লোকে কী বলবে?: আশিস কুমার পণ্ডা
মেয়ে হয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছি? লোকে কী বলবে! চকমকে শাড়ি পরেছি? লোকে কী বলবে! ফুটবল খেলছি? লোকে কী বলবে! গাছে উঠছি? লোকে কী বলবে!
“লোকে কী বলবে” আসলে কী? : —
এটা এক ধরনের ভয়—একটা অদৃশ্য বাঁধন। দেওয়াল নে…
লোকে কী বলবে?: আশিস কুমার পণ্ডা
মেয়ে হয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছি? লোকে কী বলবে! চকমকে শাড়ি পরেছি? লোকে কী বলবে! ফুটবল খেলছি? লোকে কী বলবে! গাছে উঠছি? লোকে কী বলবে!
“লোকে কী বলবে” আসলে কী? : —
এটা এক ধরনের ভয়—একটা অদৃশ্য বাঁধন। দেওয়াল নেই, দরজা নেই, তবুও আমরা নিজেই নিজেকে আটকে রাখি।
লোক কারা?: —
এদের অনেকেই কাল্পনিক, নাম নেই, ঠিকানা নেই। হাতে গোনা কয়েকজন, যারা সুখে-দুঃখে তোমার পাশে নেই; এরা সবাই “লোক”। এদের অনেকেরই তোমাকে দেখার সময় বা আগ্রহ—কোনটাই নেই, তবুও সেই লোকদের আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।
লোকের আসল চেহারা: —
• লোকের কাজ বলা, দায় নেওয়া নয়।
• তুমি যা-ই করো—কেউ না কেউ কিছু বলবেই।
• আজ বলবে একরকম, কাল বলবে আরেকরকম।
• তাদের কথা ক্ষণস্থায়ী—কিন্তু সেই ভয়ে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের আফসোস দীর্ঘস্থায়ী।
লোকের ভয়ে আমরা কী হারাই? : —
আমরা নিজের ইচ্ছা হারাই, স্বপ্ন হারাই, শান্তি হারাই। শেষে মনে হয়—“এই জীবনটা তো আমার হওয়ার কথা ছিল না।”
তাহলে কী করবে? : —
• সবার কথা শোনার দরকার নেই—শুধু কাছের কয়েকজনের মতামতই যথেষ্ট।
• নিজেকে জিজ্ঞাসা কর—এটা ১০ দিন, ১০ মাস, ১০ বছর পরেও কি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে?
• ছোট ছোট করে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে শুরু কর।
• মনে রাখো—তুমি থেমে গেলে লোক জেতে, তুমি এগোলে গল্প বদলায়।
• ভিড় নয়—জীবনে দরকার কয়েকজন সত্যিকারের মানুষ, যারা পাশে থাকবে।
সবাইকে খুশি করা তোমার কাজ নয়: —
সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব নয়। তাই নিজের মতো করে বাঁচতে শিখো। নিজেকে খুশি করতে পারলে, সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
শেষ কথা: —
মোটরসাইকেল, শাড়ি, ফুটবল, গাছের ডাল—এসবের ওপর লোকের কোন অধিকার নেই। এগুলো তোমার পছন্দ, তোমার আনন্দ, তোমার জীবন। লোকের আছে শুধু কথা বলার ক্ষমতা, কিন্তু তোমার আছে বাঁচার অধিকার—একটা পুরো জীবন।
তোমার জীবনটা ভাড়া দেওয়া ঘর নয়, যেখানে অন্যরা নিয়ম বানাবে আর তুমি মেনে চলবে। এটা তোমার নিজের বাড়ি। এখানে কীভাবে থাকবে, কীভাবে বাঁচবে—সিদ্ধান্তটা তোমারই হওয়া উচিত।
তাই, “লোকে কী বলবে”—এই চিন্তাটাকে ধীরে ধীরে ছেড়ে দাও। অন্যদের দেওয়া সার্টিফিকেট নিয়ে তো অনেকদিন বেঁচেছ, এবার নিজের মতো করে বাঁচতে শেখো।
একবার ভেবে দেখো— যদি “লোকে কী ভাববে” সেটাও তুমি-ই ভেবে দাও, তাহলে লোকে ভাববে কখন? আর তারা যদি না-ই ভাবে, তাহলে তাদের ভয় পেয়ে নিজের স্বপ্ন থামানোর মানে কী?
আজ একটু নিজের জন্য বাঁচো। ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো পূরণ করো। নিজের পছন্দের পথে হাঁটা শুরু করো।
কারণ দিনের শেষে, তোমার জীবনের গল্পটা লোক লিখবে না—তুমি নিজেই লিখবে।

No comments