হলদিয়া লক ডাউনের সময়ে শিল্প শহরের পথ কুকুর – বিড়াল ও গরুদের খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে । পথে ঘাটে লোক নেই । নেহাত কেনা কাটা ছাড়া মানুষজনের দেখা মেলা ভার । এরকম একটি পরিস্থিতিতে হলদিয়ার মাখনবাবু বাজার এলাকার একটি শিল্প সংস্থার আব…
হলদিয়া লক ডাউনের সময়ে শিল্প শহরের পথ কুকুর – বিড়াল ও গরুদের খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে । পথে ঘাটে লোক নেই । নেহাত কেনা কাটা ছাড়া মানুষজনের দেখা মেলা ভার । এরকম একটি পরিস্থিতিতে হলদিয়ার মাখনবাবু বাজার এলাকার একটি শিল্প সংস্থার আবাসনের একটি পরিবার এদের পাশে এসে দাঁড়ালো । হলদিয়ার ভারতীয় বিদ্যাভবনের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী বর্ষা মিশ্র নিঝুম দুপুরেই দুই লিটারের বেশি দুধের বোতল ও ব্যাগ ভর্তি বিস্কুট নিয়েই পথে বেরিয়ে পড়েন । মোহনামার্কেট , চৌরঙ্গী , অঙ্গশ্রী বাজারে তাকে দেখা যায় দুধের বোতল নিয়ে । ওষুধ দোকান ছাড়া দুপুরে যখন শুনশান বাজার তখনই বর্ষা আসেন এদের খাওয়াতে । আগাগোড়া মুখ ঢাকা স্কার্ফে রাস্তায় বসেই এদের পরম যত্নে খাওয়াতে শুরু করেন । মাথায় হাত বুলিয়ে তার এই খাওয়ানোর দৃশ্য পথচলতি মানুষের নজর কেড়েছে ।টিফিনের পয়সা জমিয়েই এই দুধ ও বিস্কুট কেনা বলে তিনি জানান । বর্ষা জানান , আমার এই কাজে বাবা ও মা খুবই উদ্বেগে থাকেন । একে দুপুর বেলা কেউ কোথাও নেই তার সাথে করোনার বিপদ ।
বর্ষা জানান , দোকানপাট বন্ধ থাকায় এই পশুদের দুর্দশা দেখে মন খারাপ হয়েছিল । ওদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে । সেই নিরিখেই বাবা ও মাকে বলি কথাটা । ওঁরা আপত্তি করেছিলেন কিন্তু বাধা দেননি । দুধ সংরহ করতেই সমস্যায় পড়ছেন । এমনিতেই দুধের আকাল রয়েছে । তাই দোকানদার জানতে পেরেছে আমি কুকুর বিড়ালদের খাওয়াই । তাই দিতে নারাজ । বেশ কয়েকটি দোকান থেকে ঘুরে কিনতে হয় । তবে পথ কুকুররা আমার জন্য অপেক্ষা করে । এটাই ভালো লাগে ।

No comments