Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

৩১ বছরে পা দিল প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ‘সঙ্গম’-এর দুর্গোৎসব

৩১ বছরে পা দিল প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ‘সঙ্গম’-এর দুর্গোৎসবকলকাতার কুমোরটলি থেকে আনা দুর্গাপ্রতিমা, মহালয়ার চেনা সুর, ধুনুচি নাচ, সিঁদুর খেলা আর বাঙালির ভূরিভোজ সব মিলিয়ে আমেরিকার কানসাস সিটিতে আবারও শারদোৎসবের আবহ। প্রবাসের মা…

 


৩১ বছরে পা দিল প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ‘সঙ্গম’-এর দুর্গোৎসব

কলকাতার কুমোরটলি থেকে আনা দুর্গাপ্রতিমা, মহালয়ার চেনা সুর, ধুনুচি নাচ, সিঁদুর খেলা আর বাঙালির ভূরিভোজ সব মিলিয়ে আমেরিকার কানসাস সিটিতে আবারও শারদোৎসবের আবহ। প্রবাসের মাটিতে বাঙালিয়ানা, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ৩১ বছরে পা দিল প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ‘সঙ্গম’-এর দুর্গোৎসব। কানসাস সিটির ওভারল্যান্ড পার্কে এই পুজোকে ঘিরে একত্রিত হচ্ছেন শত শত বাঙালি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অধিকাংশের শিকড় পশ্চিমবঙ্গে। পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ও কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাঙালিরা এই উৎসবের মাধ্যমে খুঁজে পান শিকড়ের টান।মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। ক্লাব প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে বাঙালিরা উপভোগ করেন মহালয়ার অনুষ্ঠান। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর সামনে রেখে বাংলা ভাষায় মহালয়া পরিবেশনের আয়োজনও ছিল। অডিটোরিয়াম সাজিয়ে তোলা হয়েছে আলোর ঝলমলে সাজে। পুজোর পাশাপাশি থাকছে নাটক, আবৃত্তি, গান-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভারত পশ্চিমবঙ্গে থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনাও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

শারদোৎসবে ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, কলাবউ স্নান ও ঘটস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজো। সপ্তমীর সকালে মহাসপ্তমীর পুজো ও পুষ্পাঞ্জলি, অষ্টমীতে পুজো, সন্ধিপুজো ও নবদুর্গার আরাধনা এবং নবমীতে নবমীপুজোর আয়োজন থাকছে। দশমীর সকালে হবে দশমীপুজো। পুজোর প্রতিটি পর্বের পাশাপাশি চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বোধন থেকে বিসর্জনের আচার—সবকিছুর মধ্যেই প্রবাসে বাংলার শারদীয় ঐতিহ্য অটুট রাখার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা।দূর্গোৎসব মানেই বাঙালির পেটপুজো। সেই ঐতিহ্যেও কোনও খামতি রাখতে চান না সঙ্গমের সদস্যরা। ইলিশ, মাটন কষা, চিংড়ি মালাইকারি-সহ নানা আমিষ ও নিরামিষ পদে সাজানো হচ্ছে ভোজের আয়োজন। প্রবাসে থেকেও বাঙালির ঘরের স্বাদ ও আতিথেয়তার উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে এই খাবারের আয়োজন ঘিরেও থাকে বিশেষ আগ্রহ।পুজোর সার্বিক সমন্বয় ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সঙ্গমের সভাপতি অরূপ মজুমদার, সহ-সভাপতি শান্তনু ভট্টাচার্য এবং ডক্টর তপন মান্না এবিসিএস সঙ্গমের সদস্যরা। পুজোর পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংগঠনের সদস্য  গবেশক ডক্টর দেবব্রত ভাদুড়ি। গবেশক হওয়ার পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে তিনি এই প্রবাসী দুর্গাপুজোর পৌরোহিত্য করছেন। পুজোর প্রতিমা কলকাতার কুমোরটুলি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অনেক কিছুই কলকাতা থেকে সংগ্রহ করেন উদ্যোক্তারা।প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বাঙালির মিলনমেলা। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভৌগোলিক দূরত্ব ভুলে একে অপরের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয় ‘সঙ্গম’। তাই প্রতিবছরই এই পুজোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন প্রবাসী বাঙালিরা। সম্মিলিত উদ্যোগ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ৩১ বছরের এই আয়োজন আজ কানসাসের বুকে এক টুকরো বাংলার পরিচয় হয়ে উঠেছে।

No comments