কপিলমুনির আশ্রমে মোক্ষলাভে সাগরে ১ কোটির পুণ্যস্নান
সাগরসংগমে তখন সবে ভোরের আলো ফুটছে। কনকনে ঠান্ডা। শীতল হাওয়ার দমক। চাদর, মাফলার, জ্যাকেটে নিজেদের মুড়ে নিয়েছেন পুণ্যার্থীরা। কী যেন এক অমোঘ টানে সাগরপানে ধেয়ে চলেছে জনস্রোত! ঠক…
কপিলমুনির আশ্রমে মোক্ষলাভে সাগরে ১ কোটির পুণ্যস্নান
সাগরসংগমে তখন সবে ভোরের আলো ফুটছে। কনকনে ঠান্ডা। শীতল হাওয়ার দমক। চাদর, মাফলার, জ্যাকেটে নিজেদের মুড়ে নিয়েছেন পুণ্যার্থীরা। কী যেন এক অমোঘ টানে সাগরপানে ধেয়ে চলেছে জনস্রোত! ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে জলে নেমে পড়ছেন একে একে। ডুব দেওয়ার পর শীতে কুঁকড়ে গেলেও তাঁদের চোখে-মুখে যেন এক প্রসন্নতা। পরিতৃপ্তির ছোঁয়া। মোক্ষলাভের আশায় পুণ্যের ডুব। তারপর এগিয়ে যাওয়া কপিল মুনির মন্দিরের দিকে। পুজো দিয়ে মিশে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের মেলায়। সকাল হতেই আরও স্পষ্ট হল, পুণ্যার্থীদের স্রোত কার্যত সুনামি হয়ে আছড়ে পড়েছে সাগরতটে। বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানালেন, জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে এদিন দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষ পুণ্যস্নান সেরেছেন। দিনের শেষে এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই কোটি ছাড়িয়ে যাবে। কারণ, এদিন পুণ্যস্নানের মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল দুপুর ১টা ১৯ মিনিট থেকে। ফলে বিকেল, সন্ধ্যায়ও যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ডুব দেবেন, বলাই বাহুল্য।
ভোররাত থেকে সাগরের ১, ১এ, ৪, ৫, ৬ নম্বর বিচে থিকথিকে ভিড়। সময় যত গড়িয়েছে, ভিড়ের চাপও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিচ থেকে মন্দির যাওয়ার সব রাস্তা দফায় দফায় বন্ধ রাখতে হয়। তা সত্ত্বেও পুজো দেওয়ার লাইন ২ নম্বর রাস্তা ধরে একেবারে বিচের কাছে চলে আসে। কেউ কেউ ভিড়ে ঠাসা লাইন থেকে বেরিয়ে আসতেও বাধ্য হন। পুণ্যার্থীদের ঢল সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশ-প্রশাসনকে। এদিন সন্ধ্যায় কচুবেড়িয়া লট এইটেও শুরু হয়ে যায় ঠেলাঠেলি। কারণ, মহিলা পুলিশ টিমের প্রায় ছ’টি স্কুটার পুণ্যার্থীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তবে কোথাও তেমন বড় কোনও বিপত্তি ঘটেনি।
এ বছর কুম্ভ না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় বাড়তি ভিড় হবে বলে আগে থেকেই অনুমান করা হয়েছিল। বুধবার বেলা বাড়তেই স্পষ্ট হয়ে যায়, অনুমান ভুল ছিল না। মেলা চত্বর ছাড়িয়ে সাগর বাসস্ট্যান্ড বা লট এইটের ভিড়ও সেই কথাই প্রমাণ করেছে। এই জনস্রোতের মধ্যে দু’-একজন অসুস্থও হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ, বৃহস্পতিবারও চলবে পুণ্যস্নানের পর্ব। ভিড়ের মধ্যে আত্মীয়- পরিজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে আকছার। মন্ত্রী জানান, মোট ৪,৮৮৩ জন নিজেদের লোকের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তার মধ্যে ৪,৮৬০ জনকেই খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভিড়ের সুযোগে সক্রিয় ছিল দুষ্কৃতীরাও। মোট ২৭২টি পকেটমারির অভিযোগ এসেছে। যার মধ্যে ২৬০টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত অভিযোগে ৭৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনের শেষে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে মেলায় মানুষের মুখে মুখে—এবারের ভিড় কি গতবারের রেকর্ডও ভেঙে দেবে?
No comments