১৮ তম বর্ষে পূর্ণিমা মডেল স্কুলের বাৎসরিক মিলন উৎসবপূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া শিল্প তালুকের প্রবেশপথে ১১৬ নং জাতীয় সড়কপথ সংলগ্ন কাপাসএড়্যা চৌমাথার মোড় সংলগ্ন বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের পাশেই শিশুশিক্ষার একটি জনপ্রিয় প্রতিষ…
১৮ তম বর্ষে পূর্ণিমা মডেল স্কুলের বাৎসরিক মিলন উৎসব
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া শিল্প তালুকের প্রবেশপথে ১১৬ নং জাতীয় সড়কপথ সংলগ্ন কাপাসএড়্যা চৌমাথার মোড় সংলগ্ন বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের পাশেই শিশুশিক্ষার একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান “পূর্ণিমা মডেল স্কুল”। ২০০৮ ইংরাজী শিক্ষাবর্ষ থেকে তার পথচলা শুরু করে এই বিদ্যালয় নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীভুক্ত পরিবারের সন্তানদের অপেক্ষাকৃত অনেক কম শুল্কে পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু করে আজ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত।
এই বিদ্যালয় থেকে পঠন পাঠন সম্পন্ন করে ছাত্র-ছাত্রীরা মহিষাদল ও হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত অনেকগুলি মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে মহাবিদ্যালয় ও রাজ্যের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরকম অজস্র উদাহরণ স্থাপনের গৌরব এই বিদ্যালয়ের জয়যাত্রার মুকুটে যুক্ত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান সর্বশ্রী মোহনলাল গুছাইত একজন মাঝারি আয়তনের নির্মাণ শিল্পদ্যোগী। ব্যক্তিজীবনে কঠোর জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক স্তরে পাঠগ্রহণ সম্পন্ন করে পেশাগত জীবনে আজ সফল শিল্পোদ্যোগী তিনি। আজীবন শিক্ষানুরাগী পিতৃদেব (বর্তমানে স্বর্গীয়) - এর অনুপ্রেরণায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করার অভিপ্রায় মুনাফা উপার্জন নয়, শিক্ষাব্যবস্থার বুনিয়াদকে শক্ত পোক্ত করার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন একমাত্র পাখির চোখ তাঁর।
তাঁর সুযোগ্যা সহধর্মিনী শ্রীমতী পহ্লবী গুছাইত এই বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং রয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী তথা সুশিক্ষিত সদস্য পরিচালকবৃন্দ।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত এবং রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী। ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আনা ও ছুটির পর বাড়ী পৌঁছে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক যান বাহন।
ঐতিহ্যের পরম্পরা বজায় রেখে বিগত ২৩ শে জানুয়ারী শুক্রবার থেকে ২৬ শে জানুয়ারী সোমবার পর্যন্ত চারদিন ব্যাপী বাৎসরিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ সারস্বত উৎসব মহাসমারোহে সম্পন্ন হয়ে গেল।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ জন কচিকাঁচা পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দসহ এলাকার সুধীজনদের উপস্থিতি ছিল অনেকটা আশাব্যঞ্জক।
বাৎসরিক অনুষ্ঠানের শেষ দিনে দেশের সাধারণতন্ত্র দিবসে কাপাসএড়্যা “আজাদ হিন্দ” অডিটোরিয়ামে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তৎসহ চেয়ারম্যান মহোদয় একটি অভূতপূর্ব আয়োজন করেছিলেন। তা হল এলাকার বেশ কিছু সংখ্যক উচ্চ বিদ্যালয় - দুটি মহাবিদ্যালয় এবং মহাত্মা গান্ধি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের বিদ্যাসাগর স্মারক সম্মান-২০২৬, বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি সহ উপদেষ্টা মন্ডলীকে শিক্ষারত্ন সম্মান-২০২৬, মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের স্মারক সম্মান-২০২৬, হারমোনিকা শিল্পী শ্রী চয়ন চক্রবর্তীকে সুরশ্রী সম্মান-২০২৬, হলদিয়া নিউজ সংবাদ সংস্থার কর্ণধার শ্রী দুর্গাপদ মিশ্রকে সাংবাদিক রত্ন-২০২৬ ইত্যাদির আয়োজন। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীবৃন্দকে স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অর্চনা মন্ডল মহোদয়া তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্বদের অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্মাননা প্রদান করেন।
No comments