জমি কনভার্সনে ভুয়ো এনওসি!আর্থিক অনিয়ম, সাসপেন্ড এইচডিএ কর্মী ভুয়ো এনওসি দিয়ে জমি কনভার্সন। তাও আবার রীতিমতো সরকারী সিল-স্ট্যাম্প ব্যবহার করে। কোটি টাকা ছাপিয়েছে প্রতারণার অঙ্ক। এহেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার শঙ্কর চক্রবর্তীকে…
জমি কনভার্সনে ভুয়ো এনওসি!আর্থিক অনিয়ম, সাসপেন্ড এইচডিএ কর্মী
ভুয়ো এনওসি দিয়ে জমি কনভার্সন। তাও আবার রীতিমতো সরকারী সিল-স্ট্যাম্প ব্যবহার করে। কোটি টাকা ছাপিয়েছে প্রতারণার অঙ্ক। এহেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার শঙ্কর চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড করেছেন হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এইচডিএ) চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও) বৈভব চৌধুরী। ওই কর্মী এইচডিএ বিল্ডিং লাগোয়া একটি ঘরে বসে কম্পিউটার, প্রিন্টারের সাহায্যে নকল এনওসি বানাতেন বলে অভিযোগ। জমির কনভার্সানের জন্য দেওয়া ভুয়ো এনওসিতে অফিসের সিল ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হত। এতে কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব খুইয়েছে এইচডিএ। বিষয়টি সামনে আসতেই হলদিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া এইচডিএ কর্মীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। এমনকি, তাঁকে মেসেজ করেও উত্তর পাওয়া মেলেনি।
শুক্রবার এইচডিএ'র চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর বলেন, আমাদের অফিসের কর্মী শঙ্কর চক্রবর্তী ভুয়ো এনওসি দিতেন। তাতে অফিসের সিল ব্যবহার করা হত। তিনি অফিসের বাইরে আলাদা একটি রুমে বসে এই কাজ করতেন। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এইচডিএ-র সিইও তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) বৈভব চৌধুরী বলেন, জমি কনভার্সনের দায়িত্ব ভূমি দপ্তরের। তবে তারজন্য এইচডিএ অফিস থেকে এনওসি নিয়ে আবেদনকারীকে তা ভূমি দপ্তরে জমা দিতে হয়। কিন্তু, এইচডিএ এর কর্মী শঙ্কর চক্রবর্তী তা নকলভাবে তৈরি করে দিতেন। সুতাহাটার কয়েকটি কনভার্সনের ঘটনায় আমরা বিষয়টি জানতে পারি। তারপর ওই কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত রুমটি বন্ধ করা হয়েছে। জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এনিয়ে থানায় এফআইআর করা হবে।
সাসপেন্ড হওয়া ওই কর্মী হলদিয়ায় থাকতেন। তিনি এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার আত্মীয় বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এইচডিএ অফিসের বাইরে একটি রুম ব্যক্তিগত কাজে তিনি ব্যবহার করতেন। অনেকের সন্দেহ হলেও এনিয়ে কখনও প্রশ্ন তোলেননি। সম্প্রতি ভূমিদপ্তরে এইচডিএ-র জমি কনভার্সনের বেশকিছু আবেদনের সঙ্গে দেওয়া এনওসি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ঘটনাচক্রে, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) এখন অস্থায়ী এইচডিএ-র সিইও। বিষয়টি তাঁরও সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শুরু হয় অনুসন্ধান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রচুর টাকার বিনিময়ে অফিসের সার্ভেয়ার নকল এনওসি বানাচ্ছেন। তবে কীসের জোরে বছরের পর বছর ধরে এই কারবার অভিযুক্ত চালাচ্ছিলেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
No comments