হলদিয়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর, ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ার পথে শিল্পশহর।জনগণনা না হওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হলদিয়ার পুর নাগরিকরা। সেই কথা মাথায় রেখে পুরভোটের আগে হলদ…
হলদিয়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর, ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ার পথে শিল্পশহর।
জনগণনা না হওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হলদিয়ার পুর নাগরিকরা। সেই কথা মাথায় রেখে পুরভোটের আগে হলদিয়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনকে তিনি এই পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রশাসনের মতে, ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়লে হলদিয়া ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরি পুরসভায় উন্নীত হবে। তাতে রাজ্য ও কেন্দ্রের বরাদ্দ বাড়বে।
প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক তথা পুর প্রশাসক সুরভী সিংলা, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্যামল আদক এবং প্রাক্তন পুর পারিষদ সত্যব্রত দাস। পুরসভার উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী ওয়ার্ড বাড়ানোর কথা বলেন।
হলদিয়া পুর এলাকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৬৫ হাজার। ওয়েস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড রিফর্মস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনও পুরসভায় ২ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি জনসংখ্যা হলে সেটি ‘এ’ ক্যাটাগরি পুরসভা হিসেবে চিহ্নিত হয়। বর্তমানে হলদিয়া ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওয়ার্ড সংখ্যা ২৯টি। ২০১৭ সালে শেষ পুরভোটের আগে ওই ওয়ার্ড বিন্যাস হয়েছিল। তার আগে ২০১২ সালে ওয়ার্ড ছিল ২৬টি। এবার নভেম্বরে সম্ভাব্য পুরভোটের আগে ফের ওয়ার্ড বাড়তে চলেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ওয়ার্ড বাড়াতে হলে নতুন করে জনগণনা প্রয়োজন। বর্তমান ওয়ার্ড বিন্যাস ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে। নতুন জনগণনা হয়নি। সে জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় প্রশাসনকে জনগণনার নির্দেশ দিতে পারে। সেই ভিত্তিতেই নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে দেখা গিয়েছে, পুর এলাকায় ২০২১ সালের তুলনায় ২২ থেকে ২৪টি বুথ বেড়েছে। ২, ৭, ১৪, ১৫, ১৬, ২২ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বুথ সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। ভোটার সংখ্যা বাড়ায় বুথ বেড়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস হলে পুর পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশাবাদী হলদিয়াবাসী।
গত পাঁচ ই আগস্ট হলদিয়া পৌরসভা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে ওয়ার বাড়ানোর বিষয়ে। প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো পরামর্শ বা আপত্তি থাকলে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১৯-০৮-২০২৬ তারিখের মধ্যে জেলা পৌর নির্বাচন আধিকারিক ও জেলাশাসক, পূর্ব মেদিনীপুর-এর নিকট দাখিল করা যেতে পারে।
পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব
১) ১০, ১১, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ড অপরিবর্তিত থাকবে। ২) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১ নম্বর ওয়ার্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৩) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ২ নম্বর ওয়ার্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৪) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ৩ নম্বর ওয়ার্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৫) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ৪ নম্বর ওয়ার্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৬) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ৫ নম্বর ওয়ার্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং পুরাতন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত হরিপুর ও বিরঞ্চিবেড়িয়া মৌজা (বুথ নং ১২৫, ১২৫এ)-কে সেখান থেকে সরিয়ে নতুন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৭) পুরাতন ২ নম্বর ওয়ার্ড (নন্দরামপুর, বাসুলিয়া ও জগন্নাথপুর মৌজাভুক্ত) এবং পুরাতন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিরঞ্চিবেড়িয়া ও হরিপুর মৌজা নিয়ে নতুন ৬ নম্বর ওয়ার্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৮) ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ৭ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং পুরাতন ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সিজবেড়িয়া মৌজাটিকে (বুথ নং ১১১) সেখান থেকে সরিয়ে প্রস্তাবিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৯) পুরাতন ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পূর্ব শ্রীকৃষ্ণপুর ও ধানবেড়িয়া মৌজা এবং পুরাতন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিজবেড়িয়া মৌজা নিয়ে প্রস্তাবিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১০) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ৯ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১১) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১২ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১২) ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৩) ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৪) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৫) পুরাতন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর মৌজার একাংশ (বুথ নং ২৩২) অন্তর্ভুক্ত করে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৬) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৭) ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাম পরিবর্তন করে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৮) পুরাতন ওয়ার্ড নং ১৮-এর অন্তর্গত মনিচক মৌজা (বুথ নং ২১৩)-কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ভবানীপুর মৌজার (বুথ নং ২৩২) একাংশকে বাদ দিয়ে ওয়ার্ড নং ১৯-কে নতুনভাবে ওয়ার্ড নং ১৯ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৯) মনিচক মৌজা (বুথ নং ২১৩)-কে বাদ দিয়ে ওয়ার্ড নং ১৮-এর নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্ড নং ২০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০) ওয়ার্ড নং ২০-এর নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্ড নং ২১ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২১) ওয়ার্ড নং ২১-এর নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্ড নং ২২ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২২) ওয়ার্ড নং ২২-এর নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্ড নং ২৯ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২৩) ওয়ার্ড নং ২৯-এর নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্ড নং ৩০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

No comments