হলদিয়ার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে এলো সেফটি অর্গানাইজেশন (পেসো) টিমহলদিয়ার ন্যাপথা পাইপলাইন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের এলো পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সক্লোসিভ সেফটি অর্গানাইজেশন (পেসো) টিম। শুক্রবার ৩ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্…
হলদিয়ার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে এলো সেফটি অর্গানাইজেশন (পেসো) টিম
হলদিয়ার ন্যাপথা পাইপলাইন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের এলো পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সক্লোসিভ সেফটি অর্গানাইজেশন (পেসো) টিম। শুক্রবার ৩ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়েছে বিশেষজ্ঞ দল।প্রশাসনিকভাবে যে তদন্ত কমিটি তৈরি হয়েছে, তাদের সংগ্রহ করা সব তথ্য পেসোর-র হাতে তুলে দিয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। একইসঙ্গে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালও নিজস্ব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কারখানার আধিকারিক অতনু সান্যাল-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁরাও আলাদাভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট পোসোকে জমা দিয়েছেন। সূত্রে জানা যায়, ১৭ ঘণ্টা পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে প্রায় ১৫ টি দমকল ইঞ্জিনের সহযোগিতায়। একাধিক মানুষ কলিকাতা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কাণ্ডের ঘটনা ইতিমধ্যে দুজন মারা গেছেন। শুক্রবার ৩ রা জুলাই সারাদিন তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এখনও খোঁজ চলছে আগুনের উৎস কোথায়, কীভাবে লাগল বিধ্বংসী আগুন। দুই টিমের দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
এর মধ্যে ধন্দ তৈরি হয়েছে আগুনের কারণ নিয়ে। ওই একই জায়গা দিয়ে গিয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রোনাস ও আরও একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পাইপলাইন। তাই আগুনের চরিত্র বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্যাসের প্রকৃতি বুঝতে আগুনের নমুনা পরীক্ষা চলছে।
সেদিনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জন্য অতিদাহ্য ন্যাপথা নাকি বিউটেন গ্যাস দায়ী - তা নিয়েই চলছে তদন্ত। ন্যাপথার মতো বিউটেন গ্যাসও বাতাসের চেয়ে ভারী। তাই কোথাও লিক হলে তা উপরে না উঠে নিচের অংশে জমা হতে থাকে। ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রোনাসের পক্ষ থেকে ড্রোন উড়িয়ে পাইপলাইনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে তদন্তকারী দল। ওই এলাকায় মোট তিনটি পেট্রোরাসায়নিক সংস্থার পাইপলাইন রয়েছে।এখনও মৃদু গ্যাস লিক হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাই ২৪ ঘণ্টা জল দিয়ে পাইপ ঠান্ডা রাখা হচ্ছে। এলাকায় আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্যাম্প করে দুবেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা এখনও চলছে এলাকাবাসীদেরকে। নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে শিল্প উৎপাদন নিয়ে। পাইপলাইনের কাজ বন্ধ থাকায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেসব কারখানা এই পাইপলাইনের উপর নির্ভরশীল, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাদের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। পোসোর রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে আগুন লাগার আসল কারন কি এবং এর জন্য দায়ী কে। জানতে পারা গেছে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেফটি বিষয় নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশে হলদিয়ার বেশ কয়েকটি শিল্পাঞ্চলের আধিকারিকদের নিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রশাসনিক সভা হবে।
No comments