Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

তুমি না দেরিতে, না আগে — আশিস কুমার পণ্ডা

তুমি না দেরিতে, না আগে — আশিস কুমার পণ্ডা
জীবনে অসুখী হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো তুলনা।
তোমার সহপাঠী তোমার আগে চাকরি পেয়ে গেল। কোন বন্ধু বিয়ে করে ফেলল। তোমার চেয়ে কম বয়সী কেউ ম্যানেজার হয়ে গেল, ব্যবসা শুরু করল, বাড়ি কিনল, কিং…

 




তুমি না দেরিতে, না আগে — আশিস কুমার পণ্ডা


জীবনে অসুখী হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো তুলনা।


তোমার সহপাঠী তোমার আগে চাকরি পেয়ে গেল। কোন বন্ধু বিয়ে করে ফেলল। তোমার চেয়ে কম বয়সী কেউ ম্যানেজার হয়ে গেল, ব্যবসা শুরু করল, বাড়ি কিনল, কিংবা এমন মনে হলো যে জীবনের সবকিছুই সে গুছিয়ে ফেলেছে। আর তখন তুমি নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে ভাবো, “আমি কি পিছিয়ে পড়ছি?”


সত্যিটা হলো—জীবন কোন দৌড় নয়।


ধরো, দুই বন্ধু আছে। একজন নিউইয়র্কে থাকে, অন্যজন লস অ্যাঞ্জেলেসে। নিউইয়র্কে যখন সকাল ৯টা, তখন লস অ্যাঞ্জেলেসে সকাল ৬টা। তুমি কি বলবে যে লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষটি অলস বা পিছিয়ে আছে?


অবশ্যই না। তারা শুধু ভিন্ন সময় অঞ্চলে (Time Zone) বাস করছে।


জীবনও অনেকটা এমনই।


কেউ ২২ বছর বয়সে স্নাতক হয়ে চাকরি পেতে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করেন। কেউ ২৫ বছর বয়সে CEO হন, কিন্তু ৫০ বছরেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আবার কেউ ৫০ বছর বয়সে CEO হন এবং ৯০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ ও পরিপূর্ণ জীবন কাটান।


তাহলে কে এগিয়ে ছিলেন? আর কে পিছিয়ে?


প্রশ্নটাই অর্থহীন, কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবনের পথ আলাদা।


কিছু বাস্তব উদাহরণ দেখো—


মার্ক জাকারবার্গ ১৯ বছর বয়সে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন।

বারাক ওবামা ৪৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন।

কর্নেল স্যান্ডার্স ৬৫ বছর বয়সে KFC শুরু করেন।

জো বাইডেন ৭৮ বছর বয়সে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন।

ভিন্ন বয়স। ভিন্ন যাত্রা। কিন্তু, কে আগে? কে পরে? কেউই নয়। প্রত্যেকেই নিজের সময় অনুযায়ী এগিয়েছেন। যখন তাদের সময় এসেছে তখন তাদের সাফল্য এসেছে।


সমস্যা হলো, আমরা প্রায়ই নিজের তৃতীয় অধ্যায়কে অন্য কারও বিংশতম অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করি। আমরা তাদের সাফল্য দেখি, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনের সংগ্রাম, ব্যর্থতা, ত্যাগ এবং বছরের পর বছর প্রস্তুতির গল্প দেখি না।


এই তুলনাই অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। আমাদের মনে হয় জীবনে সফল হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি আছে—


নির্দিষ্ট বয়সে পড়াশোনা শেষ করতে হবে।

নির্দিষ্ট বয়সে চাকরি পেতে হবে।

নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে করতে হবে।

নির্দিষ্ট বয়সে সফল হতে হবে।

কিন্তু জীবন কোন একক ক্যালেন্ডার বা সবার জন্য একই সময়সূচি মেনে চলে না।


কেউ খুব তাড়াতাড়ি নিজের উদ্দেশ্য খুঁজে পান। কেউ অনেক পরে তা আবিষ্কার করেন। কেউ দ্রুত সাফল্য পান, কিন্তু তা ধরে রাখতে পারেন না। আবার কেউ ধীরে ধীরে এগোন, কিন্তু এমন কিছু গড়ে তোলেন যা দীর্ঘস্থায়ী হয়।


লক্ষ্য প্রথমে পৌঁছানো নয়। লক্ষ্য হলো প্রস্তুত হয়ে পৌঁছানো।


তাই “আমি কি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছি?”—এই প্রশ্ন করার বদলে নিজেকে জিজ্ঞেস করো—


আমি কি শিখছি?

আমি কি বেড়ে উঠছি?

আমি কি গতকালের চেয়ে আজ একটু ভালো মানুষ হচ্ছি?

আমি কি আমার লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছি?

এগুলিই আসল প্রশ্ন।


কারণ অগ্রগতি নির্ধারিত হয় না অন্যদের তুলনায় তুমি কত দ্রুত চলছ, তা দিয়ে। অগ্রগতি নির্ধারিত হয় তুমি আদৌ সামনে এগোচ্ছ কি না, তা দিয়ে।


তাই যদি কখনো মনে হয় জীবন তোমার প্রত্যাশার চেয়ে ধীরে চলছে, তাহলে হতাশ হয়ো না।


তোমার যাত্রা অনন্য।


তোমার চ্যালেঞ্জ অনন্য।


তোমার সময়ও অনন্য।


আর সেটাই স্বাভাবিক।


তাই নিজের জীবনকে অন্য কারও সময়রেখার সঙ্গে মাপা বন্ধ করো। তুমি পৃথিবীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছ না। তুমি নিজের গল্প লিখছ।


তুমি না দেরিতে।


তুমি না আগে।


তুমি এই মুহূর্তে ঠিক সেখানেই আছ, যেখানে তোমার থাকা দরকার।


শিখতে থাকো।


নিজেকে উন্নত করতে থাকো।


সামনে এগিয়ে যেতে থাকো।


আর বিশ্বাস রাখো—তোমার সময়ও আসবে।

No comments