অসম্ভব ট্রেনের পেছনে দৌড়—আশিস কুমার পণ্ডা
এক কিশোর তার পরিবারের সঙ্গে ট্রেনে করে অন্য এক শহরে যাচ্ছিল। পথে ট্রেন কয়েক মিনিটের জন্য একটি স্টেশনে থামল। কৌতূহলী মনে সে নেমে প্ল্যাটফর্মে হাঁটাহাঁটি করতে লাগল। চারদিকে মানুষের ভিড়, চ…
অসম্ভব ট্রেনের পেছনে দৌড়—আশিস কুমার পণ্ডা
এক কিশোর তার পরিবারের সঙ্গে ট্রেনে করে অন্য এক শহরে যাচ্ছিল। পথে ট্রেন কয়েক মিনিটের জন্য একটি স্টেশনে থামল। কৌতূহলী মনে সে নেমে প্ল্যাটফর্মে হাঁটাহাঁটি করতে লাগল। চারদিকে মানুষের ভিড়, চায়ের দোকান, ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাক—সবকিছুই তাকে মুগ্ধ করছিল।
হঠাৎ ট্রেনের তীক্ষ্ণ হুইসেল বেজে উঠল। সে ঘুরে দেখল, ট্রেন চলতে শুরু করেছে। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। প্রথমে সে দ্রুত হাঁটতে লাগল। তারপর দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু ট্রেনও গতি বাড়াতে লাগলো। একবার সে হাত বাড়িয়ে দরজার হাতল ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যর্থ হলো। একবার সে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আবার উঠে দাঁড়াল। হাঁটুতে ব্যথা পেল। তবুও সে দৌড় থামাল না। সে আরও জোরে দৌড়াতে লাগল। প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথা এগিয়ে আসছে। আশেপাশের অনেকেই ধরে নিয়েছেন— এই ট্রেন ধরা এখন অসম্ভব।
কিন্তু সেই কিশোর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল—অসম্ভব মনে হলেও শেষ চেষ্টা সে চালিয়ে যাবে।
ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে এক অপরিচিত মহিলা পুরো ঘটনাটি লক্ষ্য করছিলেন। তিনি এগিয়ে এলেন। কিশোরটি ট্রেনের কাছাকাছি পৌঁছাতেই তিনি দ্রুত এগিয়ে এলেন। এক ঝটকায় তাকে শক্ত করে ধরে ট্রেনের ভেতরে টেনে নিলেন। কিশোরটি নিরাপদে ট্রেনে উঠে গেল।
জীবনের শিক্ষা
এই গল্পটি শুধু একটি ট্রেন ধরার গল্প নয়। এটি আমাদের স্বপ্ন, লক্ষ্য এবং জীবনের সুযোগগুলোর গল্প।
জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে। একটি পথ হলো থেমে যাওয়া, হাল ছেড়ে দেওয়া এবং মেনে নেওয়া যে “এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।” অন্য পথটি হলো সমস্ত ভয়, সন্দেহ এবং প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
বেশিরভাগ মানুষ প্রথম পথটি বেছে নেয়। কারণ হাল ছেড়ে দেওয়া সহজ।
কিন্তু যারা ইতিহাস গড়ে, তারা দ্বিতীয় পথের পথিক।
তারা জানে না সামনে কী আছে।
তারা জানে না সাফল্য আসবে কি না।
তারা শুধু জানে—চেষ্টা না করলে কখনও জানা যাবে না।
জীবনের এক অদ্ভুত নিয়ম হলো—
আমরা জানি না, শেষ মুহূর্তে জীবনের কোন দরজা খুলে যাবে।
আমরা জানি না, কোন মানুষটি আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন।
আমরা জানি না, কোন সুযোগটি আমাদের জীবনের গতিপথ বদলে দেবে।
কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—
জীবনের সবচেয়ে অসাধারণ গল্পগুলো জন্ম নেয় সেইসব মানুষদের হাত ধরে—
যারা অসম্ভবকে তাড়া করার সাহস রাখে।
যারা বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও আবার উঠে দাঁড়ায়।
যারা জানে সম্ভাবনা কম, তবুও চেষ্টা করে।
যারা ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করে না।
তাই স্বপ্ন দেখুন। চেষ্টা করুন। পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়ান। ক্লান্ত হয়ে পড়লেও থেমে যাবেন না। আর অসম্ভব বলে মনে হওয়া ট্রেনগুলোর পেছনে দৌড়াতে কখনও ভয় পাবেন না।
কারণ—
জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলো অনেক সময় সেই ট্রেনেই আসে, যেটিকে অন্য সবাই “অসম্ভব” বলে মনে করে।
আর মনে রাখবেন—
অসম্ভব ট্রেন ধরতে না পারার চেয়ে, তার পেছনে দৌড়ানোর সাহস না দেখানোই জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।

No comments