Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

আরামের ফাঁদ— আশিস কুমার পণ্ডা

আরামের ফাঁদ— আশিস কুমার পণ্ডা
একটি ইঁদুর একদিন চালভর্তি একটি বড় পাত্রে পড়ে গেল।প্রথমে সে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করল। চারদিকে শুধু খাবার আর খাবার। খাবার খুঁজতে হবে না, কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে না, কোন পরিশ্রমও করতে হবে না…

 




আরামের ফাঁদ— আশিস কুমার পণ্ডা


একটি ইঁদুর একদিন চালভর্তি একটি বড় পাত্রে পড়ে গেল।

প্রথমে সে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করল। চারদিকে শুধু খাবার আর খাবার। খাবার খুঁজতে হবে না, কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে না, কোন পরিশ্রমও করতে হবে না। তার জীবন হয়ে গেল খুব সহজ—খাও, ঘুমাও, আবার খাও।

পাত্রটির কোন ঢাকনা ছিল না। এক লাফ দিলেই সে বেরিয়ে যেতে পারত। কিন্তু সে উপরের দিকে তাকালই না। কেন তাকাবে? জীবন তো বেশ আরামদায়ক, নিশ্চিন্ত এবং প্রাচুর্যে ভরা ছিল।

দিন যেতে লাগল। প্রতিবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের স্তর একটু একটু করে নিচে নামতে লাগল, আর ইঁদুরটিও পাত্রের আরও গভীরে চলে যেতে লাগল। ফলে বেরিয়ে আসা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠল। যে কাজটি শুরুতে এক ছোট লাফেই সম্ভব ছিল, পরে তার জন্য অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হলো। যখন ইঁদুরটি তার বিপদের কথা বুঝতে পারল, তখন সে দুর্বল ও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত যখন সব চাল ফুরিয়ে গেল, তখন তার আর বেরিয়ে আসার মতো শক্তিও অবশিষ্ট রইল না।

আসলে পাত্রটি কখনোই তার আসল সমস্যা ছিল না। তার আসল সমস্যা ছিল আরাম।

এই ছোট্ট গল্পটি আমাদের জীবনের একটি বড় সত্য তুলে ধরে।

মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘আরামের ফাঁদ’। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে চাপ কম থাকে, সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হয়, আর ঝুঁকি অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হয়। আরাম আমাদের বোঝায়, “কিছু বদলাতে হবে না।” আমরা বড় সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিই, কঠিন কাজ এড়িয়ে যাই। যতক্ষণ জীবন চলছে, ততক্ষণ এগোনোর দরকারটা চোখে পড়ে না।

কিন্তু আরামের একটি গোপন মূল্য আছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। আপনি যত বেশি সময় সেখানে থাকবেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা তত বেশি কঠিন হবে। দক্ষতা কমতে থাকবে, সাহস ভোঁতা হয়ে যাবে এবং সুযোগগুলো একে একে হাতছাড়া হয়ে যাবে। আজ যা নিরাপদ মনে হচ্ছে, কাল সেটাই আপনার সীমাবদ্ধতায় পরিণত হবে।

জীবনের প্রতিটি বড় অর্জন আরামের ভেতর জন্মায় না। নতুন দক্ষতা শেখা, ব্যবসা শুরু করা, স্বপ্নের পেছনে ছোটা, কেরিয়ার বদলানো, ভালো অভ্যাস গড়া—সবকিছুর জন্যই কষ্ট আর অনিশ্চয়তা লাগে। খেলোয়াড় ট্রেনিং ছাড়া শক্ত হয় না। ছাত্র নিয়মিত পড়াশোনা ছাড়া পাশ করে না। দায়িত্ব না নিলে নেতা তৈরি হয় না। উন্নতি শুরু হয় ঠিক তখনই, যখন আমরা সুবিধার বদলে শেখাকে বেছে নিই।

মানুষের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো মনে করা যে পরে অনেক সময় পাওয়া যাবে। “পরে শুরু করব। পরে শিখব। পরে সুযোগ নেব। পরে স্বপ্ন পূরণ করব।” সমস্যা হলো, এই ‘পরে’টা কখনো কখনো বছর হয়ে যায়। যত দেরি হবে, বদল তত কঠিন হবে। আজ ছোট চেষ্টায় যা হতো, কাল সেটার জন্য অনেক বড় লড়াই লাগবে।

তাহলে কী করবেন?

১. বাধ্য হওয়ার আগে বেড়ে উঠুন। পরিস্থিতি ধাক্কা দেওয়ার আগেই নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন। হাতে সময় থাকতেই প্রস্তুত হন।

২. ছোট অস্বস্তিকে বন্ধু বানান। রোজ ২০ মিনিট নতুন কিছু শিখুন। একটা জরুরী ফোন করুন। একটা ‘না’ বলুন যা আপনাকে নিরাপদ রাখে কিন্তু আটকে রাখে।

৩. “আমি কেন বদলাব?”—এই প্রশ্নের বদলে জিজ্ঞাসা করুন, “না বদলালে কী হতে পারে?” এই একটা প্রশ্নই অনেক সময় জীবনের মুখ ঘুরিয়ে দেয়।

৪. সময় থাকতে লাফ দিন। দেওয়াল এখনো কম উঁচু। পা এখনো শক্ত আছে। অপেক্ষা করলে দেওয়াল উঁচু হবে, পা দুর্বল হবে।

শেষ কথা

আপনার ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শত্রু ব্যর্থতা নয়। সবচেয়ে বড় শত্রু হলো এত আরামে থাকা যে বড় হওয়াই বন্ধ হয়ে যায়। তাই, সুযোগ ছোট থাকতে পা বাড়ান। কারণ আরামের পাত্র একদিন খালি হবেই।

আজ গল্পটা বদলান। উঠে দাঁড়ান। আপনার ভবিষ্যতের সফল মানুষটি আজকের আপনার সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

No comments