গঙ্গার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজার উচ্ছেদের আশঙ্কায় আশঙ্কিত-রাজ্যের হাজার হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ীরা সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক : বন্দর কর্তৃপক্ষ সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার দপ্তরের মন্ত্রী…
গঙ্গার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজার উচ্ছেদের আশঙ্কায় আশঙ্কিত-রাজ্যের হাজার হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ীরা
সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক : বন্দর কর্তৃপক্ষ সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার দপ্তরের মন্ত্রীকে স্মারকলিপি সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির, গঙ্গার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে রাজ্যের সর্ববৃহৎ কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজার উচ্ছেদের আশঙ্কায় আশঙ্কিত-রাজ্যের কয়েক হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ওই উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাতিল করে বাজারটিকে অত্যাধুনিক ফুলবাজার হিসাবে গড়ে তোলবার দাবী জানিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার দপ্তরের মন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজ্যব্যাপী ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ীদের অরাজনৈতিক সংগঠন 'সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতি'।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন,এশিয়ার বৃহত্তম ফুলবাজার হোল-কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজার। এই ফুলবাজারে রাজ্যের ফুলচাষ সংশ্লিষ্ট নদীয়া-পূর্ব মেদিনীপুর-পশ্চিম মেদিনীপুর-হাওড়া সহ সমস্ত জেলাগুলি থেকে প্রত্যহ হাজার হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী ফুল কেনা-বেচার কারণে আসেন। ফুলবাজার থেকে এ রাজ্যের ফুল দৈনিক দিল্লি-মুম্বাই-পাটনা-ভুবনেশ্বর সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রেন বা বিমানযোগে যায়। অন্যদিকে প্রতিদিন দিল্লী-ব্যাঙ্গালোর সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের নানা ধরনের ফুল এই ফুলবাজারে আসে। এমনকি থাইল্যান্ড সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও উন্নতমানের ফুল এই বাজারে বিক্রির জন্য আসে। প্রায় ১০০ বছর ধরে গঙ্গা পার্শ্ববর্তী এই বিশ্বমানের ফুলবাজারটি প্রত্যহ ভোর ৩ টা থেকে রাত্রি ১১ টা পর্যন্ত চলে। মাত্র ৩৪০০ বর্গমিটার জায়গার উপর বসা এই বাজারে রয়েছে ২৪৪ টি ছোট ছোট স্টল। স্টল বাদে বাকী জায়গায় প্রত্যহ হাজার হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী ফুল কেনাবেচা করে।
নারায়ণবাবু জানান,কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট (যা অধুনা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী পোর্ট নামে পরিচিত)'র ঐ নির্দিষ্ট জায়গাটি গত ২০০২ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হর্টিকালচার দপ্তরকে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেয়। সম্প্রতি বাগবাজার থেকে মিলিনিয়াম পার্ক পর্যন্ত গঙ্গার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে ওই বাজার সংলগ্ন গঙ্গার পাড় বন্দর কর্তৃপক্ষ শক্তপোক্তকরনের কাজ করছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে,ঐ প্রকল্পে ওই বাজারটি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্যের কয়েক হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী চরম সমস্যার সম্মুখীন হবে। শুধু তাই নয়,ফুলচাষ ও ফুলবিপণনের সাথে যুক্ত রাজ্যের কয়েক লক্ষাধিক পরিবার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কোটি কোটি টাকার এই ফুলের ব্যবসা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সমিতি আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির দাবী-ওই উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাতিল করে পুঁতিগন্ধময় এই বৃহত্তম ফুলবাজারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করে ওই স্থানে বন্দর কর্তৃপক্ষ সহ রাজ্য সরকারের হর্টিকালচার দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আধুনিক মানের ফুলবাজার নির্মাণের মধ্য দিয়েই গঙ্গার সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হোক।
No comments