এই মুহূর্তে চাঞ্চল্যকর খবর, দু লক্ষে মহিলার এইটার মধ্যে এই ধরনের বিরল স্তন টিউমার দেখা যায়, সেই জটিল বিরল অপারেশন হল হলদিয়া মেডিকেল কলেজে ?হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন মহিলার স্তন থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার বের করল হলদিয়া মেডিকে…
এই মুহূর্তে চাঞ্চল্যকর খবর, দু লক্ষে মহিলার এইটার মধ্যে এই ধরনের বিরল স্তন টিউমার দেখা যায়, সেই জটিল বিরল অপারেশন হল হলদিয়া মেডিকেল কলেজে ?
হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন মহিলার স্তন থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার বের করল হলদিয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা কি জানালেন ওই ভাগ্যবান মহিলা। সূত্রে জানা যায় প্রায় ২৪ বছর আগে স্থানে বাসে একটি ছোট্ট টিউমার দেখা যায়, হেই টিউমার হঠাৎই ছমাস আগে বড় হয়ে যায়। বর্তমানে ওই মহিলার কুড়ি বছরের এক পুত্র সন্তানও রয়েছে।
স্বাস্থ্যসাথীতে জটিল অপারেশনের মাধ্যমে এক মহিলার প্রাণ বাঁচালেন হলদিয়া মেডিকেলের চিকিৎসকরা। ওই মহিলার বাম স্তনে প্রায় তিন কেজি ওজনের ফিলোড টিউমার অপারেশন করে বাদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিরল ধরনের ওই টিউমার অপারেশনের ক্ষেত্রে মহিলার প্রাণের ঝুঁকি ছিল। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের অপারেশনে প্রবল রক্তক্ষরণে প্রাণের ঝুঁকি থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ওই অপারেশন করে সাফল্য পেয়েছেন হলদিয়া মেডিকেল কলেজের অধীন হলদিয়া বিসি রায় হাসপাতালের দক্ষ চিকিৎসকদের টিম। সোমবার সন্ধেয় ওই জটিল অপারেশন করেন বিসি রায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চন্দনা থান্ডা নামে একচল্লিশ বছরের ওই মহিলা অপারেশনের পর সুস্থ রয়েছেন। তাঁর বাড়ি এগরা মহকুমার ভবানীচক এলাকায়।অপারেশনের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এত বড় অপারেশন ধকল যেভাবে সামলে উঠেছেন, তা সবাইকে বিস্মিত করেছে। তাঁকে মঙ্গলবার দুপুরে তরল খাবার দেওয়া হয়েছে। তিনি খাবার খেয়েছেন এবং বেডে উঠেও বসেছেন। চিকিৎসক সৌভিক পাত্রের নেতৃত্বে ওই অপারেশন হয়েছে। তাঁর সহযোগী ছিলেন চিকিৎসক সাগ্নিক ভট্টাচার্য। সৌভিকবাবু বলেন, এধরনের ফিলোড টিউমার ১০ লক্ষে এক দু'জনের হয়। সম্প্রতি স্তনে প্রবল যন্ত্রণা নিয়ে উনি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। বায়োপসি পরীক্ষা করে ফিলোড টিউমার ধরা পড়ে। এরপর ওনাকে এটি দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর পরিবার হলদিয়াতেই অপারেশন করার ব্যাপারে মনস্থির করেন। খুবই জটিল ধরনের অপারেশন এটি। তবে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় অপারেশন সফল হয়েছে এবং রোগী সুস্থ রয়েছেন। খুবই গরীব পরিবারের ওই মহিলা স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বেসরকারি ক্ষেত্রে এধরনের অপারেশনে ৭-৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়। মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা আশিস লাহিড়ি, সুদীপ্তন শেঠ বলেন, স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন ওই মহিলা। হলদিয়ার বিসি রায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা ইদানিং অনেকগুলি এধরনের জটিল অপারেশন হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী বড় ভূমিকা নিয়েছে। মহিলার পরিবারের লোকজন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও বিসি রায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য উনি প্রাণে বাঁচলেন। প্রায় ২০-২৪ বছর ধরে আস্তে আস্তে দানা বেঁধেছিল ওই টিউমার। গত ছ'মাসে টিউমার হঠাৎ বেড়ে যায়। বামদিকে ভারী হওয়ায় হাঁটাচলা অসুবিধা হচ্ছিল। এই বিরল জটিল অপারেশন করে আনন্দিত হয়েছেন হলদিয়া বিসি রায় হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স এবং কর্তৃপক্ষ।

No comments