প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে রাজবাড়ির রথযাত্রায় মদনগোপাল জিউ ও জগন্নাথদেব
আড়াইশো বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বৃহস্পতিবার মহিষাদল রাজবাড়ির রথযাত্রা মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে মদনগোপাল জিউ ও জগন্না…
প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে রাজবাড়ির রথযাত্রায় মদনগোপাল জিউ ও জগন্নাথদেব
আড়াইশো বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বৃহস্পতিবার মহিষাদল রাজবাড়ির রথযাত্রা মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে মদনগোপাল জিউ ও জগন্নাথদেবকে সকালে রথে চড়ানো হয়।রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ পালকিতে এসে রথ স্পর্শ করেন। এরপর রাজ পরিবারের সদস্য, বিধায়ক ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রথযাত্রার শুভ সূচনা হয়।
রথতলা থেকে গুন্ডিচাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথে লক্ষাধিক ভক্তের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কীর্তন, ঢাক-কাঁসরের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা মহিষাদল। ভিড় সামলাতে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক, পাশাপাশি ছিল বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা।
রথকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রথমেলা, যা প্রায় এক মাস চলবে। মেলায় নাগরদোলা, পাখির মেলা ও বিভিন্ন ধরনের দোকান বসেছে। রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ জানান, আগামী আট দিন ভোগ বিতরণ চলবে। তিনি রথ পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ২০১৭ সালে অগ্নিকাণ্ডের পর রথ সংস্কারে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।আজ তিনি যদি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে আমরা আরও আনন্দিত হতাম। তিনি ব্যস্ত মানুষ, আশা করি ভবিষ্যতে কোনো একদিন সময় করে এখানে আসবেন।”
মহিষাদলের ২৫০ বছরের প্রাচীন রথযাত্রার শুভারম্ভ হলো বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। সকালে মন্দির থেকে মদন গোপাল জিউ ও জগন্নাথ দেব রথের উদ্দেশ্যে যান। বিকেল ৩.৪৫ মিনিটে রথ টানা শুরু হবে। মহিষাদলের ১৩ চূড়ার রথ
আড়াইশো বছরের বেশি প্রাচীন । এক সময়ে এই কাঠের রথের চূড়া ছিলো ১৭ টি । পরে চূড়ার সংখ্যা কমে ১৩ টি চূড়া হয় মহিষাদল রথের । চাকার সংখ্যা ৩৪টি । ১৭৭৬ সালে মহিষাদল রাজ পরিবারের রানী জানকী এই রথের সূচনা করেন । পুরি, মাহেশের পরে স্থান রয়েছে মহিষাদলের এই প্রাচীন রথের । সেই রথ উৎসবকে ঘিরে উন্মাদনা শুরু হয়েছে মহিষাদলবাসীর মধ্যে ।
No comments