Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন ডেমুরিয়া রথযাত্রা

সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন ডেমুরিয়া রথযাত্রাদিঘার অদূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর–২ নম্বর  ব্লকের মৈতনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঐতিহ্যবাহী ডেমুরিয়া রথযাত্রায় জোর উন্মাদনা। সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই রথযাত্রায় দশ  দিনের মেলাকে…

 



সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন ডেমুরিয়া রথযাত্রা

দিঘার অদূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর–২ নম্বর  ব্লকের মৈতনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঐতিহ্যবাহী ডেমুরিয়া রথযাত্রায় জোর উন্মাদনা। সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই রথযাত্রায় দশ  দিনের মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসাহে মেতেছেন স্থানীয় বাসিন্দা-সহ বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীরা। এবারের রথযাত্রায় আরও আকর্ষণীয় ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা, পরিষেবা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মেলা কমিটির তরফে। এদিন ডেমুরিয়াতে রথের দড়ি টেনে রথযাত্রার সূচনা করেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। এদিন রথযাত্রা উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলার সূচনা করেন রামনগরের বিধায়ক ড: চন্দ্রশেখর মন্ডল। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রামনগর–২ ব্লকের বিডিও, রামনগর থানার ওসি সন্তু নস্কর,  অলোক চৌধুরী, সত্যেন পঞ্চাধ্যাই, সোমনাথ মান্না-সহ মেলা কমিটির বিশিষ্ট সদস্যরা।

ঐতিহাসিকভাবে ডেমুরিয়া রথযাত্রার গুরুত্ব খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে বর্তমান এগরা এলাকার বাসুদেবপুরের জমিদার রাজা লক্ষ্মীকান্ত রায়ের দান করা জমিতে জগন্নাথদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই সময় থেকেই রথযাত্রার সূচনা। কথিত আছে, মন্দিরে থাকা বিপুল ধনসম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কারের লোভে মারাঠা দস্যু বা বর্গীরা একাধিকবার আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণে প্রাচীন মন্দির ধ্বংস হলেও পরে একই স্থানে পুনর্নির্মাণ করা হয় বর্তমান মন্দির। তাই ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই রথযাত্রা বহন করে চলেছে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যও।

প্রতি বছর ১০ দিনব্যাপী এই মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এবছর গোটা মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি, খাবারের দোকানগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। 

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের নিরাপদে মেলা উপভোগের জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করেই ডেমুরিয়া জগন্নাথ মন্দিরে পূজার্চনা সম্পন্ন হয়। ফলে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি ঐতিহ্যের টানেই প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। কিন্তু এবারও একেবারেই তার ঠিক ব্যতিক্রম ঘটেনি। 

মেলা কমিটির আশা, দিঘা জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার পাশাপাশি এবছর ডেমুরিয়ার প্রাচীন রথযাত্রাও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। দিঘা ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীরা একই সঙ্গে রামনগরের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও মেলার সাক্ষী হতে পারবেন, যা পূর্ব মেদিনীপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

No comments