Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছিল আজকের দিনে

১৯২৯, ১০ জুলাই, লাহোর মামলা শুরু হয়। ১৯৩০, ৭ অক্টোবর, এই মামলার রায় দেওয়া হয়। দীর্ঘ পনেরো মাস ধরে এই মামলা চলে। মামলায় মোট ৩১ জন তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২ জন যতীন্দ্রনাথ দাস ও ভগবতীচরণ ভোরা মামলার মাঝপথেই আত্মবলিদান দিয়ে চিরমুক্ত হয়েছ…

 





১৯২৯, ১০ জুলাই, লাহোর মামলা শুরু হয়। ১৯৩০, ৭ অক্টোবর, এই মামলার রায় দেওয়া হয়। দীর্ঘ পনেরো মাস ধরে এই মামলা চলে। মামলায় মোট ৩১ জন তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২ জন যতীন্দ্রনাথ দাস ও ভগবতীচরণ ভোরা মামলার মাঝপথেই আত্মবলিদান দিয়ে চিরমুক্ত হয়েছেন। ১ জন চন্দ্রশেখর আজাদ'কে তখনো ইংরেজ পুলিশ ধরতেই পরেনি। রায়ে ১৩ জনের যাবজ্জীবন হয়েছে। ২ জনের পাঁচ ও সাত বছরের কারাবাস। শুধু ৩ জন বেকসুর হন। আর ৩ জন বিপ্লবীর ফাঁসির আদেশ হয় - ভগৎ সিং, শুকদেব থাপার ও শিবরাম হরি রাজগুরুর। তাহলে বাকি ৭ জনের কি হ'ল!

বাকি এই ৭ জন ছিল - রামশরণ দাস, ব্রহ্ম দত্ত, জয়গোপাল, হংসরাজ ভোরা, ললিত মুখার্জী, মনমোহন মুখার্জী ও ফণীন্দ্র ঘোষ। মামলা শুরু হতেই এরা তালিকা থেকে বাদ চলে যায়। কারণ, এরা রাজসাক্ষী হয়েছিল। প্রথম ছয়জন দলের বিশেষ সম্পূর্ণ কোনও কথা জানতো না, তাই তাদের রাজসাক্ষী হওয়াতে দলের ক্ষতিও কম হয়েছিল। কিন্তু ফণীন্দ্র বা ফণী ঘোষ অনেক কিছু জানতো, প্রত্যক্ষভাবে দলের অনেক কাজও করেছে সে, দলের হয়ে সমস্ত বিহার রাজ্যের দায়িত্বে ছিল সেই। এই ফণী ঘোষই সেদিন সবকিছু ফাঁস করে দিয়েছিল ইংরেজ পুলিশের কাছে।

রাজসাক্ষীরা সকলেই লাহোর ছেড়ে দেশের বিভিন্ন অংশে গা ঢাকা দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০, বম্বেতে জয়গোপাল'কে হত্যার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পরে ব্রিটিশ সরকার প্রত্যেক রাজসাক্ষী'র কাছে দুজন পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

মামলার রায় দেওয়ার পরেও চন্দ্রশেখর আজাদ চেষ্টা করেছিলেন ভগৎ সিং'দের জেল ভেঁঙে উদ্ধার করার। কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১, অলফ্রেড পার্কে ইংরেজদের সাথে সামনাসামনি যুদ্ধে তিনি আত্মবলিদান দেন। ১৯৩১, ২৩ মার্চ ভোরে শহীদ হন ভগৎ সিং, শুকদেব থাপার ও শিবরাম হরি রাজগুরু।

রাজসাক্ষীরা কে কি পুরস্কার পেয়েছিল জানা নেই, তবে সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছিল ফণী ঘোষ'কে। যেহেতু ফণী ঘোষের সাক্ষীতেই তিন তরুণ বিপ্লবীর ফাঁসি হয়েছিল, তাই কৃতজ্ঞ ব্রিটিশ সরকার তাকে প্রচুর মূলধন দিয়ে সরকারি টাকায় এক বিরাট দোকান বানিয়ে দেয় বিহারের বেতিয়া শহরে। আর দেওয়া হয় সশস্ত্র পুলিশ গার্ড।

কিন্তু বিপ্লবীদের কাছে দেশদ্রোহীর ক্ষমা নেই। জবাব পাওয়া গেল প্রায় দেড় বছর পরে, যখন পুলিশ নিরাপত্তা আলগা হয়ে গেছে, যখন দোষীরা ভেবেই নিয়েছে আর ভয় নেই। ১৯৩২, ৭ নভেম্বর, রাত সাতটার কিছু পরে.. অন‍্য দিনের মতো সেদিনও ফণী ঘোষ তার দোকানের সামনে বসে এক বন্ধুর সাথে হাসিঠাট্টা করছে। হঠাৎ ফণী ঘোষের সামনে এসে দাঁড়ায় চাদর জড়ানো দুই ছায়া মূর্তি। মুখ থেকে চাদর সরে যায়, এবার চিনতে পেরে ভয়ে উঠে দাঁড়ায় ফণী। দুই ছায়া মূর্তি একটু হাসে, তারপর চাপাস্বরে বলে, রাজসাক্ষীর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তোকে.. এইকথা বলার সাথে সাথে ভোজালির এক কোপ, বিশ্বাসঘাতক ফণীর ধর থেকে মাথা আলাদা হয়ে রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে।

দ্রুত ঘটনার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো। ইংরেজ গোয়েন্দা পুলিশ হত‍্যাকারীদের হন‍্যে হয়ে খুঁজছে। তারমধ‍্যেই দু-দিন পরে বিহার বেতিয়া মিউনিসিপ্যালিটি ভবনের দেওয়ালে পোস্টার পড়ে, তাতে লেখা আছে - 

'ভগৎ সিং, শুকদেব ও রাজগুরু কে হত্যার প্রতিশোধ। বিপ্লবী দল সর্বভারতীয় রিপাবলিকান পার্টির নির্দেশে বিশ্বাসঘাতক কে এই চরম শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিপ্লব'ই স্বাধীনতা লাভের একমাত্র পথ। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক'

সেই দুই বীর বিপ্লবী ছায়ামূর্তির নাম - বৈকুন্ঠ সুকুল ও চন্দ্রমা সিং - তাঁদের প্রণাম প্রণাম। পরে তাঁদের কি হয়েছিল, .. বিশ্বাসঘাতকের শাস্তির এই খুশির খবরে তা নাই বা বললাম। আজকের দিনে দুঃখ যা আছে, তা আমাদের বুকের ভেতরেই থাক। ২৩ মার্চ  💟শহীদ ভগৎ সিং, 💟শহীদ শুকদেব থাপার, 💟শহীদ শিবরাম হরি রাজগুরুর পায়ে আমাদের শত হাজার প্রণাম ..

জয় হিন্দ্   ইনকিলাব জিন্দাবাদ   বন্দেমাতরম্   জয় হিন্দ্

No comments