অবশেষে বন্ধ হল কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজারে বেআইনি অর্থ আদায়সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক : অবিলম্বে নূতন পরিচালন সমিতি গঠন করে বাজারে জঞ্জাল পরিষ্কার সহ সমস্ত রকম পরিষেবা ব্যবস্থা চালুর দাবীতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার …
অবশেষে বন্ধ হল কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজারে বেআইনি অর্থ আদায়
সংবাদদাতা-নারায়ণ চন্দ্র নায়ক : অবিলম্বে নূতন পরিচালন সমিতি গঠন করে বাজারে জঞ্জাল পরিষ্কার সহ সমস্ত রকম পরিষেবা ব্যবস্থা চালুর দাবীতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার দপ্তরে স্মারকলিপি দেবে-সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতি।
অবশেষে বন্ধ হল কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজারে বেআইনি অর্থ আদায়। অবিলম্বে নূতন ফুলবাজার পরিচালন সমিতি গঠন করে বাজারে জঞ্জাল পরিষ্কার সহ সমস্ত রকম পরিষেবা যুক্ত ব্যবস্থা চালুর দাবীতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার দপ্তরে স্মারকলিপি দেবে-সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক তথা মল্লিকঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির সদস্য নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন,বৃহত্তম এই ফুলবাজারটি পরিচালনার জন্য পূর্বতন সরকারের আমলে গঠিত হয়েছিল 'মল্লিকঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতি'। ওই সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিদিন প্রতি ফুলচাষী ও ক্ষুদ্র ফুলব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০/-(কুড়ি) টাকা অর্থ আদায় করা হত। গত ৪ ঠা মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ৬ ই মে পরিচালন সমিতির সদস্য সহ কর্মচারীদের বের করে অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়। তারপর থেকে কয়েকদিন ওই টাকা আদায় বন্ধ থাকে। ফলস্বরূপ বাজারে প্রত্যহ জঞ্জাল পরিষ্কার এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি আমরা আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে রাজ্যের নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে ই.মেল মারফত ১১ মে,২০২৬ তারিখে স্মারকলিপি দিয়ে অবগত করি। তার পরদিনই নর্থ পোর্ট থানার পুলিশের উপস্থিতিতে ওই চাবির তালা ভেঙে সমিতির চাবির তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৫ মে থেকে ঐ বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ফুলবাজার পরিচালন সমিতির লোগো এবং পদাধিকারীদের স্বাক্ষর ছাড়াই ভুয়ো একটি কুপন ছাপিয়ে চাষীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় শুরু করে।
বিষয়টি নিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী ও হর্টিকালচার দপ্তরের প্রধান সচিবের নিকট স্মারকলিপি দিয়ে সুষ্ঠুভাবে বাজার পরিচালনার জন্য অতি সত্বর নতুন সমিতি গঠন করে জঞ্জাল পরিষ্কার ও দৈনন্দিন পরিষেবার বিষয়টি চালু সহ আপাততঃ বেআইনি অর্থ আদায় বন্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেই আবেদন জানানো হয়। ফলস্বরূপ গতকাল থেকে ওই বেআইনি অর্থ আদায় বন্ধ হলেও নতুন সমিতি গঠন করে জঞ্জাল পরিষ্কার সহ বাজারের সামগ্রিক পরিষেবার বিষয় নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেজন্য আগামীকাল আমরা সমিতির পক্ষ থেকে ফের মুখ্যমন্ত্রী সহ দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সাথে দেখা করে চিঠি দেব।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,হাওড়া ব্রীজ সংলগ্ন গঙ্গার পাড়ের ওই ফুলবাজারটি প্রত্যহ ভোর ৩ টে থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত বসে। ওই প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন রেলের খাদের এক কোণে মাত্র ৩৪০০ বর্গ মিটার জায়গার উপর বসা এই ফুলবাজারে হাওড়া,পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর,নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা প্রভৃতি জেলা থেকে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ হাজার ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী প্রত্যহ ফুল কেনাবেচার কারণে আসে। বাজারটি আয়তনে খুব ছোট হওয়ায় বহু ফুলচাষী বাজার সংলগ্ন স্ট্যান্ড ব্যাংক রোডের দুধারে বসে ফুল কেনাবেচা করতে বাধ্য হয়।

No comments