটি গ্রসারি সেন্টার ও একটি জেনারেল স্টোরের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তদন্তকারী অফিসার দিলীপকুমার গুপ্তা বলেন, প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিলেও অন্যত্র সারতে পারেনি। আশা করছি সপ্তাহ দুয়ের মধ্যে টাকা উদ্ধার হবে।
No comments